সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের আগে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনের নামে সমাজের বিশিষ্ট মানুষদেরও হয়রানি করা হচ্ছে। নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন, স্বনামধন্য কবি জয় গোস্বামী, টলিউড সুপারস্টার দেবকে এসআইআরে শুনানির নোটিস পাঠানোয় এই অভিযোগের সুরেই ফুঁসে উঠলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের উদ্দেশে তাঁর প্রশ্ন, ”অমর্ত্য সেন, নোবেলজয়ী একজন মানুষ, তাঁকে নাকি শুনানির জন্য নোটিস দিয়েছে কমিশন! কারণ কী? তাঁর মা-বাবার সঙ্গে বয়সের তফাৎ নাকি ১৫ বছরের কম। আরে আমি অমর্ত্য সেনের বয়স নব্বইয়ের উপর। তখনকার দিনে কত বছর বয়সে বিয়ে হতো? ১০ থেকে ১২ বছরে। তখন বাড়িতেই সন্তান হতো। হাসপাতালে যাওয়ার চল ছিল না। মা-সন্তানের বয়সের এই ফারাক তো স্বাভাবিক।”
বৃহস্পতিবার বিকেলে আউট্রাম ঘাটে গঙ্গাসাগর মেলার ক্যাম্প উদ্বোধনে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বিশিষ্টদের এসআইআরে শুনানির নোটিস পাঠানো নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। আলাদাভাবে নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেনকে নোটিস পাঠানোর তীব্র সমালোচনা করেন। ‘ভ্যানিশ কুমারে’র উদ্দেশে তাঁর বার্তা, ”আপনি কোটি কোটি টাকার মালিক হতে পারেন, আপনার জন্ম হয়ত হাসপাতালে হয়েছিল। কিন্তু আমাদের এখানে সেসময় বাড়িতেই প্রসব হতো। অমর্ত্য সেনের মা-বাবার সঙ্গে বয়সের ফারাক ১৫ বছরের কম দেখে সন্দেহপ্রকাশ করায় আপনারা নোটিস পাঠিয়েছেন!”
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ”ভাবুন তো, অত বড় কবি, জয় গোস্বামী, তাঁকেও নোটিস দিয়েছে! সুপারস্টার দেব, তাঁকেও শুনানির নোটিস। এসব সমাজের বিশিষ্টজনদের অযথা হেনস্তা করা।” অমর্ত্য সেনকে নোটিস পাঠানো নিয়ে কমিশন নিজেদের অবস্থানের কথা স্পষ্ট করেছে। জানা গিয়েছে, বোলপুরে তাঁর বাড়ি ‘প্রতীচী’তে গিয়েছিলেন বিএলও। অমর্ত্য সেনের তুতো ভাই শান্তভানু সেন তাঁঁকে প্রয়োজনীয় নথি দিয়েছেন। কবি জয় গোস্বামীর নথি পর্যাপ্ত ছিল না, এই অভিযোগে তাঁকে নোটিস পাঠানো হয়েছিল। তবে অসুস্থ কবিকে শুনানিতে হাজির করানো সম্ভব নয় বলে সাফ জানিয়েছিলেন স্ত্রী কাবেরীদেবী।