নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: তৃণমূল নেতা কুরবান শা খুনের ঘটনায় হুলিয়া জারি থাকা পাঁশকুড়ার গোলাম মেহেন্দি দীর্ঘ ছ’ বছর পুলিশের খাতায় ফেরার। অথচ, সেই গোলাম মেহেন্দিকে সম্প্রতি দেখা গেল পিংলা ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি শেখ সবেরাতির ছেলের জমকালো বিয়ের অনুষ্ঠানে! সেখানে ঘাটালের সাংসদ দেব থেকে একাধিক নেতা এবং পুলিশ অফিসার উপস্থিত ছিলেন। ‘পলাতক’ গোলাম মেহেন্দি ভিআইপিদের সঙ্গে ফটোশ্যুটও করেছেন। বৃহস্পতিবার ওই ছবি সামনে আসতেই হইচই শুরু হয়। নিহত কুরবান শা’র দাদা আফজল শা এনিয়ে পুলিশ সুপার, মহকুমা পুলিশ অফিসার এবং পাঁশকুড়া থানায় লিখিত অভিযোগও করেন।
২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর। পাঁশকুড়া থানার মাইসোরা বাজারে খুন হন তৃণমূল নেতা কুরবান শা। তিনি পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি এবং দলের ব্লক কার্যকরী সভাপতি ছিলেন। সেই খুনের ঘটনায় আনিসুর রহমান সহ আটজন গ্রেপ্তার হয়। পাঁচ বছর জেলবন্দি থাকার পর ২০২৫ সালে তারা শর্ত সাপেক্ষে জামিন পায়। কিন্তু, পাঁশকুড়ার মাংলই গ্রামের বাসিন্দা গোলাম মেহেন্দি এবং রাজশহর গ্রামের শীতল মান্না অভিযুক্ত হয়েও গ্রেপ্তার হয়নি। তাদের বিরুদ্ধে হুলিয়া জারি হয়। মাইসোরার বিভিন্ন জায়গায় ছবি সমেত পোস্টার সাঁটানো হয়। এমনকী, সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করা হয়। তবুও ওই দু’জনের ‘খোঁজ’ পায়নি পুলিশ। গ্রেপ্তারের দাবিতে দু’জনের অবস্থান জানিয়ে একাধিকবার পুলিশের কাছে আবেদন জানিয়েছেন আফজল শা। তাতেও কাজ হয়নি। শুধু তাই নয়, গোলাম মেহেন্দি ও শীতল দীঘায় হোটেল লিজ নিয়ে ব্যবসা করছে বলেও পুলিশের কাছে নালিশ করেছিলেন আফজল। তারপরও অধরা থেকে গিয়েছে দু’জন।
এক সপ্তাহ আগে পিংলা ব্লক তৃণমূল সভাপতির ছেলের বিয়ের অনুষ্ঠান হয়। সেখানে সশরীরে হাজির ছিল গোলাম মেহেন্দি। সেই ছবি প্রকাশ্যে আসতেই নতুন করে গ্রেপ্তারের দাবি তুলতে শুরু করেছে কুরবানের পরিবার। তাদের দাবি, পুলিশ গোলাম ও শীতলকে খুঁজে পাচ্ছে না বলে আদালতে রিপোর্ট দিয়েছে। অথচ, বিয়ের অনুষ্ঠানে সেই গোলাম দিব্যি উপস্থিত। সেখানে আবার একঝাঁক নেতা থেকে পুলিশ অফিসারও হাজির।
জানা গিয়েছে, পিংলা ব্লক তৃণমূল সভাপতি শেখ সবেরাতি এবং পলাতক গোলাম মেহেন্দি সম্পর্কে ভায়েরাভাই। তাই বিয়ের অনুষ্ঠানে মেহেন্দিকে দামী কোর্ট, প্যান্ট পরে ফটো তুলতে দেখা গিয়েছে। এনিয়ে সবেরাতিকে বার বার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। আফজল শা বলেন, ‘গোলাম মেহেন্দি ও শীতল মান্নাকে নাগালে পেতে দু’জনের লোকেশন কোথায়, কখন রয়েছে সেটা ধারাবাহিকভাবে প্রমাণ সহ দিয়েছি। তারপরও ওই দু’জনকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ! এটা আশ্চর্যের। উল্টে খুনের মামলায় আইনি লড়াই চালানোর জন্য আমাদের উপর নানাভাবে হেনস্তা করা হচ্ছে। আমরা চাই, গোলাম ও শীতলকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনা হোক।’