ইলামবাজারে গ্রেপ্তার সোনামুখীতে তৃণমূল কর্মী খুনে মূল অভিযুক্ত সহ ২
বর্তমান | ০৯ জানুয়ারি ২০২৬
সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: সোনামুখীর চকাই গ্রামে তৃণমূল কর্মী সেকেন্দার খানকে গুলি করে খুনের ঘটনায় পাঁচমাস বাদে অবশেষে বুধবার পুলিশ মূল অভিযুক্ত সহ দু’জনকে বীরভূমের ইলামবাজার থেকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতদের নাম হাকিম শেখ ও ওয়াসিম শেখ। পুলিশ জানিয়েছে, তৃণমূল কর্মী খুনের ঘটনায় অভিযুক্তদের অধিকাংশকে আগেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে মূল অভিযুক্ত হাকিম শেখ ও তার এক সঙ্গী লুকিয়ে বেড়াচ্ছিল। বুধবার রাতে ওই দু’জনকে ইলামবাজার থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার তাদের বিষ্ণুপুর মহকুমা আদালতে তোলা হয়। মৃতের পরিবারের লোকজন তাদের ফাঁসির দাবি তুলে আদালত চত্বরে সরব হন। মৃতের বোন রুকসোনা বিবি এদিন বিষ্ণুপুর মহকুমা আদালত চত্বরে দাঁড়িয়ে বলেন, দুর্গাপুরে হাসপাতালে এক আত্মীয়কে দেখে ফেরার সময় দাদাকে গুলি করে খুন করা হয়। পুলিশ সব অভিযুক্তকেই একে একে গ্রেপ্তার করেছে। এদিন মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের খবর পেয়েই আমরা বিষ্ণুপুর আদালত চত্বরে আসি। আমরা হাকিম শেখের ফাঁসি চাই। অন্যান্য দোষীদের কঠিন শাস্তি চাই। প্রসঙ্গত, সোনামুখীর চকাইয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের বুথ সভাপতি নাসিম শেখ ও দলের অপর এক সক্রিয় কর্মী সেকেন্দার খানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলছিল। ২০২৫সালের ১মার্চ গ্রামে একটি নিকাশি নালা তৈরিকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ বাঁধে। তখন নাসিম গুলিবিদ্ধ হন। যদিও তিনি প্রাণে বেঁচে যান। ওই ঘটনায় পুলিশ সেকেন্দারকে গ্রেপ্তার করে। জেল থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে গ্রামে ফেরার পরেই ওই বছরের আগস্ট মাসের ১১তারিখে রাত ৯টা নাগাদ দুর্গাপুর থেকে বাইকে বাড়ি ফেরার সময় সেকেন্দার খান গুলিবিদ্ধ হন। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনার রাতেই নাসিমের দুই ছেলে ইব্রাহিম ও হাসিম শেখকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। পরে পুরুলিয়ার মানবাজারে লুকিয়ে থাকা নাসিম শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারপর ঘটনায় জড়িত ভিনজেলায় লুকিয়ে থাকা বাদশা খান, মনবোধ খান ও সম্রাট খানকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীকালে ওন্দার চাপড়া থেকে মূল অভিযুক্ত পলাতক হাকিম শেখের শ্বশুর সাজিব খানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে মূল অভিযুক্ত হাকিম শেখ ও তার সঙ্গী ওয়াসিম শেখ পালিয়ে বেড়াচ্ছিল। বুধবার তাদেরও গ্রেপ্তার করা হয়।