জি ২৪ ঘন্টা ডিজিটাল ব্যুরো: 'মুখ্যমন্ত্রী একজন দাগি অপরাধী'। আইপ্যাক কাণ্ডে বিস্ফোরক কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেন, 'পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী যে ছিনতাইবাজ, এটা কিন্তু আমাদের জানা ছিল। আজকের ঘটনা প্রমাণ করল, মুখ্যমন্ত্রী পাকা ক্রিমিনাল'।
সুকান্ত বলেন, 'ফাইল ছিনতাই করে নিয়ে চলে গেল!শুধু তাই নয়, তিনি একটি গাড়ি নিয়ে এসেছিলেন। সেই গাড়ির নম্বর যাতে ক্যামেরার সামনে না পড়ে, তৃণমূলকর্মী বা পুলিসের কেউ হাত তুলে যীশুখ্রীষ্ট হয়ে ওই নম্বর ঢাকা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী যে ছিনতাইবাজ, এটা কিন্তু আমাদের জানা ছিল। আজকের ঘটনা প্রমাণ করল, মুখ্যমন্ত্রী পাকা ক্রিমিনাল। তথ্য়-প্রমাণ লোপাট করার বুদ্ধি তো ক্রিমিনালদের কাছে থাকে, দাগি ক্রিমিনাল যাকে বলে। মুখ্যমন্ত্রী একজন দাগি অপরাধী। ভারতবর্ষের ইতিহাসে এইরকম কার্যকলাপ কোনও মুখ্যমন্ত্রী'।
এদিকে আইপ্যাক কাণ্ডে মুখ্যমন্ত্রী ও কলকাতা পুলিস সুপারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, আমি মুখ্য়মন্ত্রীর যাওয়াটাকে মনে করি অনৈতিক, অসাংবিধানিক। কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্তে সরাসরি বাধাদান। মুখ্যমন্ত্রীর এর আগেও করেছেন। রাজীব কুমারের বাড়িতে রেড হওয়ার সময়ে। এবং ৫ ঘণ্টা ধরনা দিয়েছেন নিজাম প্য়ালেসে। যখন ফিরহাদ হাকিম-সহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছে। মুখ্যমন্ত্রীর অভ্যাসের মধ্যে পড়ে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী তার সাংবিধানিক অধিকারের মধ্যে যদি এই দ্বিতীয়বারেও যদি মু্খ্যমন্ত্রী আর সিপির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে ভুলবার্তা যাবে।
ঘটনাটি ঠিক কী? যেদিন কলকাতায় আসছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা, সেদিনই ভোট কুশলী সংস্থা আইপ্যাকের দুটি অফিসে হানা দিল ইডি। বাদ গেল না লাউডন স্ট্রিটে আইপ্যাক প্রধান প্রতীক জৈনের বাড়িও। খবর পেয়েই প্রথমে প্রতীক জৈনের বাড়িতে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। এরপর চলে যান সল্টলেক সেক্টর ফাইভে আইপ্যাকের অফিসে। এরপর প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টার বেশি সময় ধরেই সেখানে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিকে প্রতীক জৈনের বাড়িতে কিছুক্ষণ পরই বেরিয়ে আসেন মুখ্যমন্ত্রী। হাতে সবুজ ফাইল। পরে সল্টলেকে আইপ্যাকের অফিস থেকে একাধিক ফাইল তোলা হয় গাড়িতে। কোথায় থেকে এল ফাইল? ফাইলে কি আছে? প্রশ্ন উঠেছে।
আইপ্যাক কাণ্ডে পালটা সুর চড়াচ্ছে তৃণমূলও। এদিন গঙ্গাসাগর মেলার ক্যাম্প উদ্বোধনী অনুষ্ঠান মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'সারাক্ষণ শুধু হামলা করা, আর মিথ্যা কথা বলা। করছে লুঠ, বলছে জুট। এর বিরুদ্ধে আগামীকাল বিকেল ৩ টের সময়ে, আপনারা জমায়েত হয়ে যাবেন আড়াইটের মধ্যে, যে যেরকম পারবেন। যাদবপুর এইটবি বাসস্ট্যান্ডের সামনে জমায়েত হবে। ওখান থেকে মিছিল, রুটকে আমি সিপিকে বলেছিল, পারমিশন নিয়েছি। যাদবপুর ফাঁড়ি হয়ে আনোয়ার শাহ রোড হয়ে টালিগঞ্জ হয়ে গড়িয়াহাট, রাসবিহারী হয়ে হাজরায় এসে মিছিল শেষ হবে'। জানান, 'আমি নিজে মিছিলে থাকব। আমাকে ঘাটাবেন না। আঘাত করলে প্রত্যাঘাত করব। আঘাত করবেন না, একটাও কথা বলব। নীরবতাই শক্তি'।