• এসআইআর শুনানিতে হাজিরা নিয়ে নয়া নির্দেশিকা কমিশনের
    আজকাল | ০৯ জানুয়ারি ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: এসআইআরের শুনানি নিয়ে নয়া নির্দেশিকা জারি করল নির্বাচন কমিশন। কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, রাজ্যের বাইরে থাকলে যেতে হবে না এসআইআরের হিয়ারিংয়ে।

    তবে এই ছাড় সকলের জন্য নয়। কমিশনের তরফে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সরকারি কর্মী, সামরিক ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য এবং রাষ্ট্রায়ত্ত্ব সংস্থায় কর্মরত কর্মচারীরা যদি কর্মসূত্রে রাজ্যের বাইরে পোস্টিংয়ে থাকেন তবে তাঁদের ক্ষেত্রে এই বিশেষ ছাড়ের কথা জানানো হয়েছে।

    এর পাশাপাশি আরও এক নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, পড়াশোনা, চিকিৎসা অথবা বেসরকারি কাজের জন্য কর্মসূত্রে যারা সাময়িকভাবে রাজ্যের বাইরে রয়েছেন সেই সমস্ত ভোটারদেরও ব্যক্তিগতভাবে এসআইআর শুনানিতে হাজির হতে হবে না।

    নির্দেশিকা অনুযায়ী, এই সমস্ত ভোটারদের পরিবারের কোনও একজন সদস্য তাঁর পরিবর্তে শুনানিতে উপস্থিত থাকতে পারবেন। তবে সেক্ষেত্রে ওই ভোটারের সঙ্গে তাঁর কী সম্পর্ক রয়েছে তার একটি পরিবারিক সম্পর্কের প্রমাণপত্র জমা দিতে হবে কমিশনের কাছে।

    পাশাপাশি, নির্ধারিত তালিকা অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য ১৩টি নথির মধ্যে যেকোনও একটি নথি জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। এই দুটি নথি সঙ্গে থাকলেই আর কোনও অসুবিধা হওয়ার কথা নয় বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

    জানানো হয়েছে, এই ক্ষেত্রে যে সমস্ত প্রক্রিয়া ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হওয়া ভোটারদের জন্য অনুসরণ করা হয়, সেই একই পদ্ধতি পরিবার-প্রতিনিধির উপস্থিতির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে বলে জানানো হয়েছে।

    এই নির্দেশ অবিলম্বে কার্যকর করার জন্য সমস্ত ইআরও এবং মাইক্রো অবজারভারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে নির্বাচন কমিশনের তরফে। প্রসঙ্গত, এর আগে কমিশন আরও একটি  বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জানায়, ৮৫ বছর বা তার উপরে বয়স হলে, বিশেষ ভাবে সক্ষম, অসুস্থ, অন্তঃসত্ত্বা ক্ষেত্রে বাড়ি গিয়ে তথ্য যাচাই করা হবে।

    সমস্ত জেলাশাসককে এই মর্মে চিঠি পাঠানো হয়। সেই চিঠিতেই জানানো হয়, ৮৫ বছর বা তার উপরে বয়স্ক ব্যক্তি, বিশেষ ভাবে সক্ষম, অসুস্থ ব্যক্তিদের শুনানিতে ডাকতে হবে না।

    যদি তাঁদের নোটিস পাঠানো হয়ে থাকে, তা হলে ফোনে তাঁদের শুনানিতে উপস্থিত হতে হবে না বলে জানিয়ে দিতে হবে। সেক্ষেত্রে তাঁদের বাড়িতে গিয়েই তথ্য যাচাই করা যেতে পারে।

    কমিশনের এই বিজ্ঞপ্তির পরেই টুইট করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি। নিজের এক্স হ্যান্ডলে তিনি লেখেন, “তৃণমূল ধারাবাহিকভাবে জনগণের উদ্বেগ নিরসনের কাজ করছে। আমাদের প্রতিনিধিদল পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে এই বিষয়টি উত্থাপন করেছে এবং আমরা আনন্দিত যে পরবর্তীতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।”




    তিনি ওই পোস্টেই আরও লিখেছেন, “আমরা বিনীতভাবে অনুরোধ করছি যে, প্রবীণ নাগরিকদের, বিশেষ করে ৬০ বছরের বেশি বয়সি এবং যারা কোনও শারীরিক অসুস্থতা বা কো-মর্বিডিটিতে ভুগছেন, তাদের বিষয়গুলিও মানবিকতার খাতিরে বিবেচনা করা হোক। আমরা আশা করি, এই ধরনের ব্যক্তিদের শুনানির জন্য ডাকা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে, যাতে কোনও অপ্রয়োজনীয় দুর্ভোগ এড়ানো যায়। মানবতাই সর্বদা আমাদের নীতি হওয়া উচিত।”

    কমিশনের এই নির্দেশের আগে বিএলএ–২-দের সঙ্গে বৈঠকে অভিষেক ব্যানার্জি ঘোষণা করেছিলেন যে, এসআইআর শুনানিতে বয়স্কদের হেনস্তার প্রতিবাদে সোমবার সকালে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরে যাবে তৃণমূলের প্রতিনিধি দল।

    সেই ঘোষণা অনুযায়ী, গত সোমবার প্রতিনিধি দলের সদস্যরা সিইও মনোজ আগরওয়ালের সঙ্গে দেখা করে তিন দফা দাবি পেশ করেন। দলে ছিলেন, পার্থ ভৌমিক, শশী পাঁজা, বাপী হালদার, পুলক রায় এবং বীরবাহা হাঁসদা।

    যে তিন দফা দাবি তৃণমূলের প্রতিনিধ দল পেশ করেছিল সেগুলি হল-

    ১. ‘যৌক্তিক অসঙ্গতি’ তকমা দিয়ে চিহ্নিত ভোটারদের সম্পূর্ণ তালিকাটি অবিলম্বে প্রকাশ করতে হবে, যেখানে বিধানসভা কেন্দ্রভিত্তিক এবং বিভাগভিত্তিক সুস্পষ্ট বিভাজন থাকবে।

    ২. এই বিভাগটি তৈরি করার জন্য ব্যবহৃত মানদণ্ড, পদ্ধতি এবং আইনি কর্তৃত্ব অবিলম্বে জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে।

    ৩. ৮৫ বছরের বেশি বয়সী প্রবীণ নাগরিক এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য, এসআইআর-এর অধীনে সমস্ত নথি যাচাই, শুনানি এবং অন্যান্য কাজ তাঁদের বাড়িতেই সম্পন্ন করতে হবে।

    এই তিন নম্বর দাবি নিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে কমিশন। 
  • Link to this news (আজকাল)