• যাদবপুর হিজাব কাণ্ড: ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি ঘিরেও চলছে চাপান-উতোর
    বর্তমান | ০৯ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে হিজাব কাণ্ডে অভিযুক্ত শিক্ষিকাকে ছুটিতে পাঠানোর বিরোধিতা করে উপাচার্যকে চিঠি দিল অধ্যাপক সংগঠন অ্যাবুটা। বৃহস্পতিবার চিঠি পাঠিয়ে তারা এই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যে, এর ফলে পরীক্ষার নজরদারি ব্যবস্থাই প্রশ্নের মুখে পড়ে যাবে। কোনও পরীক্ষার্থীকে ভালো করে তল্লাশি করতেই ভয় পাবেন শিক্ষকরা। পাশাপাশি, ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুলে সেটিকে পুনর্গঠনের দাবিও তোলা হয়েছে।

    সার্বিকভাবে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটিতেও সদস্যদের মধ্যে তীব্র টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। আগেই সংখ্যালঘু কমিশনের সঙ্গে কমিটির চেয়ারপার্সন, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের শিক্ষিকা সৈয়দ তনভির নাসরিনের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল বিভিন্ন পক্ষ থেকে। এখন তাঁর এই ঘটনা নিয়ে চেয়ারপার্সন হওয়ার আগে লেখা একটি সংবাদপত্রের প্রতিবেদন সামনে আসছে। সেখানে তিনি অভিযুক্ত অধ্যাপিকার কাজ নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। অধ্যাপকদের একটি অংশের দাবি, তিনি আগে থেকেই যখন বিষয়টি নিয়ে একটি ‘পক্ষ’ হয়েছিলেন, তারপর তাঁকেই তদন্ত কমিটিতে রাখা হলে সেটির নিরপেক্ষতা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।

    কমিটির আর এক সদস্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য মনোনীত সদস্য কাজি মাসুম আখতারও চেয়ারপার্সনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, ‘এর ফলে পরীক্ষার স্বচ্ছতাই প্রশ্নের মুখে পড়বে। উচ্চ মাধ্যমিকে অষ্টম হওয়া ছাত্রীকেও কানে ব্লুটুথ হেডফোনসহ ধরা হয়েছে। তাই ধর্মীয় কোনও প্রকরণের দোহাই দিয়ে পরীক্ষায় টোকাটুকি বরদাস্ত করা যায় না। চেয়ারপার্সন নিজে যেভাবে বিভিন্ন মাধ্যমে তাঁর মত প্রকাশ করেছেন, তাতে ধরে নেওয়া যায়, তিনি তদন্তের আগেই রায় দিয়ে দিয়েছেন।’ 

    অন্যদিকে তনভির নাসরিন বলেন, ‘এ নিয়ে আমার নিজের অবস্থানের ব্যাখ্যা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। আমি নিজে এই কমিটিতে আসিনি। আমাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আমি ইতিহাসের অধ্যাপিকা। তাই মনে করি, যেখান থেকে তথ্য পাওয়া সম্ভব আমি সেখানেই যাব। কমিশনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা নিয়ে যা বলা হচ্ছে, সেটাও তাই।’ 

    তবে, নিরপেক্ষতার ইস্যুতে তিনি কাজি মাসুম আখতারের একটি টিভি চ্যানেলে গিয়ে অভিযুক্ত অধ্যাপিকার পক্ষে মত রাখার বিষয়টিও মনে করিয়ে দেন। পাশাপাশি বলেন, ‘মা হিসেবে অধ্যাপিকা এই কাজ করেছেন বলা হচ্ছে। কোনও মা তাঁর সন্তানকে পরীক্ষা কেন্দ্রে এভাবে হেনস্তা করতে পারেন না। আমি নিজে হিজাব পরি না। তাই আমি যে হিজাবের পক্ষে দাঁড়াব, সেটা পড়ুয়ারা ভাবতে পারেনি। তারা আগে থেকেই আমার কমিটিতে থাকা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল। তবে, যারা পরতে চায়, তাদের স্বাধীনতা রক্ষায় লড়াই চালিয়ে যাব।’ একই সঙ্গে কাজি মাসুম আখতারের নাম না করে তাঁর মন্তব্য, ‘লোয়ার কোর্টের জাজ হাইকোর্টে রায় দিতে পারেন না।’ 

    প্রসঙ্গত, আখতার সাহেব একজন প্রধান শিক্ষক। তা সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্যের নমিনি হওয়াতেই এই প্রসঙ্গ টানেন তিনি। এদিকে, কাজি মাসুম আখতার তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলে জানিয়েছেন, ১৯ জানুয়ারি কমিটির পরবর্তী বৈঠকে কমিটি থেকে তিনি পদত্যাগ করতে পারেন। তবে, এই ইস্যুতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির (জুটা) নীরবতাকেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
  • Link to this news (বর্তমান)