• আজ মতুয়াগড় বনগাঁয় অভিষেক, স্বাগত জানাতে প্রস্তুত ঠাকুরবাড়ি
    বর্তমান | ০৯ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত ও সংবাদদাতা, বনগাঁ: আজ, শুক্রবার দুপুরে ঠাকুরনগর ঠাকুরবাড়িতে আসছেন সাংসদ ও তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই উপলক্ষ্যে বনগাঁজুড়ে প্রস্তুতি চলছে। রাস্তার চারপাশ মুড়ে ফেলা হয়েছে তৃণমূলের পতাকা ও ব্যানারে। জোরকদমে চলছে প্রচার। হরিচাঁদ, গুরুচাঁদ ঠাকুরের মন্দির থেকে বড়মার মন্দির সাজিয়ে তোলা হয়েছে। অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মতুয়াদের রীতি মেনে ঠাকুরবাড়িতে অভিষেকের গলায় গামছা পরিয়ে অভ্যর্থনা জানানো হবে। প্রসাদ হিসেবে দেওয়া হবে ফল ও মিষ্টি। তাছাড়া বনগাঁর বিখ্যাত কাঁচাগোল্লা, নলেন গুড় দেওয়া হবে উপহার। এই সফর ঘিরে কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে ঠাকুরবাড়ি। বৃহস্পতিবার বিকেলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেখতে এসেছিলেন উচ্চপদস্থ পুলিশকর্তারা।

    মতুয়াদের বক্তব্য, মতুয়াগড়ে বিপুল পরিমাণ ভোটারের নাম বাদ যাওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে এসআইআরে। বাদ যাওয়ার সিংহভাগ মতুয়া সম্প্রদায়ভুক্ত মানুষ। দেশের প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বঙ্গ সফরে এসে মতুয়ারা কিভাবে নাগরিকত্ব পাবেন সে সম্পর্কে স্পষ্ট করে কিছু জানাননি। বুধবার রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে দেখা করে বিজেপি সমর্থিত মতুয়ারা। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর। নাগরিকত্বের উপর ভরসা না করে সিএএ’র আবেদনের নথি দিয়ে মতুয়াদের নাম যাতে তোলা যায় সেই আর্জি জানিয়েছেন শান্তনুরা। সবমিলিয়ে এবারের ভোট নিয়ে চূড়ান্ত দুশ্চিন্তায় মতুয়ারা। এছাড়া অনেকে জানিয়েছেন, শান্তনু ঠাকুর ও তাঁর দাদা সুব্রত ঠাকুরের দ্বন্দ্ব সর্বজনবিদিত। এছাড়া মতুয়া গোঁসাইকে ঠাকুরবাড়িতে নির্মমভাবে মারধরের ঘটনা পর্যন্ত ঘটেছে। এই ঘটনায় অভিযোগের তীর শান্তনু ঠাকুরের ঘনিষ্টদের দিকে। এখন সবমিলিয়ে পরিবেশ অশান্ত মতুয়াগড়ে। গাইঘাটার পাশাপাশি বনগাঁ মহকুমাতেও বসবাস বিরাট অংশের মতুয়ার। 

    অন্যদিকে জানা গিয়েছে, বনগাঁ থেকে গাড়িতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সড়কপথে এনে বিধানসভা ভোটের আগে দলীয় সংগঠনকে ঝাঁকুনি দিতে চাইছে তৃণমূল। বনগাঁ শহরের কিষাণ মাণ্ডির মাঠে অস্থায়ী হেলিপ্যাড তৈরি করা হয়েছে। সেখান থেকে দুপুর দু’টোয় গাড়িতে ঠাকুরবাড়িতে পৌঁছবেন অভিষেক। তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ মমতা ঠাকুর ও তাঁর মেয়ে বাগদার বিধায়ক মধূপর্ণা ঠাকুর অভিষেককে স্বাগত জানাবেন ঠাকুরবাড়িতে। এরপর মতুয়া, পাগল ও গোঁসাইরা ফুল ছিটিয়ে বরণ করে তাঁকে নিয়ে যাবেন হরিচাঁদ ঠাকুরের মন্দিরে। সেখানে পুজো দেবেন অভিষেক। এরপর গুরুচাঁদ ঠাকুরের মন্দিরে পুজো শেষ করে আসবেন বড়মায়ের মন্দিরে। সেখানে ধান, দূর্বা দিয়ে তাঁকে আশীর্বাদ করবেন মমতা ঠাকুর। বড়মার মন্দির দর্শনের পর মন্দিরের সামনে দাড়িয়ে অভিষেক মতুয়াদের উদ্দেশে বার্তা দিতে পারেন। এরপর তৃণমূল প্রভাবিত অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘের কার্যালয়ে তাঁর বৈঠক করার সম্ভাবনা আছে। প্রসঙ্গত ২০২৩ সালে নবজোয়ার কর্মসূচিতে ঠাকুরবাড়িতে এসে ‘বাধা’র মুখে পড়েছিলেন অভিষেক। সেদিন তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, ফের ঠাকুরবাড়িতে আসবেন। ফলে এবারের ঠাকুরবাড়ি সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তৃণমূল জেলা সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস বলেন, ‘সফর ঘিরে মানুষের আবেগ আছে। রাস্তার দু’ধারে কাতারে কাতারে মানুষ উপস্থিত থাকবেন।’ অন্যদিকে সংঘাধিপতি মমতা ঠাকুর বলেন, ‘ঠাকুরবাড়ির প্রসাদের পাশাপাশি বনগাঁর কাঁচাগোল্লা, খাঁটি নলেন গুড় উপহার দেওয়া হবে।’
  • Link to this news (বর্তমান)