নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: তাঁর বয়স ৮৩ বছর। শরীর ও মন কিছুটা কমজোরি হলেও প্রতিদিন দিব্যি খাওয়াদাওয়া করে পাড়ায় ঘুরতে যান। নদীতে স্নানও করেন। তিনি লাইনে দাঁড়িয়ে ভোটও দেন। অথচ আরামবাগের বাসিন্দা প্রভাবতী ভৌমিক ভোটার তালিকায় ‘মৃত’! সালেপুর ২ পঞ্চায়েতের ডোঙ্গল গ্রামের বাসিন্দারা প্রভাবতীদেবীর ভোটার তালিকায় ফের নাম তুলতে গিয়ে হয়রান হতে হয়েছে পরিবারের সদস্যদের। কিন্তু চূড়ান্ত তালিকায় তাঁর নাম উঠবে কিনা, তা নিয়ে পরিবারের সংশয় এখনও কাটেনি। এই ঘটনায় নির্বাচন কমিশনকে কটাক্ষ করেছে তৃণমূলও।
প্রভাবতীদেবীর মেজ ছেলে উমাশঙ্কর ভৌমিক বলেন, বাড়িতে আমি ও মা ছাড়া আমার স্ত্রী আছেন, ভাইরাও ভোটার। ইনিউমারেশন ফর্ম আমাদের সবার নামে আসে। কিন্তু মায়ের ফর্ম পাইনি। তার জেরে বেশ চিন্তায় পড়ি। এরপর বিএলওর সঙ্গে কথা বলে নাম তোলার চেষ্টা করি। একাধিকবার অনলাইন সেন্টারে যাই। কিন্তু প্রথম দিকে কাজ হয়নি। ছুটতে হয় বিডিও অফিসেও। জানা যায়, মায়ের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। অথচ শেষবারের লোকসভা ভোটেও মা ভোট দিয়েছেন।
জানা গিয়েছে, উমাশঙ্করবাবু অসুস্থ। এসআইআর পর্বের মাঝে তাঁকে মুম্বইয়ে চিকিৎসা করাতেও যেতে হয়। তারপর সেখান থেকে ফিরে ভোটার তালিকায় ফের নাম তোলার জন্য প্রয়াজনীয় নথি অনলাইনে জমা করতে হয়েছে। কিন্তু তারজন্য তাঁকে প্রবল হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। তিনি জানান, চূড়ান্ত তালিকায় মায়ের নাম উঠবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এখন দেখা যাক, কী হয়। জীবিত অবস্থায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ হয়ে গেলে আমাদের খুবই অসুবিধায় পড়তে হতে পারে। এইধরনের ভুল কী করে হল, তাও বুঝতে পারছি না।
তৃণমূলের আরামবাগের কোঅর্ডিনেটর স্বপন নন্দী বলেন, যমালয়ে জীবন্ত মানুষ সিনেমা দেখেছিলাম। বাস্তবেও ডোঙ্গলে জীবিত বৃদ্ধাকে তালিকায় মৃত দেখানো হয়েছে। বৈধ ভোটারদের বাদ দিয়ে বিজেপি অন্য রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে। এখানেও নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করার চেষ্টা হচ্ছে। আমরা তা হতে দেব না।
পাল্টা বিজেপির আরামবাগ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি সুশান্ত বেরা বলেন, তৃণমূলের অভিযোগ ভিত্তিহীন। নির্বাচন কমিশন রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মাধ্যমে কাজ করছে। ওই বৃদ্ধার ক্ষেত্রে ভুল করেছে রাজ্য সরকারই। এখানে বিজেপির কোনও ভূমিকা নেই। -নিজস্ব চিত্র