বুথ প্রতি ২০০ নতুন নাম তোলার নির্দেশ বিজেপির, উত্তরপ্রদেশে ৩ কোটি ভোটার বাদ যাওয়ায় আতঙ্ক!
বর্তমান | ০৯ জানুয়ারি ২০২৬
লখনউ: ব্যুমেরাং হল এসআইআর? উত্তরপ্রদেশে খসড়া তালিকায় বাদ ২ কোটি ৮৯ লক্ষ (১৮.৭০ শতাংশ) ভোটার। এতে অশনি সংকেত দেখছে বিজেপি! সূত্রের খবর, প্রায় তিন কোটি নাম বাদ যাওয়ায় তড়িঘড়ি ভার্চুয়াল বৈঠকে বসে রাজ্য বিজেপির নেতৃত্ব। বৈঠকে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, বিজেপির রাজ্য সভাপতি পঙ্কজ চৌধুরী, সব বিধায়ক-সাংসদ, জেলা সভাপতি। বিশাল সংখ্যায় নাম বাদ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন যোগী ও চৌধুরী। তারপরই বিজেপি নেতৃত্ব জারি করেছে নয়া নিদান। দলের নেতাদের জন্য বেঁধে দেওয়া হয়েছে লক্ষ্যমাত্রা। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগেই প্রতি বুথে অন্তত ২০০ জন করে ‘প্রকৃত ভোটারে’র নাম তোলার ব্যবস্থা করতে হবে। অর্থাৎ, সব মিলিয়ে ৩ কোটি ৫০ লক্ষ নতুন নাম তোলার টার্গেট দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি সামনে আসতেই সমাজবাদী পার্টির সভাপতি অখিলেশ যাদব শাসকদলকে তীব্র আক্রমণ করেছেন। বৃহস্পতিবার তাঁর অভিযোগ, বিজেপির জেতা বুথগুলিতেই সবচেয়ে বেশি নাম বাদ পড়েছে। বেকায়দায় পড়ে তারা এখন ভুয়ো নাম ভোটার তালিকায় তোলার চেষ্টা করতে পারে। শুনেছি উদ্বিগ্ন যোগী আদিত্যনাথ নাকি বলেছেন বিজেপির চার কোটি নাম বাদ পড়েছে। সেই নামগুলি ফের তুলতে হবে। তিনি এই তথ্য পেলেন কোথায়? নিশ্চয় নির্বাচন কমিশন থেকে পেয়েছেন।
খসড়া তালিকায় দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নাম বাদ গিয়েছে উত্তরপ্রদেশেই। ঝাড়াই-বাছাইয়ের পর খসড়া তালিকায় নাম উঠেছে ১২ কোটি ৫৫ লক্ষ ভোটারের। যদিও বিজেপি নেতৃত্ব মনে করছে, উত্তরপ্রদেশে ‘প্রকৃত ভোটারে’র সংখ্যাটা হওয়া উচিত প্রায় ১৫ কোটি ৫০ লক্ষ। এজন্য ২০২৭ সালের বিধানসভা ভোটের কথা মাথায় রেখে প্রমাদ গুনছে গেরুয়া শিবির। সেই সূত্রেই পার্টি নেতৃত্বের নির্দেশ, উত্তরপ্রদেশের ১ লক্ষ ৭৭ হাজার বুথে অন্তত ২০০ জন করে নতুন ভোটারের নাম তুলতে হবে। এক বিজেপি নেতা জানিয়েছেন, যেসব তরুণ আগে ভোট দেননি তাঁদের পাশাপাশি ভোটার তালিকায় ভুল বা নথিতে সমস্যা থাকা ভোটারদের নাম তোলার ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। বেহদিশ ও আনম্যাপড ভোটারদের খোঁজ করার নির্দেশও জারি হয়েছে।
কমিশন জানিয়েছে, উত্তরপ্রদেশে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হবে ৬ মার্চ। বিজেপির প্রবীণ এক নেতা বলেন, উত্তরপ্রদেশের যেসব বাসিন্দা কর্মসূত্রে অন্য রাজ্যের ভোটার তালিকায় নাম তুলেছেন, আমরা তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করব। ধরুন, উত্তরপ্রদেশের কেউ দিল্লির ভোটার। তাঁকে অনুরোধ করব, ২০২৭ সালের বিধানসভা ভোটের আগে উত্তরপ্রদেশে ভোটার তালিকায় নাম তুলুন। কারণ, দিল্লিতে আগামী পাঁচ বছরে বিধানসভা ভোট নেই। দলের অন্য এক নেতা বলেন, যেসব ভোটারের নাম আগে দু’টি জায়গায় (একটি গ্রামের বাড়িতে, অন্যটি কর্মস্থল শহরে) নথিভুক্ত ছিল, তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে আমাদের।