প্রার্থীতালিকা চুরি করতেই ইডির অভিযান! প্রতীকের বাড়ি থেকে ফাইল হাতে বেরিয়ে ‘ন্যাস্টি’ শাহকে তোপ মমতার
প্রতিদিন | ০৮ জানুয়ারি ২০২৬
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: আই প্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈন, এবং আই প্যাকের অফিসে ইডি হানার (ED Raid at I-PAC Office) মূল উদ্দেশ্য তৃণমূলের যাবতীয় গোপন নথি হাতিয়ে নেওয়া। দলের প্রার্থী তালিকা চুরি করতেই প্রতীক জৈনের বাড়িতে হানা দিয়েছে ইডি। বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।
বৃহস্পতিবার সাতসকালে আই প্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং সেক্টর ফাইভে সংস্থার অফিসে হানা দেয় ইডি। সেই তল্লাশি অভিযান চলাকালীনই লাউডন স্ট্রিটে প্রতীকের বাড়িতে যান মুখ্যমন্ত্রী। সঙ্গে ছিলেন নগরপাল মনোজ ভার্মা। কিছুক্ষণ পরেই মুখ্যমন্ত্রীকে বেরিয়ে আসতে দেখা যায়। তাৎপর্যপূর্ণভাবে আই প্যাক কর্ণধারের বাড়িতে ঢোকার সময় মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন খালি হাতে। ফেরার সময় তাঁর হাতে কিছু ফাইল, হার্ড ডিস্ক এবং একটি ল্যাপটপ দেখা যায়।
প্রতীকের বাড়ি থেকে বেরিয়েই বিস্ফোরক অভিযোগ করেন মমতা। তৃণমূল নেত্রী দাবি করেন, তৃণমূলের গোপন তথ্য এবং প্রার্থী তালিকা চুরি করতেই ইডি অভিযান করিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। মমতা বলেন, “এই অভিযান দুর্ভাগ্যজনক। আমার আইটি দপ্তরে অভিযান চালিয়েছে। দলের সব গোপন নথি এবং প্রার্থী তালিকা চুরি করতে ইডিকে দিয়ে হামলা করেছেন ন্যাস্টি হোম মিনিস্টার। নটি হোম মিনিস্টার।” মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দিয়েছেন, প্রতীকের কাছ থেকে দলের কিছু ফাইল এবং হার্ড ডিস্ক নিয়ে যাচ্ছেন। তৃণমূল নেত্রীর সাফ কথা, “এগুলি আমার দলের। আমি নিয়ে যাচ্ছি।” মমতার তোপ, “রাজ্যের কোটি কোটি মানুষের নাম বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। কোনও নথি ছাড়া ভোটারদের সন্দেহ করা হচ্ছে। দেশটাকে রক্ষা করতে পারে না। খালি ষড়যন্ত্র করছে।” মমতার প্রশ্ন, “আমার দলের গোপন তথ্য জানার জন্য আই প্যাক অফিসে হানা। আমি যদি বিজেপি অফিসে হানা দিই।”
যেভাবে মুখ্যমন্ত্রী এদিন প্রতীকের বাড়িতে তল্লাশি চলাকালীন উপস্থিত হলেন, সেই ঘটনার সঙ্গে পাঁচ বছর আগে তথকালীন পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারের বাড়িতে তল্লাশির মিল পেয়েছেন। যদিও এক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রী ধরনার পথে হাঁটেননি। দলের নথি নিয়ে বেরিয়ে যান। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, “মুখ্যমন্ত্রী আসলে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার কাজে বাধা দিয়েছেন। এটা অনৈতিক, অসাংবিধানিক। ইডির উচিত সংবিধান মেনে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া। সেটা না হলে রাজ্যে ভুল বার্তা যাবে।” শুভেন্দুর বক্তব্য, আই প্যাক একটি কর্পোরেট সংস্থা। কোনও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান নয়। ফলে সেখানে নিয়ম মেনে তদন্ত চলতেই পারে।