• হাসপাতালের পিছন থেকে মহিলার রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার, ক্ষতবিক্ষত শিশুসন্তান, সামশেরগঞ্জের তারাপুরে চাঞ্চল্য
    বর্তমান | ০৯ জানুয়ারি ২০২৬
  • সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: পিঠে ধারালো অস্ত্রের কোপে গভীর ক্ষত রয়েছে। পরনের শাড়ি রক্তে ভিজে গিয়েছে। অজ্ঞাতপরিচয় মহিলার ক্ষতবিক্ষত দেহের পাশেই পড়ে এদিক-ওদিক তাকাচ্ছে বছর তিনেকের শিশুপুত্র। রক্তাক্ত শিশুটির গায়েও ক্ষতচিহ্ন আছে। বৃহস্পতিবার সকালে সামশেরগঞ্জের তারাপুর কেন্দ্রীয় শ্রমিক হাসপাতালের কাছে এই দৃশ্যে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

    পুলিশ ওই হাসপাতালের পিছনের বাগান থেকে মহিলার দেহটি উদ্ধার করেছে। দেহ ময়নাতদন্তের জন্য জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। শিশুটিকে উদ্ধার করে স্থানীয় অনুপনগর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। পরে তাকে জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। ওই মহিলাকে যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করা হয়েছে-সেবিষয়ে পুলিশ নিশ্চিত। মহিলার পরিচয় জানতে ও এই খুনের ঘটনায় জড়িতদের খুঁজে বের করতে পুলিশ তদন্তে নেমেছে। ওই মহিলা স্থানীয় কেউ নন বলেই এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন।

    এবিষয়ে সামশেরগঞ্জ থানার এক আধিকারিক বলেন, মৃতার পিঠে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। শিশুটির শরীরেও ক্ষতচিহ্ন রয়েছে। আমরা মৃতদেহ ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছি। পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

    সামশেরগঞ্জের ১২নম্বর জাতীয় সড়কের পাশেই রয়েছে তারাপুর কেন্দ্রীয় শ্রমিক হাসপাতাল। এই হাসপাতালের পিছনে কয়েক বিঘা জমিতে বিস্তৃত আম ও লিচুর বাগান। এদিন সকালে সেই বাগানের মাঝে একটি লিচুগাছের তলায় ওই মহিলার দেহ পড়ে ছিল। আশপাশে মাটিতে রক্তের ছোপ। শরীরের নীচের অংশে কাপড় অবিন্যস্ত। মৃতদেহের থেকে প্রায় ১০০মিটার দূরত্বে বছর তিনেকের শিশুটি রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে মিটিমিটি তাকাচ্ছিল। তারও গলায়, কানে ও ঠোঁটের কোণায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল। ক্ষতস্থান থেকে রক্ত ঝরে জমাট বেঁধে গিয়েছিল। স্থানীয়রাই প্রথমে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। 

    পুলিশ জানিয়েছে, মহিলার শাড়ি অবিন্যস্ত অবস্থায় ছিল। তবে খুনের আগে তাঁর উপর যৌন নির্যাতন করা হয়েছে কিনা-তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে আসার পরই বলা সম্ভব হবে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ দু’টি ব্যাগ বাজেয়াপ্ত করেছে। পুলিশের অনুমান, কাপড়চোপড়ে ভর্তি ব্যাগ দু’টি ওই মহিলারই। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই আশপাশের এলাকা থেকে বহু কৌতূহলী মানুষ এসে ঩ভিড় জমান। কিন্তু কেউই ওই মহিলাকে চিনতে পারেননি। স্থানীয়রা জানান, ওই মহিলাকে আগে কখনও এলাকায় দেখা যায়নি। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, অন্য কোনও এলাকা থেকে হাসপাতালের পিছনে নিয়ে এসে ওই মহিলাকে খুন করা হয়েছে। আর খুনের সময়ই শিশুটির গায়েও ধারালো অস্ত্রের আঘাত লেগে থাকতে পারে। পুলিশ মহিলার পরিচয় জানার চেষ্টা চালাচ্ছে।

    এলাকার বাসিন্দা সঞ্জয় মাহারা বলেন, বিষয়টি জানতে পেরেই পুলিশে খবর দিই। তারা এসে দেহ উদ্ধার করে নিয়ে যায়। পুলিশ পৌঁছনোর আগেই আমরা শিশুটির চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি।

    স্থানীয় গাজিনগর মালঞ্চা পঞ্চায়েতের প্রধান রমিশা বিবি বলেন, সকালেই স্থানীয় লোকজনের মুখে এঘটনার খবর পাই। মৃত মহিলাকে এলাকার কেউ চিনতে পারেনি। জখম শিশুটির চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আসলে কী ঘটেছে-সেটা পুলিশ তদন্ত করে দেখুক।
  • Link to this news (বর্তমান)