‘দিল্লির বাবুরা তৈরি থাকুন’, এবার খেলা পদ্ম উপড়ে ফেলার: অভিষেক
বর্তমান | ০৯ জানুয়ারি ২০২৬
রাহুল চক্রবর্তী, মালদহ: ‘লড়াই এবার আরও জোরদার। জবাব এবার আরও জোরালো। এবার খেলা পদ্মফুল উপড়ে ফেলার।’ এই ভাষাতেই আগামীর নির্বাচনি লড়াইয়ের অভিমুখ ঠিক করে দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপি নেতাদের উদ্দেশে তৃণমূল সেনাপতির বার্তা, ‘দিল্লির বাবুরা তৈরি থাকুন। আমরা আত্মসমর্পণ করব না।’
‘আবার জিতবে বাংলা’ শীর্ষক কর্মসূচিতে বুধবার মালদহে ছিলেন তৃণমূলের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ অভিষেক। পরিযায়ী শ্রমিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও আলোচনার কর্মসূচি ছিল তাঁর। এদিকে, এদিন সকালেই তৃণমূলের পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের অফিসে হানা দেয় কেন্দ্রীয় এজেন্সি। তৃণমূল মনে করছে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই ভোটের আগে ফের কেন্দ্রীয় এজেন্সির দাপাদাপি শুরু হল। আইপ্যাকের অফিসে হানা নিয়েও বিজেপির ষড়যন্ত্র দেখছে তৃণমূল। মালদহে ব্যস্ত থাকলেও আইপ্যাক সংক্রান্ত খবরাখবরে সকাল থেকেই নজর রাখছিলেন অভিষেক। তবে এ প্রসঙ্গে সরাসরি কোনও মন্তব্য করেননি তিনি। তবে তাঁর বক্তব্যের আগাগোড়া নিশানায় ছিল বিজেপি। অভিষেক বলেন, ‘কেন্দ্রে যদি অমিত শাহ থাকেন, তাহলে বাংলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপি যেন এটা মনে রাখে।’
বাংলায় প্রতি নির্বাচনের আগেই কেন্দ্রীয় এজেন্সির সক্রিয়তা বেড়ে যায়। এমন অভিযোগ তৃণমূলের তরফে আগেই করা হয়েছে। ২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় এজেন্সি বিজেপির কথায় আরও সক্রিয় হয়ে উঠবে বলে মনে করছে তৃণমূল। যদিও ইডি, সিবিআইকে কাজে লাগিয়ে কিংবা এসআইআর করে বিজেপি বাংলা দখল করতে পারবে না বলে প্রত্যয়ী জোড়াফুল শিবির। এদিনের সভায় অভিষেক বলেন, ‘এবারের ভোট হল বিজেপিকে শিক্ষা দেওয়ার এবং বিজেপির বিরুদ্ধে প্রতিবাদের। দিল্লির বাবুরা তৈরি থাকুন, এবারের খেলা হবে বাংলার মাটি থেকে পদ্মফুল উপড়ে ফেলার।’ বাংলাকে রক্ষার এই যুদ্ধে সর্বশক্তি দিয়ে তৃণমূলের পাশে থাকার জন্য রাজ্যের সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন করেছেন তিনি। সেই সঙ্গে অভিষেক আরও এক ধাপ এগিয়ে বলেন, ‘২৬-এর নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিজেপির শেষের শুরু। ২০২৯ সালে বিজেপির গল্প শেষ। গণতন্ত্রকে ভূলুণ্ঠিত করে বিজেপি বাংলা দখল করতে পারবে না।’ -নিজস্ব চিত্র