আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈন ও সল্টলেকে I-PAC-এর অফিসে ইডি তল্লাশিকে কেন্দ্র করে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার এই তল্লাশিকে BJP-এর ‘ভোটের স্ট্র্যাটেজি’ চুরির অংশ বলে আক্রমণ শানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ বার এরই প্রতিবাদে শুক্রবার কলকাতায় প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তাঁর নির্দেশেই বৃহস্পতিবার বিকেল থেকেই জেলায় জেলায় চলছে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ।
জানা গিয়েছে, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট-এর তল্লাশি অভিযানের প্রতিবাদে শুক্রবার দুপুর দু’টোয় যাদবপুর ৮বি বাসস্ট্যান্ড থেকে শুরু হবে তৃণমূল কংগ্রেসের মিছিল। নেতৃত্বে থাকবেন মমতা। মিছিল শেষ হবে হাজরা মোড়ে। তৃণমূলনেত্রীর মতে,‘বিজেপির ডাকাতির বিরুদ্ধে, লুটের বিরুদ্ধে এই লড়াই।’
বৃহস্পতিবার সকালেই কলকাতা-সহ পশ্চিমবঙ্গের ছ'টি জায়গায় এবং দিল্লির চারটি জায়গায় অভিযান শুরু করে ইডি। সেই তালিকায় ছিল লাউডন স্ট্রিটে প্রতীক জৈনের বাড়ি ও সল্টলেক সেক্টর-৫-এ, I-PAC-এর অফিসও। সেই তল্লাশির খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছন কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা। তার মিনিট পাঁচেকের মধ্যেই যান মুখ্যমন্ত্রী। পরে সল্টলেক সেক্টর-৫-এ, I-PAC-এর অফিসেও যান তিনি। সেখান থেকে বেরিয়েই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিশানা করে তোপ দাগেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর নাম করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ‘নিয়ন্ত্রণ’ করার কথা বলেন। মমতা বলেন, ‘এটা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাজ। দলীয় প্রার্থীদের তথ্য সংগ্রহ করতে এই তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এটা গণতন্ত্রে হতে পারে না। এজেন্সি লাগিয়ে আমাদের কাগজ লুট করছে। কৌশল লুট করছে। ডেটা, ভোটার, বাংলা লুট করছে। পার্টি অফিসে ঢুকে এটা করা যায় না। আমরা যদি BJP-র অফিসে তল্লাশি চালাই?’
এর পরেই বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে প্রতিটি ব্লক ও ওয়ার্ডে মিছিলের ডাক দেন তৃণমূল নেত্রী। সেই মতোই এ দিন জেলায় জেলায় শুরু হয়ে যায় প্রতিবাদ মিছিল। বর্ধমানের কার্জন গেটের জি টি রোডে পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান তৃণমূল কর্মীরা। মেদিনীপুর শহর ও গ্রামীণ এলাকা, নন্দীগ্রাম-সহ হুগলির পান্ডুয়া থেকে চুঁচুড়া সর্বত্রই জোড়াফুলের বিক্ষোভের ছবি নজরে আসছে।