শুধু বাংলা নয়, ডিজিপি নিয়োগ নিয়ে অন্য রাজ্যের সঙ্গেও সংঘাত কেন্দ্রের, তালিকায় উত্তরপ্রদেশ, তামিলনাড়ু
প্রতিদিন | ০৮ জানুয়ারি ২০২৬
স্টাফ রিপোর্টার: শুধু এ রাজ্য নয়, রাজ্য পুলিশের ডিজি নিয়োগ (DGP Appointment) নিয়ে বারবারই ইউপিএসসি এবং রাজ্য সরকারগুলির মধ্যে টানাপোড়েন বেধেছে। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের উল্লেখ করে সময়ে প্যানেল ও প্রস্তাব না পাঠানোর যুক্তি দিয়েছে ইউপিএসসি। এমন জটিলতায় রাজ্য সরকার শেষ পর্যন্ত অস্থায়ী ডিজি নিয়োগ পথে হেঁটেছে। রাজ্য-ইউপিএসসি সংঘাত এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে ‘ডবল ইঞ্জিন’ উত্তরপ্রদেশ সরকার নয়া আইন পাশ করে কেন্দ্রকে এড়িয়ে নিজেরাই ডিজি নিয়োগ করছে। বিজেপি শাসসিত রাজ্য যদি এমন উদাহরণ খাড়া করতে পারে, সে ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ সরকার দু’দফায় প্যানেল পাঠালেও কেন তা ইউপিএসসি গ্রহণ করছে না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনিক মহলেই।
ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (ইউপিএসসি) (UPSC) অল ইন্ডিয়া সার্ভিসেস (এআইএস) ব্রাঞ্চ চিঠি পাঠিয়ে জানিয়ে দিয়েছে, ডিজি নিয়োগ নিয়ে যে প্যানেল ও প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল এমপ্যানেলমেন্ট কমিটির কাছে, তা ফেরত পাঠানো হচ্ছে। চিঠিতে প্রকাশ সিং সংক্রান্ত মামলায় ২০১৮ সালে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ উল্লেখ করে মুখ্যসচিবকে জানানো হয়েছে, রাজ্যের ডিজিপির মেয়াদ শেষ হওয়ার অন্তত তিন মাস আগে পরবর্তী ডিজিপি বেছে নেওয়ার জন্য ইউপিএসসির কাছে প্রস্তাব পাঠাতে হয়। তা করা হয়নি বলেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউপিএসসি। একই সঙ্গে জট কাটাতে রাজ্যকে সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শ নেওয়ার জন্য দেশের অ্যাটর্নি জেনারেলের মতও উল্লেখ করা হয়েছে। প্রশাসনিক মহলের খবর, একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল তামিলনাড়ুর ক্ষেত্রেও। গত বছর এ নিয়ে তামিলনাড়ু সরকারের সঙ্গে ইউপিএসসির বিরোধ চরমে ওঠে। ইউপিএসসি যে তিনজনের প্যানেল চূড়ান্ত করেছিল, তা গ্রহণযোগ্য নয় বলে রাজ্য সরকার তা প্রত্যাখ্যান করে। কেন্দ্র ও ইউপিএসসি রাজ্যের স্বায়ত্তশাসন ক্ষুণ্ণ করে নিজেদের পছন্দের অফিসার চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ তোলে তামিলনাড়ু সরকার।
উত্তরপ্রদেশ সরকার আরও একধাপ এগিয়ে ইউপিএসসি-কে নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে কার্যত ব্রাত্য করে দিয়েছে। ‘ডিরেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ, উত্তরপ্রদেশ সিলেকশন অ্যান্ড অ্যাপয়েন্টমেন্ট রুলস, ২০২৪’ যোগী মন্ত্রিসভায় পাস হয়েছে। উত্তরপ্রদেশের নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ইউপিএসসি-তে তালিকা পাঠানোর প্রথা বাদ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা কমে গিয়েছে। যদিও কমিটিতে ইউপিএসসি-র একজন প্রতিনিধি থাকবেন, তবু নিয়ম করা হয়েছে ১৮৬১ সালের ইন্ডিয়ান পুলিশ অ্যাক্ট-এর ভিত্তিতে, আলাদা কোনও নতুন আইন গৃহীত হয়নি। পাঞ্জাব সরকারও দেরি করে পাঠিয়েছিল বলে প্যানেলে অনুমোদন দেয়নি ইউপিএসসি। অন্যদিকে পাঞ্জাব সরকার প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতার কথা উল্লেখ করে। সে ক্ষেত্রে রাজ্যে ডিজি নিয়োগ নিয়ে জল গড়ায় আদালতে। আইন পাস করে ইউপিএসসি-কে নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেওয়ার পদক্ষেপ নেয় পঞ্জাব সরকার। ডিজিপি নিয়োগে দেরির জন্য তেলেঙ্গানা এবং অন্ধ্রপ্রদেশ দুই রাজ্য সরকারের সঙ্গেও গোলমাল বেধেছে কেন্দ্রের।
এদিকে এই মাসের শেষেই বর্তমান ডিজির মেয়াদ শেষ হবে। সে ক্ষেত্রে দেশের অ্যাটর্নি জেনারেলের মত অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের ব্যাখ্যা মেলা কার্যত অসম্ভব বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল। নতুন প্যানেল ইউপিএসসির কাছে পাঠানোর ক্ষেত্রেও সেই দেরির কথাই তুলবে ইউপিএসসি। এমন অবস্থায় দেশের শীর্ষ আদালতের মতামত নেওয়ার পাশাপাশি অস্থায়ীভাবে ডিজি পদে নিয়োগের বিষয়টি নিয়েও চিন্তাভাবনা চলছে বলে খবর।