• এসআইআর আতঙ্কে নন্দীগ্রামে বৃদ্ধের মৃত্যু
    বর্তমান | ০৯ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: এসআইআর আতঙ্কে এবার নন্দীগ্রামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হল। মৃতের নাম কাশীনাথ জানা (৬৮)। নন্দীগ্রাম-১ ব্লকের ভেকুটিয়ায় থাকতেন। চলতি এসআইআর পর্বে তিনি ইনিউমারেশন ফর্ম জমা করেননি। তাই খসড়া ভোটার তালিকায় তাঁর নাম ওঠেনি। এই অবস্থায় নাগরিকত্ব খোয়ানোর আশঙ্কায় ভুগছিলেন কাশীনাথবাবু। বুধবার রাতে তাঁর মৃত্যু হয়। বৃহস্পতিবার তৃণমূল কংগ্রেসের ব্লক কোর কমিটির সদস্য বাপ্পাদিত্য গর্গ, অঞ্চল সভাপতি রাখহরি ঘড়া সহ আরও অনেকে তাঁর বাড়িতে যান। কাশীনাথবাবুর এই মৃত্যুর জন্য নির্বাচন কমিশনকেই দায়ী করেছেন তৃণমূল নেতৃত্ব।

    জানা গিয়েছে, কাশীনাথবাবুর আদিবাড়ি হাওড়া জেলার বাগনানে। বেশ কয়েকবছর আগে তিনি বাগনান থেকে নন্দীগ্রাম-১ ব্লকের ভেকুটিয়ায় ভাগ্নের বাড়িতে চলে আসেন। ২০০২ সালের ভোটার লিস্টে ভেকুটিয়ায় তাঁর নাম ছিল না। ২০২৫ সালের লিস্টে তাঁর নাম ছিল। স্থানীয় ৩৯ নম্বর বুথের বিএলও তপনকুমার মাইতির দাবি, কাশীনাথবাবুর সন্ধান পাওয়া যায়নি বলে তাঁকে ইনিউমারেশন ফর্ম দেওয়া যায়নি। তাঁকে অ্যাবসেন্ট দেখানো হয়। এই অবস্থায় তাঁর ইনিউমারেশন ফর্ম জমা না পড়ায় খসড়া ভোটার লিস্টে নাম উঠেনি। ওই লিস্টে নাম না থাকায় নাগরিকত্ব খোয়ানোর আশঙ্কা থেকে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। সেকরণে মৃত্যু হয়েছে বলে পরিবারের দাবি। 

    ভেকুটিয়ার বাসিন্দা মাধবচন্দ্র বারিক বলেন, নিহত কাশীনাথবাবু দীর্ঘদিন ধরে আমার বাড়িতে ছিলেন। ২০০২ ভোটার তালিকায় নাম নেই। তাঁর কোনও লিঙ্কও ছিল না। তিনি এসআইআর ফর্ম জমা না করায় খসড়া ভোটার তালিকায় নাম ওঠেনি। এনিয়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। সেকারণে মৃত্যু হয়েছে। বিএলও তপনবাবু বলেন, আমি কাশীনাথ জানার এসআইআর ফর্ম দেওয়ার জন্য নানাভাবে চেষ্টা করেছি। কিন্তু, তাঁর খোঁজ পাইনি।

    এদিকে, নন ম্যাপিং ভোটারের পর এবার পূর্ব মেদিনীপুরে সন্দেহজনক অর্থাৎ লজিক্যাল ডিপক্রিপেন্সি ভোটারদের বাড়ি বাড়ি নোটিস পাঠানো শুরু হল। এক সপ্তাহ পর তাঁদের বিডিও অফিসে ডেকে শুনানি শুরু হবে। বৃহস্পতিবার পূর্ব মেদিনীপুরের অফিসার ইন-চার্জ ইলেকশন অনিরুদ্ধ নন্দী এমনটাই জানিয়েছেন। জেলায় আবারও কয়েক হাজার ভোটার নতুন করে নোটিস পাচ্ছেন। ঠিক কত সংখ্যক সন্দেহজনক ভোটার নোটিস পাচ্ছেন সেই তথ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়নি। তবে, সংখ্যাটা কয়েক হাজার হবে বলে খবর।পাঁশকুড়ার বিডিও মোহন ভার্মা বলেন, আমাদের ব্লকে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি ভোটারদের নোটিস পাঠানো শুরু হয়েছে। ঠিক কত সংখ্যক ভোটার নোটিস পাবেন সেটা আগামী এক-দু’দিনের মধ্যে ফাইনাল হয়ে যাবে। 

    পূর্ব মেদিনীপুরে এর আগে মোট ৪৬ হাজার ২৬২ ভোটারকে নন ম্যাপিং চিহ্নিত করে শুনানির নোটিস ধরানো হয়েছিল। গত ২৭ ডিসেম্বর থেকে তাঁদের নিয়ে ২৫টি বিডিও শুনানি শুরু হয়েছে। এই মুহূর্তে শুনানি প্রায় শেষের পথে। বাবা-মা, ঠাকুর্দা-ঠাকুমা এবং দাদু-দিদার সঙ্গে ম্যাপিং না হওয়া ভোটাররা শুনানিতে যেসব নথি জমা করেছেন তা খতিয়ে দেখার জন্য পূর্ব মেদিনীপুরে ১০জন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটকে নিয়ে একটি টিম গড়া হয়েছে। তাঁরা ওইসব নথি খতিয়ে দেখবেন।

    পূর্ব মেদিনীপুরে সন্দেহজনক ভোটারের সংখ্যা ৯৯ হাজার ৫০০। তবে, তাঁদের সকলকে নোটিস দেওয়া হবে না। তাঁদের মধ্যে ঝাড়াইবাছাই করার পর কয়েক হাজার ভোটারের বাড়ি বাড়ি ফের নোটিস যাবে। নন্দীগ্রাম-১ ব্লকের মহম্মদপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে ৬৩ নম্বর বুথের বিএলও সাবির মহম্মদ বলেন, আমার বুথে ১৫১ জন সন্দেহজনক ভোটার আছেন বলে জানানো হয়েছিল। এখন বলছে সংখ্যাটা বেড়ে ২৫৪ হয়েছে। তাঁদের অনেকে নোটিস পেতে পারেন। যদিও নোটিসের কপি এখনও আসেনি।  কাশীনাথ জানা।
  • Link to this news (বর্তমান)