বাইরের রাজ্য থেকে এসে ফুটপাত দখল করে ব্যবসা, অভিযানে নামছে পুরসভা, শহরের উন্নয়নে প্রস্তাব পেতে এ মাসেই নাগরিক সম্মেলন
বর্তমান | ০৯ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: ভিনরাজ্য থেকে এসে ফুটপাত দখল করে চুটিয়ে ব্যবসা করছেন বহু মানুষ। তাঁদের দাপটে দখল হয়ে গিয়েছে গোটা শহরের ফুটপাত। ফলে হাঁটতে পারছেন না সাধারণ মানুষ। স্বাভাবিকভাবেই ক্ষোভ বাড়ছে শহরবাসীর মধ্যে। এনিয়ে শীঘ্রই অভিযানে নামা হবে বলে বৃহস্পতিবার জানিয়ে দিলেন জলপাইগুড়ি পুরসভার চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, এটা ঠিক যে, বিভিন্ন রাজ্য থেকে তো বটেই, এমনকী নেপাল থেকেও অনেকে শহরে এসে ফুটপাত দখল করে দিব্যি ব্যবসা করছেন। সাধারণ মানুষ হাঁটতে পারছেন না। আমরা এনিয়ে ১৩-১৫ জানুয়ারি মাইকিং করব। তারপরই ফুটপাত দখলমুক্ত অভিযানে নামা হবে। যদিও বাসিন্দাদের বক্তব্য, এর আগে একাধিকবার ফুটপাত দখলমুক্ত করার কথা বলেছে পুরসভা। কিন্তু কিছুই হয়নি। চেয়ারম্যানের অবশ্য চ্যালেঞ্জ, এবার আমরা শহরের ফুটপাত দখলমুক্ত করবই।
এরই পাশাপাশি শহরের উন্নয়নে এবার নাগরিকদের মতামত চাইছে পুর কর্তৃপক্ষ। সেই লক্ষ্যে চলতি মাসের শেষে নাগরিক সম্মেলন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পুরপ্রধান বলেন, উন্নয়ন নিয়ে রাজ্য সরকারের একটা চিন্তাভাবনা রয়েছে। পুরসভার পক্ষ থেকে আমরাও নিজেদের মতো পরিকল্পনা করে শহরের উন্নয়নের কথা ভাবছি। কিন্তু যাঁরা এই শহরের বাসিন্দা, তাঁরা উন্নয়ন নিয়ে কী ভাবছেন বা বলছেন, সেটা জানা জরুরি। সেকারণে আমরা নাগরিক সম্মেলন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
এদিকে, হাউজিং ফর অল প্রকল্পে পাকাবাড়ি তৈরি করে দিতে আবেদন নেওয়া শুরু হল জলপাইগুড়ি পুরসভায়। বার্ষিক ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয়, এমন ব্যক্তির যদি নিজের পাকাবাড়ি না থাকে, তাহলে তিনি আবেদন করতে পারবেন। চেয়ারম্যান বলেন, হাউজিং ফর অল প্রকল্পে বাড়ির আবেদন গ্রহণের জন্য আমরা পুরসভায় ক্যাম্প করেছি। সেখানে আবেদনপত্র জমা দেওয়া যাবে। আবেদন খতিয়ে দেখে পাকাবাড়ি তৈরি করে দেওয়ার ব্যবস্থা হবে।
পুর কর্তৃপক্ষের দাবি, এর আগে জলপাইগুড়ি শহরে হাউজিং ফর অল প্রকল্পে প্রায় ৮ হাজার বাড়ি তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। এবার আরও ৫ হাজার বাড়ি তৈরি করে দেওয়ার টার্গেট রয়েছে তাদের।
৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে জলপাইগুড়ি শহরে ‘আম্রুত’ প্রকল্পে তিস্তা থেকে জল তুলে পরিশোধনের পর তা বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হবে বলে পুরসভার পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ৩১ তারিখ শহরের রায়কতপাড়ায় রিজার্ভার থেকে জল সরবরাহ শুরু হলেও তা বাসিন্দাদের বাড়িতে পৌঁছয়নি। এনিয়ে পুর কর্তৃপক্ষের সাফাই, বেশ কয়েক বছর ধরে রিজার্ভার ও পাইপ পড়ে রয়েছে। ফলে সেগুলি পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত হতে সময় লাগবে। ১৫ ফেব্রুয়ারির আগে বাড়ি বাড়ি পানীয় জল দেওয়া সম্ভব নয়। বিরোধীদের অবশ্য বক্তব্য, বাসিন্দাদের বাড়িতে যদি পরিস্রুত পানীয় জল না পৌঁছয়, তাহলে ঘটা করে উদ্বোধন করা হল কেন? পুরপ্রধানের দাবি, জীবাণুমুক্ত না হওয়ার আগে বাড়িতে জল দিয়ে দিলে বিপদ ঘটতে পারে। সেকারণেই আমরা কিছুদিন সময় নিয়েছি। ইন্দোরের মতো ঘটনা জলপাইগুড়িতে ঘটুক, আমরা তা চাই না। • নিজস্ব চিত্র।