বদলাচ্ছে বাংলা ভাষা? ‘সহজ পাঠ’-এর শব্দবাজিতে মাতল খুদে পড়ুয়ারা
প্রতিদিন | ০৮ জানুয়ারি ২০২৬
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ৮ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে অনুষ্ঠিত হল সংবাদ প্রতিদিন আয়োজিত ‘সহজ পাঠ ২০২৬’। নিবেদনে জেআইএস গ্রুপ। কলকাতার ৫০টি স্কুল এই অনুষ্ঠানে অংশ নেয়। চার দেওয়ালের বাইরে জীবনের পাঠ দিতে অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছিলেন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা। নিতান্ত কর্মশালা নয়, বরং শিক্ষার শাসনে এ এক খোলা ছুটির হাওয়া। বিজ্ঞান থেকে এআই, সমাজবিদ্যা থেকে শিল্পচর্চা— সব মিলিয়ে এক মুক্তাঙ্গন। ‘সহজ পাঠ’-এর তৃতীয় বর্ষের এই আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ ‘ফেলুদার ৬০ বছর’।
বিশিষ্ট অভিনেতা টোটা রায়চোধুরী অনুষ্ঠানটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এরপর শুরু হয় মূল পর্ব। বিজ্ঞানী দেবীপ্রসাদ দুয়ারী থেকে ‘টিউটোপিয়া’খ্যাত সুব্রুত রায় প্রত্যেকেই পড়ুয়াদেরকে শেখান জীবনের সহজ পাঠ। গুরু গম্ভীর আলোচনা নয়, জীবনের গল্প যা দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা জোটে। বিশিষ্টজনেরা বক্তব্য শেষ করার পর শুরু হয় বাংলা শুব্দে মগজের শান।
শেষ পর্বের বিশেষ আকর্ষণ ছাত্রছাত্রীদের জন্য ‘শব্দবাজি’। এমন অনেক পড়ুয়া রয়েছে যারা বাংলা পড়তে ও লিখতে ভয় পায়। বাংলা ভাষা নিয়ে তাদের সেই অহেতুক ভয় দূর করতেই এই বিশেষ প্রয়াস। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন আরজে রয়। শিক্ষার্থীদের মধ্যে তুমুল আগ্রহ দেখা যায় শব্দবাজির এই খেলা নিয়ে। খেলাটি কয়েকটি পর্বে ভাগ করা ছিল। প্রথম পর্বে ছিল লোপাট খেলা। এই খেলায় শব্দের মূল বর্ণ অক্ষত রেখে চিহ্নগুলিকে লোপাট করে দেওয়া হয়। আরজে রয় পড়ুয়াদের উদ্দেশে ছুড়ে দেন একের পর এক শুব্দ। শিক্ষার্থীরা তা বুদ্ধি দিয়ে খুঁজে বের করে আনে। দ্বিতীয় পর্বের নাম ‘বর্ণচোরা’। আগেরটার ঠিক উলটো। শব্দের চিহ্ন থাকলেও এখানে বর্ণ উহ্য। যদিও খুঁজে খুঁজে শুব্দের সঠিক উৎস ঠিকই বের করে নেয় পড়ুয়ারা। তৃতীয় পর্বে ‘খাবলি’। এটি নিছক শব্দের শূন্যস্থান পূরণ মনে হলেও খুবই চ্যালেঞ্জিং একটি খেলা।
অনুষ্ঠানের এক পর্বে আলোচনা চলে বাংলা ভাষার প্রবাহমানতা নিয়ে। সাহিত্য সম্রাট শ্রী বঙ্কিমচন্দ্র চট্টপাধ্যায় যে ভাষায় সাহিত্য রচনা করেছিলেন তা আজকের দিনে কতটা প্রাসুঙ্গিক? বাংলা কথ্য ভাষা ও লিখিত ভাষা চিরকালই একে অপরের থেকে আলাদা। সেই ভাষা কিন্তু যেকোনও যুগে কাছাকাছি অবস্থান করেছে। অথচ আজকের বাংলা ভাষার যে বৈচিত্র তা অনেকটা মিক্সড চাউমিনের মতন। এমনটাই মনে করেন আরজে রয়। উদাহরণ টেনে তিনি এই প্রবাহমানতা প্রমাণ করে দেখান।
শব্দবাজির শেষ পর্বে ছিল যুক্তাক্ষরী খেলা। এই পর্বেও বেশ মজা করে খেলায় অংশ নেয় আগত সকল পড়ুয়া। আসলে সহজ করে বাংলা শেখা ও জানার এক বিশেষ পর্ব ‘শব্দবাজি’। অনুষ্ঠানের শেষ অংশে এমন মজার একটি বিভাগ শুধু ছাত্রছাত্রীদের নয়, এমনকী উপস্থিত অভিভাবকদেরকেও বেশ উৎসাহ জুগিয়েছে।