কুকুরের নাম ‘রাম’? হতে পারে?
অন্তত তাই হয়েছে বিজেপি-শাসিত ছত্তিসগড় রাজ্যের একটি স্কুলের পরীক্ষায়। ছত্তিসগড়ের মহাসমুন্দ জেলায় একটি স্কুলের হাফ ইয়ারলি পরীক্ষার চতুর্থ শ্রেণির ইংরেজি পরীক্ষার ‘মাল্টিপল চয়েস কোয়েশ্চেনে’ একটি প্রশ্ন ঘিরে শুরু হয়েছে প্রবল বিতর্ক।
ওই স্কুলের পরীক্ষায় প্রশ্ন ছিল ‘মোনার কুকুরের নাম কী?’ সঠিক উত্তর বেছে নেওয়ার জন্য চারটি ‘বিকল্প’ বা ‘অপশন’ দেওয়া হয়। ওই চারটি ‘বিকল্প’-এর একটি ছিল ‘রাম’।
আর এই কথা জানাজানি হওয়ার পরেই শুরু হয় বিতর্ক। ওই নাম থাকার কারণেই আপত্তি তুলেছে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলি। এই নিয়ে সেখানকার জেলা শিক্ষা আধিকারিক দপ্তরের সামনে বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ দেখায় বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ও বজরং দল। ওই দুটি দলের কর্মীদের অভিযোগ, হিন্দুদের আরাধ্য দেবতা রামের নাম কুকুরের নাম হিসেবে বিকল্পে রাখায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়া হয়েছে। এর প্রতিবাদ জানিয়ে মহাসমুন্দের জেলা শিক্ষা আধিকারিক বিজয় লাহরের কুশপুতুল দাহ করেন তাঁরা। পরে জেলাশাসকের কাছেও একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়।
মহাসমুন্দের জেলাশাসক বিনয়কুমার লাঙ্গেহ জানিয়েছেন, এই নিয়ে অভিযোগ পাওয়ার পরেই জেলা শিক্ষা আধিকারিকের কাছে রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। ওই রিপোর্ট পাওয়ার পরেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
তবে এই নিয়ে বিতর্ক শুরু হতেই ক্ষমা চেয়েছেন জেলা শিক্ষা আধিকারিক। তিনি জানিয়েছেন, যে প্রশ্নপত্র পাঠানো হয়েছিল ছাপার সময় সেটিতে পরিবর্তন করা হয়েছে। এই পরিবর্তনের জন্য স্কুল শিক্ষা দপ্তর দায়ী নয় বলেও দাবি তাঁর।
জানা গিয়েছে, ওই পরীক্ষার প্রশ্নপত্রগুলি ছাপানো হয়েছিল মহাসমুন্দ থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরের রাজনন্দগাঁও জেলার একটি ছাপাখানায়।
আধিকারিকদের দাবি, পরীক্ষার গোপনীয়তার কারণে এই ভুল আগে ধরা পড়েনি। তবে বিষয়টি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই বিতর্কিত বিকল্পটি সরিয়ে নতুন বিকল্প বসানো হয়েছে। যেখানে ওই প্রশ্ন ছাপা হয়েছে তাদের কাছেও এই নিয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। যে প্রশ্নপত্র সেকানে পাঠানো হয়েছিল তার কপি জমা দিতে বলা হয়েছে।
জেলা শিক্ষা আধিকারিক জানিয়েছেন, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার কোনও উদ্দেশ্য তাঁদের ছিল না। ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা না ঘটে, সেই জন্য পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ছাপার বিষয়ে আরও সতর্ক থাকা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।