আইএসএল চালু হচ্ছে, এ কথা শুনে যেমন সাধারণ ফুটবলপ্রেমীরা দারুণ খুশি, ঠিক তেমনই মনসুখ মাণ্ডব্যের মুখে ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগানের বিকৃত উচ্চারণ শুনে পাল্টা জবাব দিতে ভোলেনি ফুটবলপ্রেমীরা। আর বৃহস্পতিবার সে কথাই ফের মনে করিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। কটাক্ষ করলেন কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রীকে। যদিও আগেই সোশ্যাল মিডিয়ায় এ ব্যাপারে প্রতিবাদ জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্যর উপস্থিতিতে ক্লাবগুলির সঙ্গে বৈঠকে বসেছিল ফেডারেশন। সেই বৈঠকেই আইএসএলের সম্ভাব্য রোডম্যাপ জানিয়ে দেওয়া হয় ক্লাবগুলিকে। ক্রীড়ামন্ত্রী জানিয়ে দেন, ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে আইএসএল। ১৪টি দলই তাতে অংশ নেবে। তা সত্ত্বেও দেশের ক্রীড়ামন্ত্রীর উচ্চারণ নিয়ে উত্তাল নেটপাড়া। বৈঠকে তিনি দেখে দেখেও পড়তে পারেননি মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গলের মতো শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাবের নাম।
কী বললেন মমতা?
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় ফের মনসুখ মাণ্ডব্যকে কটাক্ষ করেন। বলেন, 'আমার ধন্যবাদ থাকবে কলকাতার তিন ক্লাবের প্রতি। যাদের নাম নাকি দিল্লীর ক্রীড়ামন্ত্রী ঠিকভাবে উচ্চারণ করতে পারেন না। মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল, মহমেডান স্পোর্টিং-কে অনেক শুভন্দন।' পাশাপাশি আইএসএলে যোগ দেওয়া সমস্ত ক্লাবকেই শুভেচ্ছা জানিয়ছেন মমতা। তিনি বলেন, 'শুধু বাংলার তিন ক্লাব নয়, বাকি সমস্ত ক্লাব যারা এবারের আইএসএল-এ অংশ নেবেন তাদের সবাইকে শুভেচ্ছা। বাংলার তিন ক্লাবকেও শুভেচ্ছা।'
প্রতিবাদ জানিয়েছে মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গল
যে শতাব্দী প্রাচীন ক্লাবের নাম সঠিকভাবে উচ্চারণ করতে পারেননি কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী, সেই ক্লাবের কর্তারাও হতাশ। এদিন মোহনবাগান সচিব সৃঞ্জয় বোস বলেন 'এটা সত্যি খুব দুঃখজনক। আমরা দেখে আসছি যাঁরা কেন্দ্রে রয়েছেন, তাঁরা সব সময় বাংলার কোনও নামের ক্ষেত্রে উচ্চারণ করতে পারেন না। মনীষীদের নামও উচ্চারণ করতে পারেন না। সেই দিক থেকে দেখলে মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গলের নাম ঠিক করে উচ্চারণ করতে পারবেন, তাঁদের থেকে থেকে এটা আশা করাটাই উচিত নয়। বাংলা শুধু নয়, এই দুই ক্লাব দেশের ফুটবলের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে। সেটা না জানাটা সত্যি দুঃখজনক। আশা করব আগামী দিনে যা বাংলার ইতিহাসের সাথে জড়িয়ে আছে তা সঠিকভাবে পড়ে দেখবেন।'
ইস্টবেঙ্গল শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকারও বলেন, 'ফুটবল প্রেমী যাঁরা আছেন, তাঁরা ইতিমধ্যেই সরব হয়েছেন। সেই ভিডিও আমরা দেখেওছি। আমাদের ক্লাবের সমর্থকরা নিজেদের মতো প্রতিবাদ করছেন।' মোহনবাগানের প্রাক্তন কিংবদন্তি ফুটবলার সুব্রত ভট্টাচার্যও দুঃখ পেয়েছেন ক্রীড়ামন্ত্রীর এমন মন্তব্যে। তিনি বলেন, 'হয়তো উনি ফুটবলে তেমন আগ্রহী নন। যদি আগ্রহী হতেন তা হলে এই দুই ক্লাবের নাম জানতেন। এমন কী, আমরা বহুবার দিল্লিতে ডুরান্ড খেলতে গিয়েছি। দিল্লির মানুষদের এই দুই ক্লাবের নাম অজানা নয়। আশা করব, আগামী দিনে এই ভুলভ্রান্তি তিনি কাটিয়ে উঠবেন। একজন ক্রীড়ামন্ত্রীর থেকে এটা আশা করতে পারি।'