• গম্ভীরা গানে বাঙালি হেনস্তার প্রতিবাদের সুর শিল্পীদের গলায়
    বর্তমান | ০৯ জানুয়ারি ২০২৬
  • মঙ্গল ঘোষ, পুরাতন মালদহ: ভিনরাজ্যে কাজে গেলে শুধুমাত্র বাংলা ভাষায় কথা বলার ‘অপরাধে’ বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের চরম হেনস্তা হতে হচ্ছে। বৃহস্পতিবার পুরাতন মালদহের মঙ্গলবাড়ি জলঙ্গা মাঠে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ের সভা মঞ্চে গম্ভীরা গানের মাধ্যমে এবার বাংলাভাষীদের  হেনস্তা ও আক্রমণের প্রতিবাদের সুর শোনা গেল শিল্পীদের গলায়। ওই মঞ্চে একাধিক শিল্পী ‘নানা’ অর্থাৎ শিবের কাছে অত্যাচারের অভিযোগগুলি বিস্তারিত তুলে ধরেন। শুধু তাই নয়, সমস্যার সমাধানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য একাধিক সুযোগ সুবিধা ঘোষণা করেছেন। ভিনরাজ্য থেকে মালদহে ফিরে আসার বার্তা দিয়েছেন, সে কথাও শিল্পীরা গানের সুরের মাধ্যমে নানাকে জানিয়ে দেন। তাঁদের দাবি, পশ্চিমবঙ্গ সুরক্ষিত জায়গা। কেন্দ্রের বঞ্চনার পরেও রাজ্য সরকারের কন্যাশ্রী, রূপশ্রী, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, সবুজ সাথী সহ একাধিক প্রকল্পের সুবিধা দিয়েছেন। সেই সমস্ত সুবিধা পেলে কেউ আর দুঃখ, কষ্টে থাকবেন না বলে কয়েক মিনিটের অভিনয় এবং গানের মাধ্যমে স্পষ্ট করে দিয়েছেন শিল্পীরা।

    মালদহের গম্ভীরা শিল্পী অসীম রায় বলেন, আমরা ১০ জন গম্ভীরা শিল্পী ছিলাম। আমি দলনেতা। শ্রমিকরা ভিনরাজ্যে কাজে গিয়ে বাংলায় কথা বলায় অত্যাচারিত হচ্ছেন। ফলে ফিরে আসছেন তাঁরা। আমাদের রাজ্যে আর কোনও কিছুর অভাব নেই। সরকার অনেক প্রকল্প চালু করেছে। সেই সমস্ত বিষয় আমরা তুলে ধরেছি।

    গম্ভীরা মালদহের জনপ্রিয় লোকসঙ্গীত। ব্রিটিশ আমল থেকে গম্ভীরা গান জেলার ঐতিহ্য। গম্ভীরা দলে বাদ্যযন্ত্র নিয়ে একাধিক শিল্পী থাকেন। তাঁরা বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেন। ওই সঙ্গীতের গানের সুর হয় জেলার স্থানীয় মানুষের কথ্য ভাষায়। এতে মানুষ বিষয়টি সহজেই গ্রহণ করতে পারে। এদিন সভায় অগণিত পরিযায়ী শ্রমিকদের হেনস্তার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন মানিকচক এবং রতুয়ার পরিযায়ী শ্রমিক প্রভাস মণ্ডল, আশরাফুল হকেরা। বলেন, আমরা ভিনরাজ্যে কাজে গিয়েছিলাম। এখন কয়েক মাস ধরে বাড়িতে আছি। অত্যাচারের ভয়ে আর যাইনি। পরিবারের সদস্যরা বাধা দিচ্ছে। • নিজস্ব চিত্র।
  • Link to this news (বর্তমান)