• নোনাডাঙার অগ্নিদগ্ধ বস্তিতে আজই শুরু নতুন ঘর নির্মাণ
    বর্তমান | ০৯ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সরকারি তরফে ত্রাণসামগ্রী এসেছে। এসেছে বাসনপত্র। গরম জামাকাপড়। অন্যদিকে চলছে রান্না। এসবের মধ্যেই পোড়া ঘরে ছাইয়ের স্তূপ থেকে যদি কিছু বেঁচে থাকে, তা খোঁজার মরিয়া চেষ্টা চালিয়ে গেলেন লতিকা নস্কর, শুভেন্দু লোহাররা। বুধবার সন্ধ্যায় পুড়ে ছারখার হয়ে গিয়েছে আনন্দপুরের নোনাডাঙা বস্তির অধিকাংশ ঝুপড়ি। রাতে পুর প্রশাসনের উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের সংলগ্ন একটি কমিউনিটি হলে মাথা গোঁজার ব্যবস্থা হয়। বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেল, চারদিকে কান্নার রোল, হতাশা, অসহায়তা। তবে খুব শীঘ্রই তাঁরা যে যাঁর নিজস্ব ঘর ফিরে পাবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন স্থানীয় বরো চেয়ারম্যান সুশান্তকুমার ঘোষ। তিনি জানিয়েছেন, শুক্রবার থেকেই নতুন ঘর তৈরির কাজে হাত লাগানো হবে।

    নোনাডাঙা বস্তিতে প্রায় ১০০টি ঘর ছিল। তার মধ্যে ৫০টির বেশি ঘর পুরোপুরি পুড়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রাতেই ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী জাভেদ খান, স্থানীয় ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার তথা ১২ নম্বর বরো চেয়ারম্যান সুশান্তকুমার ঘোষ। প্রশাসনের উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য পাশেই চীনা মন্দিরের একটি কমিউনিটি হলে থাকার ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু এভাবে কতদিন! সেই প্রশ্নই সঞ্জীব দলুই, শিপ্রা দাসদের মুখে মুখে ঘুরছে। এর মধ্যেই অনেকের গেরস্থালির জিনিসপত্র চুরি গিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শিপ্রা দাস বলেন, ‘সর্বস্ব হারালাম। কিছুই অবশিষ্ট নেই। পুরসভা থেকে বাসনপত্র দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের তরফেই খাবারের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। কিন্তু কাল রাতে আগুন লাগার পর আমাদের অনেক জিনিসপত্র চুরি গিয়েছে। অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র পুড়ে গিয়েছে। সেগুলি কীভাবে আবার জোগাড় করব, সেটাই চিন্তার।’ সুশান্তবাবু বলেন, ‘ইতিমধ্যে ওঁদের রান্না করার বাসনপত্র দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার ফরেনসিক দল নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে গিয়েছে। সেই রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর স্পষ্ট হবে, কীভাবে আগুন লাগল। শুক্রবার থেকে ঘটনাস্থল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে ক্ষতিগ্রস্তদের ঘর বানিয়ে দেওয়ার কাজ শুরু হবে।’
  • Link to this news (বর্তমান)