• একবছর ধরে বকেয়া অমিল, ভ্যাকসিন সেন্টারে ফের বিক্ষোভ
    বর্তমান | ০৯ জানুয়ারি ২০২৬
  • সংবাদদাতা, ইটাহার: ১২ মাসের বকেয়া সাম্মানিক মেটানোর দাবিতে বৃহস্পতিবার ইটাহার গ্রামীণ হাসপাতালের ভ্যাকসিন সেন্টারের বাইরে ফের বিক্ষোভ দেখালেন ইটাহার ব্লকের অলটারনেটিভ ভ্যাকসিন ডেলিভারির (এভিডি) চুক্তিভিত্তিক কর্মীরা। বকেয়া না পেয়ে তাঁরা দু’দিন থেকে কাজ বন্ধ রেখেছেন। এতে ব্লকজুড়ে ভ্যাকসিনের মতো জরুরি পরিষেবা থেকে বঞ্চিত  গর্ভবতী ও শিশুরা। জরুরি পরিষেবা সচল রাখতে দ্রুত মধ্যস্থতার দাবি জানিয়েছেন স্বাস্থ্যকর্মীরাও। ইটাহারের বিএমওএইচ মনুগোড়া ফেবরিট এক্কার আশ্বাস, স্বাস্থ্যদপ্তর থেকে টাকা এলেই এভিডি কর্মীদের বকেয়া মিটিয়ে দেওয়া হবে। 

    ইটাহার ব্লকের ৬২টি সাব সেন্টারের জন্য মোট ৪২ জন এভিডি কর্মী  রয়েছেন। তাঁদের কেউ ১৫ কিমি, কেউ ২০ কিমি দূরের সাব সেন্টারে ভ্যাকসিন পৌঁছে দেন। বিনিময়ে মাসিক সাম্মানিক হিসেবে কেউ পান ৩৪০ টাকা, কেউ ৪০০ টাকা। কেউ পান ৮০০ টাকা। অভিযোগ, সেই ন্যূনতম সাম্মানিকও একবছর ধরে অমিল। বিক্ষোভকারী প্রতিমা রবিদাস বলেন, সংসারের কাজ ফেলে, ছোট সন্তানকে বাড়িতে রেখে সামান্য আয়ের আশায় এই কাজ করছি বহুবছর থেকে। অথচ প্রাপ্য পারিশ্রমিক পাচ্ছি না। 

    বকেয়া মেটানোর দাবিতে আগেও কর্মবিরতি এবং বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন কর্মীরা। আন্দোলন হলেই এক-দু’মাসের টাকা দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়। আরও বাকি পড়ে যায়। এভিডি কর্মী আনেসুর রহমান ও মনোরমা দেবনাথদের বক্তব্য, আমরাও চাই না, জরুরি পরিষেবা বন্ধ রাখতে। কিন্তু পকেটের টাকা খরচ করে আর কতদিন পরিষেবা দেব?

    এভিডিদের কর্মবিরতির জেরে ব্লকের সমস্ত সাব সেন্টারে ভ্যাকসিন মজুত না থাকায় গত দু’দিন পরিষেবা দিতে পারেননি স্বাস্থ্য কর্মীরা। এদিন বিএমওএইচের ডাকে স্বাস্থ্যকর্মীরা ভ্যাকসিন সেন্টারে এসেও বিক্ষোভের জেরে ঘুরে যান। স্বাস্থ্যকর্মী রুকসানা পারভিনের কথায়, কর্মবিরতির জেরে মায়েরা ভ্যাকসিন না নিয়ে ঘুরে যাচ্ছেন। বিক্ষোভের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক ও ইটাহার থানার পুলিশ কর্মীরা।   নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)