রেজাল্ট বিভ্রাট, স্কুলের মধ্যে শিক্ষকের গায়ে হাত পড়ুয়ার, জলপাইগুড়ির পাহাড়পুর নছিরুদ্দিন হাইস্কুলে চাঞ্চল্য
বর্তমান | ০৯ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: রেজাল্ট বিভ্রাট। আর তারই জেরে স্কুলের মধ্যে শিক্ষকের গায়ে হাত তোলার অভিযোগ উঠল এক ছাত্রের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার জলপাইগুড়ির পাহাড়পুর নছিরুদ্দিন হাইস্কুলের এ ঘটনায় ব্যাপক আলোড়ন ছড়ায় এলাকায়।
স্কুল সূত্রে খবর, মার্কশিটে অভিযুক্ত ছাত্রের বাবার নাম ভুল আসে। এনিয়ে ওই ছাত্র এদিন স্কুলের মধ্যে চিৎকার চেঁচামেচি করতে থাকে। তৎক্ষণাৎ তার রেজাল্ট সংশোধন করে দেওয়ার দাবি জানায়। দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক ওই ছাত্রের কাছে কিছুক্ষণ সময় চেয়ে নেন। কিন্তু মার্কশিট সংশোধনের জন্য সময় দিতে নারাজ ওই ছাত্র ঝামেলা শুরু করে দেয়। উত্তেজিত হয়ে সে শিক্ষকের গায়ে হাত তোলে। এমনকী ওই শিক্ষককে ধাক্কা দেয় বলে অভিযোগ। স্কুলের মধ্যে শিক্ষকের সঙ্গে একজন ছাত্রের এহেন আচরণে শোরগোল পড়ে যায়। স্কুলের পক্ষ থেকে অভিযুক্ত ছাত্রের অভিভাবককে ডাকিয়ে আনা হয়। তাঁদের গোটা বিষয়টি জানান শিক্ষকরা। ছাত্রের ভবিষ্যতের কথা ভেবে পুলিশে কিংবা শিক্ষাদপ্তরের কাছে এনিয়ে অবশ্য অভিযোগ জানাতে নারাজ ‘হেনস্তা’র শিকার ওই শিক্ষক।
স্কুল পরিচালন কমিটির সভাপতি মকবুল হোসেন বলেন, এদিন স্কুলে যে ঘটনা ঘটেছে, তা অনভিপ্রেত। একজন শিক্ষকের গায়ে হাত তোলা কিংবা তাঁর সঙ্গে কোনও ছাত্র খারাপ আচরণ করবে, এটা মোটেই মেনে নেওয়া যায় না। ছাত্রটি কেন এ ধরনের ঘটনা ঘটাল, তা নিয়ে আমরা তার সঙ্গে কথা বলব। ছাত্রটিরও ভবিষ্যৎ আছে, সেকথা মাথায় রেখে তাকে বোঝানোর চেষ্টা করা হবে। স্কুলে ডাকিয়ে এনে ওই ছাত্রের অভিভাবককেও বিষয়টি জানানো হয়েছে।
স্কুল সূত্রে খবর, একই নামে নবম শ্রেণিতে দু’জন পড়ুয়া ছিল। তাদের একজন ফেল করেছে। অন্যজন পাশ করেছে। ‘বাংলার শিক্ষা’ পোর্টালে রেজাল্ট আপলোড করার সময় ওই দুই ছাত্রের বাবার নাম অদলবদল হয়ে যায়। রেজাল্ট হাতে পেয়ে বাবার নাম ভুল দেখে যে ছাত্রটি পাশ করেছে, সে এদিন স্কুলে এসে চেঁচামেচি শুরু করে দেয়। যা পরে পৌঁছে যায় বাড়াবাড়ির পর্যায়ে।
বিষয়টি নিয়ে জানতে এদিন ‘হেনস্তা’র শিকার ওই শিক্ষককে ফোন করা হলে প্রথমে তিনি বলেন, স্কুলের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, এনিয়ে আমরা সংবাদ মাধ্যমকে কিছু বলব না। যদিও পরে তিনি স্বীকার করেন, ছাত্রটি তার গায়ে হাত তুলেছে। এমনকী তাঁকে ধাক্কাধাক্কি করেছে।
স্কুল পরিচালন সমিতির সভাপতি বলেন, যতটুকু জানতে পেরেছি, মার্কশিটে বাবার নাম ভুল আসায় ওই ছাত্রটি দাবি করে, এখনই তা সংশোধন করে দিতে হবে। কিন্তু যেহেতু নির্দিষ্ট পোর্টালে না ঢুকে মার্কশিট ঠিক করা সম্ভব নয়, সেজন্য ঘণ্টা দু’য়েক সময় চান শিক্ষক। কারণ, পোর্টালে সবসময় সার্ভার ঠিক থাকে না। তাছাড়া সংশোধনের কাজ করতেও কিছুটা সময় লাগবে। কিন্তু ছাত্রটি সময় দিতে নারাজ ছিল। এনিয়ে শিক্ষকের সঙ্গে তার বচসা শুরু হয়। তারপরই সে শিক্ষককে ধাক্কা মারে। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সেটা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। • পাহাড়পুর নছিরুদ্দিন হাইস্কুল। - নিজস্ব চিত্র।