• ভিনরাজ্যে থাকা সন্দেহজনক ভোটারদের সশরীরে আসতে হবে না শুনানি কেন্দ্রে
    বর্তমান | ০৯ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: চিকিৎসা, পড়াশোনা কিংবা যাঁরা অফিসের কাজে বাইরে রয়েছেন, তাঁদের সরাসরি শুনানি কেন্দ্রে না এলেও চলবে। এছাড়া, অন্য কোনও কারণে কেউ বাইরে থাকলে তাদের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম কার্যকর হবে। পরিবারের লোকজনদের উপযুক্ত নথি দিয়ে শুনানি কেন্দ্রে পাঠালেই চলবে। তবে, যাঁকে শুনানি কেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে তিনি যে পরিবারের সদস্য, সেই প্রমাণও দিতে হবে। তবেই কমিশন শুনানির বৈধতা দেবে। আনম্যাপড এবং লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি ভোটারদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য। অনেকেই বিভিন্ন কারণে ভিনরাজ্যে থাকেন। মুর্শিদাবাদ, মালদহ, উত্তর দিনাজপুরের মতো বিভিন্ন জেলার পরিযায়ী শ্রমিকরা বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে রয়েছেন। ছুটি নিয়ে বাড়িতে আসা তাঁদের কাছে সমস্যার কারণ হয়ে উঠেছে। অনেকেই ছুটি পাচ্ছেন না। এছাড়া, আর্থিক ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাঁদের ক্ষেত্রেও এভাবে শুনানি হলে উপকৃত হবেন।

    কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, ‘সন্দেহজনক’ ভোটারদের নোটিস দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। আগের মতো ব্লক অফিসগুলিতেই শুনানি হবে। প্রতিদিন ১০০ জনের শুনানি হবে বলে প্রাথমিকভাবে ঠিক হয়েছে। ভোটারদের দাবি, শুধু ৮৫ ঊর্ধ্ব নয়, ৬০ পেরনো বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদেরও বাড়িতে শুনানি করতে হবে। তাঁদের অনেকেই অসুস্থ রয়েছেন। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার বাসিন্দাদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা বেশি। প্রত্যন্ত গ্রাম থেকেও বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের শুনানি কেন্দ্রে আসতে হচ্ছে। অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। বুধবার বর্ধমানে শুনানি কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে থাকার সময় এক ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে লুটিয়ে পড়েন। তাঁর পরিবারের লোকজন বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ রয়েছেন। মৃগীরোগ থাকায় যেকোনও সময় অসুস্থ হয়ে পড়েন। শুনানি কেন্দ্রে তাঁকে নিয়ে আসা যথেষ্টই ঝক্কির ছিল। তারপরও তাঁকে আনতে হয়েছে। কমিশনের উচিত প্রত্যেক অসুস্থদের বাড়িতে‌ই শুনানি করা। আধিকারিকদের একাংশের আশঙ্কা ‘সন্দেহজনক’ ভোটারদের শুনানি পর্বে অশান্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই কারণে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।

    বিএলও অধিকার রক্ষা কমিটির জয়েন্ট কনভেনর বাপ্পাদিত্য বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এই নির্দেশ অনেক আগেই কমিশনের দেওয়া উচিত ছিল। ইতিমধ্যে অনেকেই টাকা খরচ করে অন্য রাজ্য থেকে এসে শুনানি কেন্দ্রে হাজির হয়েছেন। আসলে কমিশনের কোনও পরিকল্পনা নেই। যখন যা মনে হচ্ছে সেটাই করছে। নামের বানান বা পদবি ভুলের সংশোধন বিএলও’দের দিয়েই করানো হবে বলে প্রথমে ঠিক হয়েছিল। এখন আবার তারা সিদ্ধান্ত বদল করে ফেলেছে। শুধু পূর্ব বর্ধমান জেলাতেই সাড়ে তিন লক্ষ ‘সন্দেহজনক’ ভোটার ডাক পাচ্ছেন। অন্যান্য জেলায় সংখ্যাটা অনেক বেশি। এমন অনেক পরিবার রয়েছে, যেখানে সদস্যদের সকলেই কর্মসূত্রে বাইরে থাকেন। তাঁদের ক্ষেত্রে কী হবে? কমিশনের উচিত ছিল অনলাইনে শুনানির ব্যবস্থা করা। কোনও কোনও পরিবারের ছেলে বা মেয়ে বাইরে থাকেন। বাড়িতে বৃদ্ধ মা-বাবা রয়েছেন। তাঁদের ক্ষেত্রে কী হবে, সেটাও স্পষ্ট করে বলা হয়নি।
  • Link to this news (বর্তমান)