জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ভারতের রাজনীতির প্রেক্ষাপটে এক অত্যন্ত প্রভাবশালী নাম ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি (Indian Political Action Committee)। সংক্ষেপে আইপ্যাক (I-PAC) নামে পরিচিত। এটি কোনও রাজনৈতিক দল নয়, বরং একটি রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা (Political Consultancy Firm)। ২০১৩-১৪ সাল নাগাদ ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোর (Prashant Kishor) এবং একদল তরুণ পেশাদারদের হাত ধরে এই সংস্থার যাত্রা শুরু হয়। আইপ্যাক মূলত আধুনিক প্রযুক্তি, ডেটা অ্যানালাইসিস, এবং সোশ্যাল মিডিয়া ক্যাম্পেইনকে কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য নির্বাচনের রণকৌশল তৈরি করে। পশ্চিমবঙ্গে শুধু তৃণমূল কংগ্রেস নয়, অতীতে অরবিন্দ কেজরীবাল থেকে খোদ নরেন্দ্র মোদীর রাজনৈতিক প্রচারেও মাঠে নামতে দেখা যায় আইপ্যাককে।
কীভাবে টাকা আয় করে প্রশান্ত কিশোরের আই-প্যাক (I-PAC)? কত এই কোম্পানির নেটওয়ার্থ?
২০১৩ সালে প্রশান্ত কিশোর তাঁর সহযোগী প্রতীক জৈন, ঋষিরাজ সিং এবং বিনেশ চন্দেলের সঙ্গে আই-প্যাকের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। শুরুতে এর নাম ছিল 'সিটিজেন ফর অ্যাকাউন্টেবল গভর্ন্যান্স' (CAG)। পশ্চিমবঙ্গে এই বছর বিধানসভা নির্বাচন হতে চলেছে। নির্বাচনের আগেই রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে। আজ কয়লা কেলেঙ্কারি মামলায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) কলকাতার রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আই-প্যাকের অফিসে হানা দিয়েছে। ইডি আই-প্যাক প্রধান প্রতীক জৈনের বাড়িতেও তল্লাশি চালিয়েছে। মূলত আই-প্যাক একটি পলিটিক্যাল কনসালটেন্সি ফার্ম এবং এই সংস্থাটি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে কাজ করে।
ইডি যখন আই-প্যাক প্রধান প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং অফিসে তল্লাশি চালাচ্ছিল, তখনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানে পৌঁছে যান। জানা গেছে যে, ইডির তল্লাশি চলাকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আই-প্যাকের অফিস থেকে ফাইল এবং ল্যাপটপ নিয়ে বেরিয়েছেন। এই অভিযানের মধ্যেই আই-প্যাক নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্ন জাগতে শুরু করেছে। চলুন জেনে নিই প্রশান্ত কিশোরের আই-প্যাক কীভাবে টাকা আয় করে এবং এই কোম্পানির নেটওয়ার্থ কত।
কী এই আইপ্যাক এবং কী ভাবে এর শুরু?
২০১৩ সালে প্রশান্ত কিশোর তাঁর তিন বন্ধু— প্রতীক জৈন, ঋষিরাজ সিং এবং বিনেশ চন্দেলের সঙ্গে আই-প্যাকের শুরু করেন। শুরুতে এর নাম ছিল 'সিটিজেন ফর অ্যাকাউন্টেবল গভর্ন্যান্স', যা পরে 'ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি' (I-PAC) নামে পরিচিত হয়। এই কোম্পানির মূল লক্ষ্য হলো রাজনৈতিক দল এবং নেতাদের নির্বাচনী কৌশল, সংগঠন শক্তিশালী করা এবং তথ্যের (Data) ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করা।
আইপ্যাক ও প্রশান্ত কিশোর
আই-প্যাকের মাধ্যমেই প্রশান্ত কিশোর ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদীর রাজনৈতিক প্রচারের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। এরপর বিহার নির্বাচনে নীতিশ কুমার, পাঞ্জাবে অমরিন্দর সিং এবং অন্ধ্রপ্রদেশে ওয়াইএসআর কংগ্রেসের জগনমোহন রেড্ডির হয়েও এই সংস্থা কাজ করেছে। বর্তমানে আই-প্যাক পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য কাজ করে। তবে জানা যায় যে, ২০২১ সালে প্রশান্ত কিশোর আনুষ্ঠানিকভাবে এই কোম্পানি ছেড়ে দেন। এরপর থেকে ঋষিরাজ সিং, বিনেশ চন্দেল এবং প্রতীক জৈন কোম্পানির ডিরেক্টর হন।
নির্বাচনী কৌশল থেকে হয় আই-প্যাকের আয়
আই-প্যাকের আয়ের সবথেকে বড় উৎস হলো রাজনৈতিক দল এবং নেতাদের দেওয়া পরামর্শ বা কনসালটেন্সি। এই কোম্পানি নির্বাচনের আগে এবং নির্বাচন চলাকালীন দলগুলোকে পূর্ণাঙ্গ কৌশল বাতলে দেয়। এর মধ্যে রয়েছে প্রার্থী নির্বাচন, গ্রাউন্ড সার্ভে (জমি জরিপ), ভোটার ডেটা অ্যানালিসিস, প্রচারের কৌশল, সোশ্যাল মিডিয়া ক্যাম্পেইন এবং জনসভার বার্তা তৈরি করা। রাজনৈতিক দলগুলো আই-প্যাককে এর বিনিময়ে মোটা অঙ্কের ফি দেয়, যা প্রজেক্ট এবং নির্বাচনের গুরুত্ব অনুযায়ী নির্ধারিত হয়।
আই-প্যাকের নেটওয়ার্থ কত?
আই-প্যাক একটি বেসরকারি রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা, তাই এর সঠিক নেটওয়ার্থ বা মোট সম্পদের পরিমাণ প্রকাশ্যে আনা হয়নি। তবে সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, বড় বড় নির্বাচনী প্রজেক্ট এবং ক্রমাগত বাড়তে থাকা কাজের পরিধি দেখে এই কোম্পানির মূল্য কয়েকশো কোটি টাকা বলে অনুমান করা হয়। দেশের বড় রাজ্যগুলোতে নির্বাচনী প্রচার সামলানো এবং দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে কাজ করার ফলে আই-প্যাকের আয় এবং প্রভাব— দুই-ই ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়েছে।
ইডির অভিযোগ, কয়লাকাণ্ডের অভিযুক্ত প্রতীক জৈনকে তদন্ত করতেই বৃহস্পতিবার ইডি তল্লাশি চালায় আইপ্যাক সংস্থায়। তাই এই মুহূর্তে সকলের নজর আইপ্যকের দিকে।