• রায়গঞ্জে এসআইআর শুনানির নোটিস পেয়ে আত্মঘাতী ৬৪ বছরের বৃদ্ধ
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ০৯ জানুয়ারি ২০২৬
  • পুলিশ সূত্রে খবর, গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বাবলু পাল।পরিবারের দাবি, মৃতের ঘর থেকে একটি সুইসাইড নোটও উদ্ধার করা হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠিয়েছে। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

    পরিবার সূত্রে খবর, বাবলু পাল পেশায় ভাঙরি ছিলেন। সংসারে রয়েছেন স্ত্রী ও তাঁদের একমাত্র কন্যা। আগামী ২ ফেব্রুয়ারি থেকে তাঁর মেয়ের মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল।পরীক্ষার মুখেই বাবাকে হারিয়ে চরম বিপর্যয়ের মুখে  পড়েছে পরিবারটি।

    মৃতের স্ত্রী জানান, এসআইআরের শুনানির নোটিস  পাওয়ার পর থেকেই বাবলুবাবু অত্যন্ত চিন্তায় থাকতেন। কয়েকদিন ধরে তিনি কাজেও যাচ্ছিলেন না। তাঁর আশঙ্কা ছিল, ভোটার তালিকায় নাম না থাকলে তাঁকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হতে পারে। বারবার বলতেন, এই বয়সে বাড়িছাড়া হলে তিনি স্ত্রী এবং মেয়েকে নিয়ে কোথায় যাবেন।

    মৃতের আত্মীয় প্রতিমা পালও জানান, শুনানির নোটিস পাওয়ার পর থেকেই বাবলু পাল ভোট ও নাগরিকত্ব নিয়ে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছিলেন। সেই ভয় থেকেই এই চরম সিদ্ধান্ত তিনি নিয়েছেন বলে তাঁদের ধারণা।

    ঘটনার খবর পেয়ে মৃতের বাড়িতে যান রায়গঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যাণী তিনি মৃতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, এসআইআরের ভয়ে মানুষ আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছেন। তবে রায়গঞ্জের পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।

    অন্যদিকে উত্তর ২৪ পরগনার বারাসাতে এসআইআর সংক্রান্ত শুনানির লাইনে দাঁড়িয়ে অসুস্থ হয়ে মৃত্যু হল এক যুবকের। জানা গিয়েছে মৃতের নাম রমজান আলি। তাঁর বয়স ছিল ৩৮ বছর।  তিনি মধ্যমগ্রাম বিধানসভার রহণ্ডা চণ্ডীগড় পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা। বৃহস্পতিবার সকালে বারাসাত ২ নম্বর ব্লকের বিডিও অফিসে এসআইআরের শুনানির জন্য হাজির হয়েছিলেন তিনি।

    জানা গিয়েছে, বেশ কিছু নথিগত সমস্যার কারণে রমজান আলিকে এইদিন শুনানিতে ডাকা হয়েছিল।  পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তিনি বিডিও অফিসে যান। সকাল থেকেই সেখানে দীর্ঘ লাইন ছিল। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার সময় আচমকাই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রথমে মুখে ও চোখে জল দেওয়া হলে কিছুটা সুস্থ বোধ করেন এবং আবার লাইনে দাঁড়ান। তবে কিছুক্ষণ পর আবার তিনি গুরুতরভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন।

    এরপর দ্রুত তাঁকে নিকটবর্তী একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।খবর পেয়ে মৃতের বাড়িতে পৌঁছন রাজ্যের খাদ্য ও সরবরাহ মন্ত্রী রথীন ঘোষ, মধ্যমগ্রাম পুরসভার পুরপ্রধান নিমাই ঘোষ এবং তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতৃত্ব।

    তাঁরা শোকস্তব্ধ পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষ অভিযোগ করেন, এসআইআর সংক্রান্ত প্রক্রিয়ার মানসিক চাপের কারণেই রাজ্যে একের পর এক মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে এবং এর জন্য কেন্দ্রীয় সরকার ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার তীব্র নিন্দা  করেন তিনি ।মৃতের এক আত্মীয় জানান, শুনানির নোটিস পাওয়ার পর থেকেই রমজান মানসিকভাবে ভীত  ছিলেন।
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)