নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: জামাকাপড়, টাকা-পয়সা যা ছিল হাতের কাছে, সব নিয়ে রাস্তায় বসতে হল ব্যবসায়ীদের। তাঁরা কেউ এসেছেন দার্জিলিং থেকে, কেউ উত্তরাখণ্ড, হিমাচল থেকে। রাস্তার অন্যপাশে তখন স্তূপাকৃতি হয়ে পড়ে রয়েছে পুড়ে যাওয়া গুচ্ছ গুচ্ছ শীতবস্ত্র। কোথাও ধোঁয়া বেরচ্ছে, কোথাও তখনও নজরে আসছে আগুনের শিখা। কলকাতার ওয়েলিংটন স্কোয়ারে শীতবস্ত্রের বাজারের চিত্র এক নিমেষে বদলে গেল বৃহস্পতিবার বিকেলে। এদিন বিকেল ৪টে নাগাদ হঠাত্ই ‘আগুন লেগেছে’ বলে চিত্কার শোনা যায়। তখন শীতপোশাকের কেনাকাটা জমে উঠেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। সবাই দৌড়াদৌড়ি শুরু করে দেয়। একের পর এক দোকান পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
দমকলের ৩টি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে এসে দীর্ঘক্ষণের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। বেশ কিছুক্ষণ নির্মল চন্দ্র স্ট্রিটে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়। মহম্মদ আকবর নামের এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘পার্কের পিছনে কয়েকটা বাঁশ রাখা ছিল। সেখানেই প্রথম আগুন দেখা যায়। তারপর দেখলাম, আগুন ছড়াচ্ছে।’ প্রতি বছরই নভেম্বর মাস থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত শীতবস্ত্র নিয়ে ওয়েলিংটন স্কোয়ারের ফুটপাতে পসরা সাজিয়ে বসেন ভুটিয়ারা। এবার যেভাবে কলকাতায় শীত পড়েছে, তাতে তাঁদের ব্যবসাও অন্যান্য বছরের তুলনায় ভালো হচ্ছিল। দর্জিলিং থেকে এসে এবছরই প্রথম দোকান দিয়েছিলেন ঈশা। তিনি বলছিলেন, ‘আমার তো প্রথম বছর। ভালোই বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু হঠাত্ এমনটা হয়ে গেল।’ গোটা নির্মল চন্দ্র স্ট্রিটজুড়ে শুধুই জামা-কাপড়ের স্তূপ আর পোড়া গন্ধ। এক ব্যবসায়ী বলছিলেন, ‘অনেক টাকার ক্ষতি হয়ে গেল আমাদের। যা পেরেছি, এখানে তুলে নিয়ে এসেছি। আগুন লাগার সময় অনেকে জামাকাপড় নিয়ে চলে গিয়েছে।’ দার্জিলিং থেকে আসা এক বৃদ্ধা ব্যবসায়ী রাস্তার ধারে বসেই চোখের জল ফেলতে শুরু করেন। তিনি বলছিলেন, ‘কয়েক বছর পর এবার বিক্রিবাটা ভালো হচ্ছিল। তারপর সব শেষ হয়ে গেল।’ ব্যবসায়ীদের দাবি, প্রায় ৫০টি স্টল পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এলাকার বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন ব্যবসায়ীরা। যদিও এদিনের অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের কোনও খবর নেই। হিমাচল থেকে আসা এক বিক্রেতা বলেন, ‘অনেক টাকা ধার করে ব্যবসা করতে এসেছিলাম। কী করব, প্রাণে তো বাঁচতে হবে। তাই নিজেই বেরিয়ে এলাম। এখন সব শেষ!’