সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সম্প্রতি আলিপুরদুয়ারে চা শ্রমিকদের বলেছিলেন বাগানের ৪০০-৪৫০ বুথে আমাদের জেতান। জিতলে শ্রমিকদের মজুরি ৩০০ টাকা করে দেওয়া হবে। তারপরেই চা মহল্লায় শ্রমিকদের রাজ্য সরকারের উন্নয়নের পাঁচালি শোনাতে কোমর বেঁধে নেমে পড়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-কর্মীরা।
শ্রমিকদের বাড়ি বাড়ি ছাড়াও চা মহল্লার অলিগলিতে মাইকিং করেও উন্নয়নের পাঁচালি শোনাচ্ছেন তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। আর হাঁড় কাঁপানো ঠান্ডাকে উপেক্ষা করে প্রতিটি জায়গায় উন্নয়নের পাঁচালি শুনতে ভিড় আছড়ে পড়ছে শ্রমিকদের। মাইকে উন্নয়নের পাঁচালির কথা শুনে চা মহল্লায় রব উঠছে ‘আও আও উন্নয়নের পাঁচালি করকে দিদিকে বাত শোন’। অর্থাৎ এসো এসো উন্নয়নের পাঁচালিতে দিদির কথা শোন। উন্নয়নের পাঁচালি শুনতে শ্রমিকদের এই আগ্রহ দেখে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মুখে চওড়া হাসি।
বৃহস্পতিবার মাদারিহাটের রাঙালিবাজনা গ্রাম পঞ্চায়েতের একটি বুথে উন্নয়নের পাঁচালি শোনাতে দলীয় ২৫ জন কর্মীকে নিয়ে হাজির হয়েছিলেন জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ রমেশ মিনজ। এদিন রাঙালিবাজনার বাড়ি বাড়ি গিয়ে তৃণমূল কর্মীরা শ্রমিকদের পাঁচালি শোনাচ্ছেন। রমেশ মিনজ বলেন, উন্নয়নের পাঁচালি শোনার কর্মসূচিতে সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে গত ১৫ বছরে রাজ্য সরকার চা শ্রমিকদের জন্য কী কী কাজ করেছে। প্রচণ্ড ঠান্ডা উপেক্ষা করে শ্রমিকরা আগ্রহ নিয়ে রাজ্য সরকারের উন্নয়নের পাঁচালি শুনছেন। এটা সত্যিই ইতিবাচক দিক।
চা বলয় কালচিনিতে আবার বাড়ি বাড়ি ছাড়াও শ্রমিক মহল্লাগুলিতে মাইকিং করে উন্নয়নের পাঁচালি শোনাচ্ছেন তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। তৃণমূলের কালচিনির চা শ্রমিক নেতা ওম দাস বলেন, বাড়ি বাড়ি ছাড়াও চা মহল্লার গলিগুলিতে মাইকিং করেও পাঁচালি শোনাচ্ছি। এতে শ্রমিকদের মধ্যে শ্রমিকরা মাইকে উন্নয়নের পাঁচালির কথা শুনে ঘর থেকে বেরিয়ে আসছেন।
রাজ্য সরকার চা শ্রমিকদের চা সুন্দরী প্রকল্পে ঘর বানিয়ে দিয়েছে। শ্রমিকদের জমির পাট্টা দিয়েছে। প্রতিটি বাগানে ক্রেশ ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র তৈরি হয়েছে। বাগানে অ্যাম্বুলেন্স চালু হয়েছে। বাগানগুলিতে পরিস্রুত পানীয় মিলছে। শ্রমিকদের জয় জোহার প্রকল্পের সুবিধা মিলছে। শ্রমিকদের নিঃশুল্ক রেশন মিলছে। সম্প্রতি দুর্গম চা বাগানগুলির শ্রমিক পড়ুয়াদের জন্য স্কুল বাসও চালু করেছে রাজ্য সরকার।
তৃণমূল চা বাগান শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক বীরেন্দ্র বড়া ওরাওঁ বলেন, শ্রমিকরা বুঝে গিয়েছেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকার নয়, রাজ্য সরকারই তাদের জন্য উন্নয়নের কাজ করে চলেছে। আসন্ন বিধানসভা ভোটেই আমরা তার ফল পাব।