সম্যক খান, মেদিনীপুর: চেনা মেজাজে ফিরেছেন বঙ্গ বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তাতেই মেদিনীপুরে অস্বস্তিতে পড়েছেন শুভেন্দু অধিকারী ঘনিষ্ঠ নেতারা! কেউ মঞ্চে বসছেন ঠিকই, কিন্তু রয়েছে অনিচ্ছা। আবার কেউ কেউ সন্তর্পণে এড়িয়ে চলছেন গোটা বিষয়টি। আবার অনেকে ‘জল মাপতে’ ব্যস্ত।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সঙ্গে বৈঠকের পর পুরোনো ফর্মে ফিরেছেন দিলীপবাবু। নতুন ইনিংসের সূচনা করেছেন নিজের অতীত গড় খড়গপুর থেকেই। মেদিনীপুরে ওল্ড এলআইসি মোড়ে পরিবর্তন সংকল্প সভা করেন দিলীপ। সেখানে দিলীপ অনুগামী বলে পরিচত চন্দন ঘোষ, রঞ্জন ঘোষ, সুশান্ত ঘোষ, বিথীকা চৌধুরী, কামাল হোসেনের মতো নেতা-নেত্রীরা সক্রিয় ভূমিকা নিতে দেখা গিয়েছে। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে দেখা যায়নি এলাকায় শুভেন্দু অনুগামী নেতা শুভজিৎ রায়, অরূপ দাস, রমাপ্রসাদ গিরির মতো নেতাদের।
যুবনেতা আশীর্বাদ ভৌমিক একসময় দিলীপবাবু অনুগামী থাকলেও বর্তমানে তিনি শিবির বদল করে শুভেন্দু অনুগামী হয়ে গিয়েছেন। তিনিও এড়িয়ে গিয়েছেন দিলীপবাবুর কর্মসূচী।তবে হাজির ছিলেন শুভেন্দু অনুগামী শংকর গুছাইত। জেলা রাজনৈতিক মহলের দাবি, প্রত্যেকেই এখন রাজনৈতিক অঙ্ক কষতে ব্যস্ত। তবে দিলীপ চেনা মেজাজে ফিরতেই বেশ কিছু নেতার উপর কোপ পড়বে বলেই মত অনেকের। নেতারা ‘ওয়েট অ্যান্ড ওয়াচ’ নীতি গ্রহণ করায় ‘চাপে’ নিচুতলার বিজেপি কর্মীরাও। তাঁরাও এখন অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন!
রেলনগরী খড়গপুর থেকে প্রথম বিজেপির টিকিটে নির্বাচন জিতে বিধানসভায় পা রেখেছিলেন দিলীপ ঘোষ। এখান থেকেই হয়েছিলেন মেদিনীপুরের সাংসদও। কিন্তু গত লোকসভা নির্বাচনে দিলীপকে মেদিনীপুর থেকে টিকিটই দেয়নি দল। তাঁকে ‘অচেনা ময়দান’ বর্ধমান-দুর্গাপুর আসনে লড়তে পাঠানো হয়। সেখানে তৃণমূলের কীর্তি আজাদের কাছে পারজিত হন তিনি। দিলীপকে একপ্রকার মেদিনীপুর ছাড়া করার পিছনে শুভেন্দুর ‘হাত’ ছিল বলে মনে করেন দিলীপ ঘনিষ্ঠ নেতারা।
ঘোষবাবু কার্যত ‘একঘরে’ হয়ে যাওয়ার পর পূর্ব মেদিনীপুরের পাশাপাশি পশ্চিম মেদিনীপুরেও নিজের অনুগামী তৈরি করেন শুভেন্দু। অনেক দিলীপ অনুগামীও যোগ দেন শুভেন্দু শিবিরে। সংখ্যা কমতে কমতে একপ্রকার কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন দিলীপ অনুগামীরা। দিঘায় জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় ও দিলীপ ঘোষের সৌজন্য সাক্ষাতের পর সেই ফাটল আরও চওড়া হয়। পশ্চিম মেদিনীপুরে সিপাইবাজারে জেলা পার্টি অফিসে দিলীপ ঘোষের ছবিতে জুতোর মালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ দেখানো হয়। অরাজনৈতিক কর্মসূচী করতে এসেও বিভিন্ন জায়গায় ‘গো ব্যাক’ স্লোগান শুনতে হয়েছে দিলীপকে।
কিন্তু এখন পাশা বদলেছে। শাহী বৈঠকের পর দিলীপ ঘোষ ফের চেনা মেজাজে। মেদিনীপুর ও শালবনীতে একাধিক দলীয় কর্মসূচীতে হাজির ছিলেন দিলীপবাবু। কর্মীদের কাছে উষ্ণ অভ্যর্থনাও পাচ্ছেন। নিজস্ব ঢঙে ব্যাটিং করেছেন তিনি। তাতেই অস্বস্তি বেড়েছে শুভেন্দু শিবিরের।