• জন্মের শংসাপত্র পেতে দৈনিক ১৫০ আবেদন, এসআইআর: নথি জোগাড়ে পুরসভায় তদ্বির
    বর্তমান | ০৯ জানুয়ারি ২০২৬
  • সুব্রত ধর, শিলিগুড়ি: এসআইআর আতঙ্ক! তাই জন্মের শংসাপত্র সংগ্রহের হিড়িক শিলিগুড়িতে। পুরসভা সূত্রে খবর, জন্মের শংসাপত্রের জন্য দৈনিক আবেদন জমা পড়ছে প্রায় ১৫০টি। যারমধ্যে কেউ ৪৯, কেউ ৫৮, আবার কেউ ৭১ বছর আগের সার্টিফিকেটের আবদেন করছেন। নির্বাচন কমিশনের কাছে নাগরিকত্ব প্রমাণেই এমন নথি জোগাড়ে তৎপর হয়েছেন নাগরিকরা। পুরনো সেই নথি ঘাটতে গিয়ে কালঘাম ছুটেছে পুরকর্মীদের। এই অবস্থায় বৃহস্পতিবার ইঁদুর তার কেটে দেওয়ায় সার্ভার বিগড়ে যায়। ফলে জন্ম-মৃত্যুর সার্টিফিকেট ডিজিটাইজেশন করার কাজ ব্যহত হয়। সমগ্র পরিস্থিতি নিয়ে শহরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। 

    এসআইআরের শুনানিতে যে ১৩টি নথি দাখিলের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলির মধ্যে জন্মের শংসাপত্র একটি। তাই শুনানিপর্ব শুরু হতেই নাগরিকদের মধ্যে সেই শংসাপত্র সংগ্রহের হিড়িক পড়েছে। যারমধ্যে একাংশ খসড়া ভোটার তালিকায় ম্যাপিংহীন ভোটার। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, সাধারণত দৈনিক জন্মের নতুন শংসাপত্র সংগ্রহের আবেদন জমা পড়ে প্রায় ৪০টি। এসআইআরের হিয়ারিং শুরুর পর আবেদনের সংখ্যা প্রায় চারগুণ বেড়েছে। অধিকাংশ ৪০ থেকে ৭১ বছরের পুরনো জন্মের সার্টিফিকেটের আবেদন করছেন। এজন্য শুধু শিলিগুড়ি শহর নয়, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, উত্তর দিনাজপুর, মালদহের ভূতনি প্রভৃতি এলাকার বাসিন্দারা এখানে আসছেন। 

    পুরসভার জন্ম-মৃত্যু বিভাগের মেয়র পরিষদ সদস্য অভয়া বসু বলেন, বিজেপির ‘কাঠপুতুল’ নির্বাচন কমিশনের এসআইআর ঘিরে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করেছে। বিশেষ করে ম্যাপিংহীন ভোটাররা নিজভূমে পরবাসী হওয়ার আশঙ্কা করছেন। তাই নগরিকত্ব প্রমাণ করতে তাঁরা পুরনো জন্মের সার্টিফিকেট জোগাড় করছেন। তাই এসআইআর শুরুর পর দিনে জন্মের সার্টিফিকেটের আবেদন পড়ছে প্রায় ১৫০টি  করে। 

    পুরসভা সূত্রের খবর, গত দশ মাসে এখানে জন্মের সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন জমা পড়েছে ৫৯৫১টি। এরমধ্যে চলতি মাসের পাঁচদিনে আবেদনের সংখ্যা ৬৫০টির কাছাকছি। কয়েকজন আবেদনকারী বলেন, ভোটাধিকার বজায় রাখতেই জন্মের সার্টিফিকেট জোগাড় করছি। পুরসভার জন্ম-মৃত্যু বিভাগ সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৯৫৫, ১৯৬৮, ১৯৭৬ এবং ১৯৭৭ সালের জন্মের সার্টিফিকেটের আবেদন করেছেন। সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীদের কেউ সার্টিফিকেট হারিয়ে ফেলেছেন। আবার কেউ কেউ এই প্রথম সার্টিফিকেট তুলছেন। অনেকে আবার জন্মের সার্টিফিকেট ডিজিটাইজেশন করার আবেদন করছেন। পুরনো ফাইল ঘেঁটে তাঁদের সার্টিফিকেট তৈরি করতে গিয়ে ঘামছুটে যাচ্ছে। 

    এদিকে, পুরসভার সংশ্লিষ্ট সেলে ইঁদুরের উপদ্রব অস্বাভাবিক। এদিন ইঁদুর তার কেটে দেওয়ায় সংশ্লিষ্ট সেলের সার্ভার বসে যায়। ফলে দিনভর পুরকর্মীরা কোনও কাজ করতে পারেননি। পুরসভার জন্ম-মৃত্যু বিভাগের মেয়র পারিষদ বলেন, বর্তমানে বিভাগের সমস্ত কাজকর্ম অনলাইনে করা হয়। ইঁদুর তার কেটে দেওয়ায় সার্ভার বসে গিয়েছিল। এতে জন্ম ও মৃত্যুর সার্টিফিকেট প্রদান করার কাজ ব্যহত হয়। বিকেলের মধ্যে সার্ভার স্বাভাবিক করা হলেও কোনও সার্টিফিকেট দেওয়া সম্ভব হয়নি। আজ, শুক্রবার ফের পুরোদমে কাজকর্ম হবে বলে জানান তিনি।
  • Link to this news (বর্তমান)