আশিস নন্দী, ঠাকুরনগর
আজ, শুক্রবার গাইঘাটার ঠাকুরনগরের ঠাকুরবাড়িতে আসছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর আসার ২৪ ঘণ্টা আগেই ঠাকুরবাড়ি সেজে উঠেছে। হরিচাঁদ, গুরুচাঁদ ঠাকুরের মন্দির থেকে বড়মার মন্দির ফুলের সাজে মুড়ে দিয়েছেন মতুয়া ভক্তরা। গোটা ঠাকুরবাড়ি–সহ বনগাঁ থেকে ঠাকুরনগর পর্যন্ত রাস্তা সাজানো হয়েছে মতুয়াদের লাল নিশান দিয়ে।
আগে ঠিক ছিল, নদিয়ার তাহেরপুরের সভা থেকে আবহাওয়া ভালো থাকলে হেলিকপ্টারে করে ঠাকুরনগর হাইস্কুলের মাঠে পৌঁছবেন অভিষেক। সেখান থেকে ৫০০ মিটার দূরত্বে ঠাকুরবাড়িতে গাড়িতেই আসবেন তিনি। কিন্তু এই রুটের কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে বলে জানা গিয়েছে দলীয় সূত্রে। বনগাঁ শহরের কিষান মান্ডির মাঠে অস্থায়ী হেলিপ্যাড করা হয়েছে। সেখান থেকেই দুপুর দুটোয় গাড়িতে করে ঠাকুরবাড়িতে পৌঁছবেন অভিষেক।
বনগাঁ মহকুমায় ১ লক্ষ ২০ হাজার মতুয়া শুনানির নোটিস পেয়েছেন। শুনানি প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত নথি না থাকায় বেনাগরিক হওয়ার ভয় চেপে বসেছে মতুয়াদের মনে। কয়েকদিন আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বঙ্গ সফরে এসে মতুয়ারা কী ভাবে নাগরিকত্ব পাবেন, সে সম্পর্কে কোনও দিশা না দেওয়ায় হতাশ মতুয়ারা এখন অভিষেকের ঠাকুরবাড়ির কর্মসূচির দিকেই তাকিয়ে আছেন। গাইঘাটা, ঠাকুরনগরের পাশাপাশি বনগাঁ উত্তর–দক্ষিণ ও বাগদা কেন্দ্রেও বসবাস বিরাট অংশের মতুয়াদের। তাই বিধানসভা নির্বাচনের আগে বনগাঁ থেকে গাড়িতে করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঠাকুরবাড়িতে এনে রাজনৈতিক ফায়দা এবং বনগাঁর মতুয়াদেরও মন পেতে চাইছেন সাংগঠনিক জেলার তৃনমূল নেতৃত্ব।
ঠাকুরবাড়ি সূত্রে জানা গিয়েছে, তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর এবং তাঁর মেয়ে বাগদার বিধায়ক মধুপর্ণা ঠাকুর ঠাকুরবাড়িতে অভিষেককে স্বাগত জানাবেন। এর পর মতুয়া পাগল, গোঁসাইরা ফুল ছিটিয়ে বরণ করে তাঁকে নিয়ে যাবেন হরিচাঁদ ঠাকুরের মন্দিরে। পুজো দেওয়ার ব্যবস্থা করে দেবেন পাগল, গোঁসাইরাই। এর গুরুচাঁদ ঠাকুরের মন্দিরে পুজো শেষ করে অভিষেক আসবেন বড়মার মন্দিরে। সেখানে ধান–দূর্বা দিয়ে তাঁকে আশীর্বাদ করবেন মমতাবালা। এর পর তৃণমূল প্রভাবিত অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘের কার্যালয়ে পাগল, গোঁসাই এবং দলপতিদের সঙ্গে অভিষেকের বৈঠক করার সম্ভাবনাও রয়েছে।
এ দিন দলের বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস ও বনগাঁ পুরসভার চেয়ারম্যান দিলীপ মজুমদার–সহ তৃণমূল নেতৃত্ব বনগাঁ বিডিও অফিসের পাশে কিষান মান্ডির মাঠে অস্থায়ী হেলিপ্যাড ঘুরে দেখেন। বিশ্বজিৎ বলেন, ‘বনগাঁ থেকেই গাড়িতে করে চলে যাবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে ঘিরে মানুষের আবেগ রয়েছে। তাই ঠাকুরবাড়ি পর্যন্ত রাস্তার ধারে মানুষ উপস্থিত থাকবেন।’ মমতাবালা বলেন, ‘আমরা সব ব্যবস্থা করে রেখেছি। অভিষেক কিছু বলেন কি না, কিংবা কোনও বৈঠক করেন কি না, সেটা তাঁর উপরে নির্ভর করছে।’
কয়েক বছর আগে ঠাকুরবাড়িতে গেলে তাঁকে মন্দিরে পুজো দিতে বাধা দেন বনগাঁর বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুর। এ বারও আগে থেকেই তিনি অভিষেকের সফর নিয়ে সুর চড়িয়ে রেখেছেন। দিন কয়েক আগেই বিজেপি ও তৃণমূলপন্থী মতুয়াদের সংঘর্ষে উত্তাল হয়েছিল ঠাকুরবাড়ি। এ বার তাই নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়েও সতর্ক বনগাঁ পুলিশ জেলার কর্তা ও প্রশাসনের আধিকারিকরা।