• ‘আয়ুষ্মান ভারত’ না নিয়ে দিল্লি-ওড়িশায় পদ্ম ফুটেছে, এবার বাংলার পালা: নাড্ডা
    বর্তমান | ০৯ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দেশজুড়ে বড়, মেজো, ছোটো অসংখ্য প্রাইভেট হাসপাতালের রোগীদের চিকিৎসার করানোর বিলই বাবদ কয়েকশো কোটি টাকা বকেয়া এই প্রকল্পে। প্রকল্পটি নিয়ে তিতিবিরক্ত তারা। সেই প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত’এর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জগৎপ্রকাশ নাড্ডা। শুধু তাই নয়, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম উল্লেখ তাঁকে তীব্র কটাক্ষ করে বললেন, সবকিছুতেই দিদি বলেন, ‘হবে না’। ‘হবে না’ কে আমরা ‘হবে’ করে ছাড়ব। ওড়িশা, দিল্লি এবং পশ্চিমবঙ্গ—এই তিনটি রাজ্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আয়ুষ্মান ভারত গ্রহণ করেনি। দুটি রাজ্যেই শাসন পাল্টে গিয়েছে। পদ্মফুল ফুটেছে। এবার বাংলার পালা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শহরে, ই এম বাইপাস সংলগ্ন একটি ক্লাবে বিজেপি মনোভাবাপন্ন বিশিষ্ট চিকিৎসকদের সঙ্গে দেখা করেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তাঁদের সামনে বক্তব্যও রাখেন।

    কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, পশ্চিমবঙ্গের মানুষ আয়ুষ্মান ভারত থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছেন। আমার যখন এই কার্ড বাংলায় চালু করি, জানতে পারি ছিঁড়ে ফেলে দেওয়া হয়েছে। অথচ পোর্টেবল সিস্টেমের এই স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্পের আওতায় পশ্চিমবঙ্গের কোনও পরিযায়ী শ্রমিক যদি থাকতেন, তিনি অসুখবিসুখে হিমাচল প্রদেশে গিয়েও এই কার্ডের ব্য‌বহার করতে পারতেন। পাশাপাশি মাতৃমৃত্যুর হার নিয়েও পশ্চিমবঙ্গকে খোঁচা দিতে ছাড়েননি কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী। বলেন, পশ্চিমবঙ্গে মাতৃমৃত্যুর হার (মেটারন্যাল মরটালিটি রেট বা এমএমআর) ১০৪। যা কি না, জাতীয় গড়ের থেকে অনেকটাই বেশি।

    যে ‘আয়ুষ্মান ভারত’-এর হয়ে এদিন ‘ঢাক’ বিজেপির প্রাক্তন সর্বভারতীয় সভাপতি, সেই প্রকল্পের বিরুদ্ধে হাসপাতালগুলির কোটি কোটি বকেয়া রেখে দেওয়ার অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছিল লোকসভাতেও। ২০২৩ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি এই প্রকল্প নিয়ে একাধিক অভিযোগ ওঠে।  প্রধান অভিযোগ হল, হাসপাতালের বিল সময়ে না দেওয়া। দেরি করে চিকিৎসার টাকা মেটানোয় দিল্লি সহ উত্তর ও মধ্য ভারতের বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতালে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প বন্ধ করে দিয়েছে। এমনকী বিজেপি’র অন্যতম গড় হরিয়ানায় প্রায় ৬৫০ প্রাইভেট হাসপাতাল গত আগস্টে আয়ুষ্মান ভারত বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। -নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)