• ডাওহিলের জঙ্গলে ‘ব্ল্যাক ডিয়ার’! কার্শিয়াংয়ে বিরল দৃশ্য
    বর্তমান | ০৯ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: এবার দেখা মিলল ব্ল্যাক ডিয়ার বা কালো হরিণের। ব্ল্যাক প্যান্থার বা ব্ল্যাক লেপার্ড (কালো চিতাবাঘ) পর বুধবার ডাওহিলের জঙ্গলে দেখা গিয়েছে কালো হরিণকে। বিরল প্রজাতির এই হরিণকে ঘিরে আলোড়ন পড়েছে বনদপ্তরের অন্দরে। প্রাথমিকভাবে বনদপ্তরের আধিকারিকরা এটিকে বার্কিং ডিয়ার প্রজাতির মনে করলেও তাঁরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখছেন। কারণ হিমালয় সংলগ্ন নেপাল, ভুটান, চীনের পার্বত্য এলাকায় ব্ল্যাক মাস্ক ডিয়ারের দেখা মেলে। যা আরও বিরল প্রজাতির। সেক্ষেত্রে ডাওহিলে দেখা পাওয়া কালো হরিণটি ব্ল্যাক মাস্ক ডিয়ার কি না, তা খতিয়ে দেখছে বনদপ্তর। 

    কার্শিয়াংয়ের ডিএফও দেবেশ পান্ডে বলেন, ওই কালো হরিণ বার্কিং ডিয়ারের প্রজাতির। সম্ভবত জিনগত কারণে হরিণের দেহের রং কালো। এখানে এই প্রথম এমন হরিণের দেখা মিলেছে। এটা এখানকার জীব বৈচিত্রের নতুন সংযোজন। তাও ওই হরিণের সম্পর্কে আরও খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।

    দার্জিলিং জেলার বনাঞ্চলগুলির মধ্যে ডাওহিল অন্যতম। এটি কার্শিয়াং শহরে অবস্থিত। সমতল থেকে এর উচ্চতা সাড়ে চার হাজার ফুট। এই জঙ্গল বনদপ্তরের কার্শিয়াং ডিভিশনের অধীনে। বুধবার দুপুরে অফিস থেকে বেরিয়ে জঙ্গলের দিকে যেতেই হরিণটির দেখা পান খোদ ডিএফও। দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ঝোপের মধ্যে সেটি দাঁড়িয়েছিল। এরপর সেটিকে ক্যামেরাবন্দি করেন দেবেশবাবু। তিনি নিজেই সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন। 

    ডিএফও বলেন, এ ধরনের হরিণ এখানে আরও থাকতে পারে। এ ব্যাপারে জঙ্গলে আরও নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে। বনদপ্তরের এক আধিকারিক জানান, পরিবেশগত অথবা জিনগত কারণে ওই হরিণের দেহে মেলানিনের পরিমাণ বেড়ে যায়। সেই কারণে হরিণটি কালো। এটাকে মেলানিস্টিক প্রজাতির হরিণও বলা হয়। 

    ডাওহিলে পাইনের পাশাপাশি, অর্কিড, রডোডেনড্রন সহ বিভিন্ন ধরনের ফুল গাছ রয়েছে। এখানে বেশ কয়েকবার কালো চিতাবাঘ (মেলানিস্টিক) বা ব্ল্যাক প্যান্থারের (ব্ল্যাক লেপার্ড) দেখা মিলেছে। এমনকী ব্ল্যাক ট্যারেনটুলারও দেখা মিলেছে এখানকার জঙ্গলে। এবার কালো হরিণের হদিশ মেলায় বনদপ্তরের কর্তারা উচ্ছ্বসিত। 

    বনদপ্তরের আধিকারিকদের একাংশের কথায়, এখানকার চিতাবাঘ ও হরিণ কী কারণে কালো রঙের হচ্ছে, তা স্পষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। এ ধরনের আরও কোনও প্রাণী এখানে আছে কি না, তার খোঁজ চলছে। এদিকে, দার্জিলিং জেলার একপাশে রয়েছে নেপাল, অন্যদিকে ভুটান। ওই দুই দেশের পার্বত্য এলাকায় ব্ল্যাক মাস্ক ডিয়ারের বিচরণ রয়েছে। বনদপ্তরের একাংশের ধারণা, প্রতিবেশী রাষ্ট্রের জঙ্গল থেকেই সম্ভবত ব্ল্যাক্স মাস্ক ডিয়ার এখানে চলে এসেছে।  নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)