• ভিটেহারা হয়ে বাংলাদেশে পুশব্যাক আতঙ্ক! SIR-এ শুনানির নোটিস পেয়ে ‘আত্মঘাতী’ বৃদ্ধ
    প্রতিদিন | ০৮ জানুয়ারি ২০২৬
  • শংকরকুমার রায়, রায়গঞ্জ: ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) দ্বিতীয় পর্বে শুনানির নোটিস পেয়েছিলেন। তারপর থেকে ভিটাছাড়া হওয়ার আতঙ্ক তাড়া করে বেড়াচ্ছিল। ভয়ের চোটে কয়েকদিনে বাড়ি থেকে বেরচ্ছিলেন না রায়গঞ্জের বছর চৌষট্টির বাবলু পাল। বৃহস্পতিবার সকালে রায়গঞ্জের পালপাড়ায় নিজের বাড়ি থেকে মৃতদেহ উদ্ধার হল তাঁর। প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে, গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন তিনি। । মৃতের ঘর থেকে সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়েছে বলে পরিবারের দাবি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘর থেকে ওই বৃদ্ধের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের জন্য দেহটি রায়গঞ্জ মেডিক্যাল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। শুরু হয়েছে তদন্ত। বাবলু পালের মৃত্যুতে নির্বাচন কমিশনকে দায়ী করেছেন স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যাণী।

    পরিবার সূত্রে জানা যাচ্ছে, মৃত বাবলু পালের বয়স ৬৪ বছর। ভাঙরির পেশায় যুক্ত ছিলেন। পরিবারে স্ত্রী এবং একমাত্র কন্যাসন্তান রয়েছেন। কন্যার ২ ফেব্রুয়ারি থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়ার কথা। কিন্তু তার আগে পিতৃহারা হল সে। বাবলুবাবুর স্ত্রীর কথায়,” এসআইআরের (SIR in West Bengal) শুনানিতে ডাক পাওয়ার পর থেকে সবসময় টেনশন করছিল। ভোটার তালিকায় নাম না থাকার কথা ভেবে কয়েকদিন ধরে বাইরে কাজে যাচ্ছিলেন না। ভয় ছিল, যদি বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়। ভাবতেন, এই বুড়ো বয়সে ভিটেছাড়া হলে কোথায় যাবেন। আজ ভোর তিনটে-চারটে নাগাদ ঘুম থেকে উঠে গলায় দড়ি দিয়ে ঘরের মধ্যে আত্মহত্যা করেন। আমরা সকাল সাড়ে সাতটার সময় বুঝতে পারি।” মৃতের ভাইয়ের স্ত্রী প্রতিমা পাল বলেন, “শুনানির নোটিস হাতে পাওয়ার পর থেকেই ভোট নিয়ে চিন্তা করছিলেন। সবসময় বলছিলেন, বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিলে বউ আর মেয়ের কী হবে। তারপর আজ এই ঘটনা।”

    খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন রায়গঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যাণী। পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে মৃত্যুর জন্য নির্বাচন কমিশনকে দায়ী করে তিনি বলেন, “এসআইআরের (SIR in West Bengal) মাঝে অনেকে ভয়ে আত্মহত্যা করছেন। ভয়ংকর অবস্থা। বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেবে, এই আতঙ্কে একের পর এক প্রাণ শেষ হয়ে যাচ্ছে। কমিশন কী বলবে এবার।” বাবলু পালের মৃত্যু নিয়ে রায়গঞ্জের পুলিশ সুপার সোনোওয়ানে কুলদীপ সুরেশ জানিয়েছেন, “ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে না আসা পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ স্পষ্ট বলা সম্ভব নয়।”
  • Link to this news (প্রতিদিন)