শীতের আমেজে মজল আট থেকে আশি, ‘এই ওয়েদার থাকুক আরও কয়েকদিন...’
বর্তমান | ০৯ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ থেকে খানিক বেড়ে ১১.৬ ডিগ্রি হল কলকাতায়। আর কুয়াশা ভেদ করে রোদও এসে পড়েছে শহরের বুকে। তবে ঠান্ডা হাওয়া তেমন নেই। আবার প্যাচপেচে গরমও নেই। সবমিলিয়ে গায়ে শীতের হালকা পোশাক চাপিয়েও দিব্যি উপভোগ করা যাচ্ছে কলকাতার শীত। মানুষের বক্তব্য, ‘এমন ওয়েদারই থাকুক। কষ্ট নেই।’ শহরের এই আবহাওয়া খুবই পছন্দ করছে শহর।
আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আপাতত দিন দু’য়েক এমন আবহাওয়াই থাকছে। তারপর সামান্য বাড়তে পারে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। কলকাতা এবং সল্টলেক, সর্বনিম্ন তাপমাত্রার দিক থেকে একই জায়গায় রয়েছে। দমদম একটু কমে হয়েছে ১১ ডিগ্রি। তবে বারাকপুর আর উলুবেড়িয়া এখনও তুলনামূলকভাবে শীতল। বারাকপুর ও উলুবেড়িয়ার তাপমাত্রা যথাক্রমে ৯.৪ ও ৯.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অন্যদিকে বসিরহাট, ডায়মন্ডহারবার, ক্যানিং, মগরা, কাকদ্বীপের তাপমাত্রা এদিন ছিল ১০ থেকে ১০.৫ ডিগ্রির মধ্যে।
কলকাতায় দুপুরের দিকে রোদের তেজ ছিল বেশ ভালো। তবে এই তেজে কষ্ট হয় না। বরং রোদের তাপ গায়ে লাগলে বেশ স্বস্তিই হচ্ছে। এদিন দুপুরের দিকে নিউ মার্কেটে ভালো ভিড় জমেছিল। সকলকেই কমবেশি শীতবস্ত্র কেনার দিকে মন দিতে দেখা গিয়েছে। বেহালার বাসিন্দা বর্ণালী বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন, ‘এরকম ওয়েদার থাকলে খুব ভালো। কিন্তু আর ক’দিনই বা থাকবে কে জানে! আবার তো সেই চড়া রোদ। সে কথা মনে পড়লেই ভয় লাগে।’ ব্যবসায়ীরা বলছেন, ‘হালকা শীতের পোশাক কেনারই ঝোঁক এখন বেশি দেখা যাচ্ছে। তবে এবার যেহেতু শীত অনেকদিন থাকছে, তাই আমাদের বিক্রিও ভালো হচ্ছে।’ আবার দুপুরে রোদ পড়তেই ধর্মতলার মোড়ে দেখা গেল, লেবুজলের দোকানে ভিড় জমছে। সেই জলের গ্লাস হাতে নিয়ে এক তরুণীর বক্তব্য, ‘হালকা ঠান্ডায় ঠান্ডা পানীয় বেশ ভালোই লাগে।’ এই করতে করতে রোদ চলে গেল। সঙ্গে সঙ্গে এসে পড়ল আরামদায়ক শীত।
অফিস থেকে ফেরার পথে বাস থেকে শিয়ালদহে নেমে বসিরহাটের বাসিন্দা নাজমুল হকের বক্তব্য, ‘এই বছর শীত বেশ অনেকদিন থাকছে। যতদিন থাকে ততই ভালো। নইলে এই যে ভিড় বাসে ধর্মতলা থেকে এখানে এলাম, একেবারে ঘেমে নেয়ে চান করে যাওয়ার মতো অবস্থা হয় গরমকালে। এখন কোনও কষ্টই নেই।’ শীতের শহরে তেলেভাজা আর চা বিক্রেতাদের পোয়াবারো। মৌলালি চত্বরের এক চপ বিক্রেতা বললেন, ‘বিকেলে এক ঠোঙা মুড়ি আর গরম চপ। এটাই সকলে পছন্দ করছেন। শীতকালে আমাদের বিক্রি বেশ বেড়ে যায়।’ আর চা দোকানিদের কথায়, ‘ধোঁয়া ওঠা আদা দেওয়া চায়ের কাপে চুমুক দিলেই মেলে শীতের আসল মজা।’
গত বুধবারের তুলনায় এদিন শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বেশ খানিকটা বেড়েছে। বুধবার সকালে ছিল ১৮ ডিগ্রি। আর এদিন সকালে তা বেড়ে হয়েছে ২২ ডিগ্রি। তবে তা স্বাভাবিকের চেয়ে ২.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা এতখানি বেড়ে যাওয়ার ফলেই সকালের দিকে খানিক গরম অনুভূত হয়েছে। আগামী কয়েকদিন তাপমাত্রার খুব একটা হেরফের হবে না বলে অনুমান ব্যক্ত করেছে আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর।