অংশুপ্রতিম পাল, খড়গপুর: পুলিশের অভিযানের পরের দিন এক প্রৌঢ়ার মৃত্যু হয়। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে খড়গপুরে। পথে নেমে বিক্ষোভ স্থানীয় মানুষের।
জানা গিয়েছে, মৃত মহিলার নাম রাগিণী তান্ডি। তাঁর বয়স ৫৪ বছর। আর পুলিশের মারেই এই প্রৌঢ়ার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ। এই অভিযোগে বৃহস্পতিবার এলাকাজুড়ে ক্ষোভ তৈরি হয়। আর সেই ক্ষোভই বড় আকার ধারণ করে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে। খড়গপুর টাউন থানার ছোটো ট্যাংরা এলাকার, ওড়িয়া বস্তিতে স্থানীয় মানুষ টায়ার জ্বালিয়ে খড়গপুর মহকুমা হাসপাতালের কাছে পথ অবরোধ শুরু করে। জানা গিয়েছে, এই পথ অবরোধের জেরে খড়গপুর-কেশিয়াড়ি রাজ্য সড়ক কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে।
জানা গিয়েছে, এই এলাকায় রাজেশ রানা নামে এক ব্যাক্তির নির্মিয়মান বাড়ির ছাদ ঢালাইয়ের কাজ চলছিল বুধবার রাতে। বেআইনিভাবে ছাদ ঢালাইয়ের কাজ চলার অভিযোগ পেয়ে প্রথমে খড়গপুর টাউন থানার হিজলি ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তখন বাড়ির মালিক-সহ ওড়িয়া বস্তির বাসিন্দাদের সঙ্গে তাঁদের তুমুল বচসা হয়। পিছু হটতে হয় পুলিশকে। তারপরেই রাত ১০টা নাগাদ খড়গপুরের এসডিপিও ধীরাজ ঠাকুরের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ছাদ ঢালাইয়ের কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
অভিযোগ, এরপরেই তিনি পুলিশ বাহিনী নিয়ে গোটা বস্তিতে তান্ডব শুরু করে দেন। লাঠির ঘায়ে বেশ কয়েকজন জখম হয়েছেন। এর পাশাপাশি, পুলিশ বেশ কয়েকজনকে তুলে নিয়ে গিয়ে আটক করে বলেও অভিযোগ। আর সেই মারধরের জেরেই অসুস্থ এই প্রৌঢ়ার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে এলাকার বাসিন্দারা। আর প্রৌঢ়ার মৃত্যুর ঘটনায় উত্তেজনা তৈরী হয় গোটা এলাকায়। টায়ার জ্বালিয়ে খড়গপুর-কেশিয়াড়ি রাজ্য সড়ক অবরোধ শুরু হয়।
এদিকে, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান খড়গপুরের পুরপ্রধান কল্যাণী ঘোষ, প্রাক্তন পুরপ্রধান তথা মেদিনীপুর খড়গপুর উন্নয়ন পর্ষদের ভাইস চেয়ারম্যান প্রদীপ সরকার, প্রাক্তন পুরপ্রধান রবিশঙ্কর পান্ডে, তৃণমূল নেতা দেবাশিস চৌধুরী-সহ অন্যান্য নেতারা। তাঁরা ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলেন। অবরোধ তুলে নেওয়ার আবেদন করেন। কিন্তু, দোষী পুলিশ কর্মীদের শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ তুলবেন না বলে এলাকার মানুষ তৃণমূল নেতাদের জানিয়ে দেন।