আজকাল ওয়েবডেস্ক: কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করল তৃণমূল কংগ্রেস। এমনকী, মামলায় যুক্ত করা হয়েছে রাজ্য সরকারের পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাককেও।
শুক্রবার সকাল সাড়ে দশটায় এই মামলার শুনানি হবে বলে জানা গিয়েছে। বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ মামলা শুনবেন।
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার সকালে আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়ি ও সল্টলেকের দপ্তরে হানা দেয় ইডি। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তরফে জানানো হয়, কয়লা পাচার মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে এই অভিযান। খবর পেয়েই প্রতীক জৈনের বাড়ি পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি।
মুখ্যমন্ত্রী পৌঁছানোর মিনিট পাঁচেক আগেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে গিয়েছিলেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মাও। এই ঘটনায় সরব হন মুখ্যমন্ত্রী।
আইপ্যাক কর্ণধারের বাড়িতে প্রায় তিন মিনিট থেকে বেরিয়ে আসেন তিনি। এরপরই মমতা ব্যানার্জি বলেন, ‘তৃণমূলের আইটি সেলের দপ্তরে তল্লাশি চালাচ্ছে। অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক পদক্ষেপ। নির্বাচনের আগে আমাদের সব তথ্য নিতে চাইছে ইডি। ওরা আমার দলের সমস্ত নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করছিল। আমি সেগুলো নিয়ে এসেছি। এটা কি ইডি-র কাজ?’
এরপরই হুঁশিয়ারির সুরে তিনি বলেন, ‘আমরা যদি বিজেপির দলীয় দপ্তরে অভিযান চালাই, তাহলে কী হবে?’ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-কেও আক্রমণ করেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী।
ক্ষুব্ধ মমতা ব্যানার্জি বলেন, ‘অমিত শাহ ন্যাস্টি হোম মিনিস্টার। উনি দেশকে সামলাতে পারেন না! আমার দলের নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করাচ্ছেন।’ এরপর সল্টলেকের সেক্টর ফাইভের অ্যাইপ্যাকের দপ্তরেও পৌঁছান মুখ্যমন্ত্রী। সঙ্গে ছিলেন মন্ত্রী সুজিত বসু, কৃষ্ণা চক্রবর্তী।
পরে সেখানে আসেন রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমারও। সল্টলেকে আইপ্যাকের দপ্তর থেকে বেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ভোটের স্ট্র্যাটেজি ছিনতাই করেছে। আমাদের কাগজ, তথ্য সব লুট করেছে। লড়াই করার সাহস হচ্ছে না, এখন লুট করতে নেমেছে। হার্ড ডিস্ক, অর্থনৈতক কাগজ, পার্টির কাগজ নিয়ে নিয়েছে। বিজেপির মতো এত বড় ডাকাত দেখনি। এটা অপরাধ নয়?’
তিনি বেরিয়ে এসে বললেন, 'বাংলায় জিততে চাইলে গণতন্ত্রের লড়াইয়ে রাজনৈতিকভাবে লড়াই করুক বিজেপি। কিন্তু বিজেপি গণতন্ত্রের হত্যাকারী দল। ইডি পার্টির সব কাগজপত্র নিয়ে চলে গিয়েছে। ফোন নিয়েছে, হার্ডডিস্ক নিয়েছে, কাগজপত্র সব নিয়ে চলে গিয়েছে, টেবিল খালি পড়ে আছে। বোঝা যাচ্ছে, বিজেপি গণতন্ত্রের হত্যাকারী দল। ওরা গায়ের জোরে বা ফোর্সফুলি এসব করেছে। ওরা জোর করে বাংলাকে দখল করতে চাইছে। বাংলার মানুষ এর উত্তর দেবেন।'
অভিযোগ করে তিনি জানান তথ্য ট্রান্সফার করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে অপব্যবহার করছে বিজেপি। প্রতিবাদে শুক্রবার পথেও নামবেন বলে জানানো হয়েছে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে।
‘গণতন্ত্র রক্ষা’-র দাবিতে মিছিল করবেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। শুক্রবার দুপুর দুটো নাগাদ যাদবপুর এইটবি বাসস্ট্যান্ড থেকে হাজরা মোড় পর্যন্ত মিছিলে তিনি পা মেলাবেন।