• দূষণে ‘পরিযায়ীহীন’ সাঁতরাগাছি ঝিল, ‘নাকটা’ পাখি ঘিরে আশায় বিশেষজ্ঞরা
    বর্তমান | ০৯ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: একসময় পরিযায়ী পাখি দলে দলে আসত হাওড়ার সাঁতরাগাছি ঝিলে। কিন্তু জলদূষণের কারণে ক্রমে বিষাক্ত হয়ে উঠেছে ঝিল। ফলে হু হু করে কমছে পাখির সংখ্যা। এবছর শীতে দেশীয় সরাল বা লেসার হুইসলিং ডাক (মূলত স্থানীয় পরিযায়ী পাখি হিসেবে চিহ্নিত দক্ষিণবঙ্গে) বাদে তেমন কোনও পরিযায়ী পাখির দেখা মেলেনি। তবে এর মধ্যেও ক্ষীণ আশা জাগিয়েছে একজোড়া ‘নব-বিলড ডাক’ বা ‘নাকটা’ পাখি। বহুবছর পর এই প্রজাতি ফিরেছে এই ঝিলে। নাকটা মূলত বিশ্বের গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বা উপ গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলের পাখি। আগে শীতে নিয়মিত আসত। এবারও এসেছে সাঁতরাগাছি ঝিলে।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, আশপাশে গজিয়ে ওঠা বহুতল ও বস্তি অঞ্চল থেকে নিকাশির জল নিয়মিত এসে মেশে ঝিলের জলে। তার সঙ্গে প্লাস্টিক ও আবর্জনা ফেলা হয়। জলে কচুরিপানার আস্তরণে আটকে থাকে প্লাস্টিক বর্জ্য। ভ্যাট উপচে আবর্জনা এসে পড়ে জলে। ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে রাস্তা ও নিকাশি মেরামত শুরু হয়েছে। ফলে পরিযায়ী পাখিদের নিভৃতে থাকার পরিবেশ আর নেই। আর ঝিলের দূষণ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। দূষণে জেরবার ঝিল বলে শীতে সাঁতরাগাছির আকাশ পরিযায়ী পাখিদের কলকাকলিতে ভরে ওঠেনি। 

    রাজ্য সরকারের বায়োডাইভার্সিটি বোর্ডের নির্দেশের পর ‘নেচারমেটস নেচার ক্লাব’ নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকে তেত্রিশ বিঘা আয়তনের সাঁতরাগাছি ঝিলের পরিচর্যার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিবছর পুজোর পর ঝিলের কচুরিপানা একত্র করে পরিযায়ী পাখির বসার জন্য ছোট আকারের ভাসমান দ্বীপ তৈরি করা হয়। একসময় নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত প্রায় ৩৩ প্রজাতির পাখি আসত জলাভূমিতে। কিন্তু দূষণের কারণে সেই সংখ্যা অস্বাভাবিক হ্রাস পেয়েছে এখন। 

    নেচারমেটস সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি মরসুমে ৪ হাজার ৭০০ পরিযায়ী পাখির দেখা মিলেছে। এর মধ্যে প্রায় ৪ হাজার ৫৫০টিই লেসার হুইসলিং ডাক। এছাড়া এসেছে রয়েছে ‘নব-বিলড ডাক’, ‘কমন মুরহেন’, ‘হোয়াইট-ব্রেস্টেড ওয়াটারহেন’, ‘কটন পিগমি গুস’, ‘কমন টিল’ ও ‘গ্যাডওয়াল’। এ মরশুমে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত অ্যাকোয়াটিক ভেজিটেশন ম্যানেজমেন্টের কাজ হয়েছে ঝিলে। নেচারমেটসের সম্পাদক অর্জন বসু রায় বলেন, ‘বহুবছর পর একজোড়া নব-বিলড ডাক এসেছে। গতবছর মাত্র একটি এসেছিল। আশা করছি সংখ্যাটা আরও বাড়বে।’ তিনি জানান, এই প্রজাতি খুব কমই স্থানান্তরিত হয়। আগে সাঁতরাগাছি ও পূর্ব মেদিনীপুরের দীঘা সংলগ্ন একটি জলাভূমি ছাড়া রাজ্যের অন্য কোথাও দেখা মেলেনি। ১৮ জানুয়ারি চূড়ান্ত সুমারি হবে। তারপর সাঁতরাগাছিতে পরিযায়ী পাখির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কিত পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট মিলবে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে ৪ হাজার ৮০০ এবং ২০২৫ সালে ৪ হাজার ২০০টির মতো পরিযায়ী পাখি এসেছিল এখানে। সেই সংখ্যা ক্রমহ্রাসমান।
  • Link to this news (বর্তমান)