শখ নিত্যনতুন বাইক চালানো। আর সেই ‘শখ’ পূরণ করতেই অভিনব কায়দায় একের পর এক বাইক চুরি করেছে বছর বাইশের যুবক। দিনকয়েক আগে ঘটে যাওয়া একটি বাইক চুরির তদন্তে নেমে কার্যত ‘হতবাক’ পুলিশ! ঘটনাটি পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুর থানা এলাকার। ধৃত বাইক চোরের নাম সুশান্ত মাল ওরফে বুলেট। বাড়ি গোয়ালতোড় থানার জিরাপাড়া এলাকায়। বুলেটকে গ্রেপ্তার করে ইতিমধ্যেই নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে কেশপুর থানার পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দিনকয়েক আগে কেশপুর থানা এলাকায় একটি অত্যাধুনিক ও দামি বাইক চুরি হয়। থানায় অভিযোগ দায়ের করেন স্থানীয় এক যুবক। সেই ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা শুরু করে। অভিযোগকারীর সঙ্গেও কথা বলে। অভিযোগকারী তাঁর সঙ্গে সম্প্রতি বন্ধুত্ব পাতানো এক যুবকের প্রতি সন্দেহের কথা পুলিশকে জানান। এর পরেই সিসিটিভি ফুটেজ দেখে বছর বাইশের ওই যুবককে ‘টার্গেট’ করে পুলিশ।
গত ২ জানুয়ারি, সুশান্ত মাল ওরফে বুলেট নামে ওই যুবককে পাকড়াও করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করতেই কার্যত 'হতভম্ব' হয়ে যান তদন্তকারীরা। তদন্তে নেমে তার কাছ থেকে একটি দামি বাইকও উদ্ধার করে পুলিশ। বুলেটকে মেদিনীপুর জেলা আদালতে পেশ করে দু'দফায় মোট ৭ দিনের জন্য নিজেদের পুলিশ হেফাজতে নেয় কেশপুর থানা।
এই ঘটনার তদন্তকারী অফিসার বলেন, ‘ধৃত সুশান্ত মাল ওরফে বুলেট নামে ওই যুবকের ‘শখ’ হলো নিত্যনতুন বাইক চালানো। আর এই শখ পূরণ করতেই বিভিন্ন যুবকদের টার্গেট করত সে। বাইকের মালিকের সঙ্গে প্রথমে বন্ধুত্ব পাতিয়ে নিত। এক জায়গায় মদ্যপানের আসরে তিনি বেসামাল হলেই সুকৌশলে বাইকের চাবি হাতিয়ে, বাইক নিয়ে নিমেষের মধ্যে হাওয়া হয়ে যেত বুলেট।’
সদ্য চুরি যাওয়া বাইকটিও বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা নাগাদ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। জেলা পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, ‘ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ইতিমধ্যেই দু’টি বাইক উদ্ধার করা হয়েছে। আরও একাধিক বাইক উদ্ধার করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।’ নিজের শখ পূরণ হয়ে যাওয়ার পরে বেশ কিছু বাইক ইতিমধ্যেই ধৃত যুবক বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করে দিয়েছে বলেও অনুমান পুলিশের।