নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আজ, বৃহস্পতিবার বিকেলে আউট্রাম ঘাটের ট্রানজিট পয়েন্টে গঙ্গাসাগর মেলার শুভ উদ্বোধন এবং পরিষেবা প্রদান অনুষ্ঠানে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অনুষ্ঠান মঞ্চে তিনি বলেন, একাধিকবার দাবি জানানোর পরও কেন্দ্রীয় সরকার গঙ্গাসাগরের জন্য একটা টাকাও দেয়নি। জাতীয় মেলার তকমাও মেলেনি। পূণ্যার্থীদের বলব, সকলে সাবধানে যাবেন। কেউ তাড়াহুড়ো করবেন না। কোনও প্ররোচনায় পা দেবেন না। আমরা গঙ্গাসাগর সেতুর কথা বহুবার বলেছি, কিন্তু ওরা করেনি। ওরা শুধু আমাদের দলকে নয়, গোটা বাংলার উপরই আক্রমণ করে। যাঁরা ধর্মের নামে বিভেদ-বিচ্ছেদ সৃষ্টি করে তাঁদের ধিক্কার জানাই। গঙ্গাসাগরে সিসিটিভি কভারেজ করা রয়েছে বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিনের ইডির হানার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মিথ্যে কেস বানিয়ে আমার বাড়িতে যদি চুরি করতে কেউ আসে আমি চেষ্টা করব না চুরিটা আটকাতে? আপনাকে যদি কেউ খুন করতে আসে, আপনি চেষ্টা করবেন না আত্মরক্ষা করতে? চুরি করে ওরা সব নিয়ে চলে গিয়েছে। সমস্ত ডেটা, এসআইআরের লিস্ট। কত লোক জানিয়েছেন যে, তাঁদের নাম লিস্টে তোলাই হয়নি। আতঙ্কে কতজন মারা গিয়েছেন। ভোটের আগে মনে পড়ে নোটবন্দি-ভোটবন্দি এজেন্সি। সারাক্ষণ শুধু হামলা করা। লুট করে মিথ্যে বলা হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে আগামীকাল অর্থাৎ শুক্রবার দুপুর ৩টের সময় মিছিল করব। আপনারা ২টোর মধ্যে যাদবপুর ৮বি-তে জমায়েত করবেন। যাদবপুর ফাঁড়ি হয়ে আনোয়ারশাহ রোড হয়ে টালিগঞ্জ হয়ে গড়িয়াহাট, রাসবিহারী হয়ে হাজরায় এসে মিছিল শেষ হবে। আমি নিজেও মিছিলে থাকব।পাশাপাশি এসআইআর ইস্যুতে মমতা বলেন, আমাকে ঘাঁটাবেন না। আঘাত করলে প্রত্যাঘাত করবই। আঘাত করবেন না তাহলে একটাও কথা বলব না। গেরুয়া শিবিরে বিরুদ্ধে তোপ দেগে তিনি বলেন, তোমাদের থেকে বড় ডাকাত আর কেউ নেই। কোটি কোটি টাকা লুট করেছ। আধার কার্ডের নামেও লুট করেছ। আর এখন বলছ আধার কার্ডের কোনও গুরুত্ব নেই। এখন বলা হচ্ছে সবার নাম কেটে দাও। বিয়ে হলেই মেয়েদের নাম কেটে দেওয়া হচ্ছে। কারণ ওদের পদবি পরিবর্তন হয়েছে। অমর্ত্য সেনকেও নোটিশ পাঠানো হয়েছে। তাঁকে বাবার সঙ্গে মায়ের বয়সের ফারাক জানতে চাওয়া হচ্ছে! সবার নাম বাদ দিয়ে বিজেপিকে জেতাবেন? যাঁরা বিজেপির সমর্থক আছেন তাঁদের বলব এবার আপনারা বিজেপিকে ভোট দেবেন না। ওরা দেশকে বিক্রি করে দিয়েছে। আপনাদেরও বিক্রি করে দেবে। সাধুদের নাম কেটে দেওয়া হচ্ছে। সাধুদের নিয়ে রাজনীতি করবে আর গণতান্ত্রিক অধিকার দেবে না! এটা হয় নাকি? জয় গোস্বামী, দেবের পাশাপাশি বিবাহিত মহিলাদের নোটিশ পাঠানো হচ্ছে। ওরা অ্যান্টি উইমেন। আগামী দিনে বাংলার মানুষ বিজেপিকে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেবে। শেষে কেন্দ্রীয় ক্রীড়া মন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্যকে কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এখানে বাংলার ক্লাবের কর্ণধাররা রয়েছেন। দিল্লির মন্ত্রী বাংলার ফুটবল ক্লাবের নামটাও ঠিকভাবে উচ্চারণ করতে পারেন না।