সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) অনুযায়ী প্রাপ্ত নাগরিকত্বের শংসাপত্রকে এ বার জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকার নথি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে নাগরিকত্ব সংক্রান্ত যে কোনও নথি এসআইআর প্রক্রিয়ায় জমা দেওয়া যাবে বলে জানানো হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসতেই মতুয়া উদ্বাস্তু মানুষদের মধ্যে দীর্ঘ দিনের আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা কাটতে শুরু করেছে।
বিশেষ করে, উত্তর ২৪ পরগনা ও নদিয়া জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় বসবাসকারী বহু মতুয়া ও উদ্বাস্তু মানুষের কাছে কমিশনের পক্ষ থেকে চাওয়া ১১টি নথির একটিও নেই। কোনও প্রামাণ্য নথি না থাকায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার আশঙ্কায় তাঁরা এত দিন আতঙ্কে ছিলেন। এই পরিস্থিতিতে সিএএ-এর আওতায় নাগরিকত্ব শংসাপত্রই তাঁদের কাছে শেষ ভরসা হয়ে উঠেছে।
বনগাঁর বাসুদেব বিশ্বাস নামে এক মতুয়া ভক্ত বলেন, ‘‘আমাদের জন্য এর থেকে ভাল খবর আর হয় না। আমরা তো এটাই চেয়েছিলাম— নাগরিকত্বের শংসাপত্রের মাধ্যমে ভোটার তালিকায় নাম তোলার ব্যবস্থা করুক নির্বাচন কমিশন।’’ একই সুর শোনা গেল বনগাঁর আকাইপুরের বাসিন্দা, মতুয়া ভক্ত হরিচাঁদ বিশ্বাসের গলায়। তিনি বলেন, ‘‘এত দিন সংশয়ে ছিলাম, সিএএ-তে আবেদন করে শংসাপত্র পেলেও ভোটার তালিকায় নাম তোলা যাবে কি না, তা নিয়ে। তাই এত দিন আবেদন করিনি। এ বার দ্রুত আবেদন করব।’’
তবে সব মতুয়া উদ্বাস্তু মানুষের মনে স্বস্তি আসেনি। যাঁরা আগেই আবেদন করেছেন কিন্তু এখনও শংসাপত্র পাননি, তাঁদের মধ্যে উদ্বেগ বরং বেড়েছে। নিমাই মণ্ডল নামে এক মতুয়া ভক্ত বলেন, “আমি সিএএ-তে অনেক দিন আগে আবেদন করেছি। এখনও শংসাপত্র হাতে পাইনি। আমার কী হবে? ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ গেলে বিধানসভায় ভোট দিতে পারব না। অথচ, আমি গত লোকসভা নির্বাচনে ভোট দিয়েছিলাম।’’
এই আবহে বুধবার বনগাঁয় রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘‘সিএএ-তে ৬০ হাজার মানুষ আবেদন করেছেন। এক হাজারের বেশি মানুষ নাগরিকত্ব শংসাপত্র পেয়ে গিয়েছেন। বাকিরা দ্রুত পেয়ে যাবেন।” তাঁর বক্তব্যে আশ্বাস মিললেও, বাস্তবে শংসাপত্র প্রাপ্তির গতি নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
অন্য দিকে, এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ তথা অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘের সঙ্ঘাধিপতি মমতা ঠাকুর। তিনি বলেন, ‘‘আমাদের দাবি, বৈধ ভোটারদের নাম কোনও ভাবেই বাদ দেওয়া যাবে না। আধার কার্ডকে মান্যতা দিতে হবে। সিএএ-তে আবেদন করে কেউ শংসাপত্র পেয়েছেন বলে আমার জানা নেই। কেন ১১টি নথি চাওয়া হবে? না দেখাতে পারলে কেন নাম কাটা যাবে?’’ তাঁর মতে, এই প্রক্রিয়ার আড়ালে ভোটার তালিকা থেকে বহু মতুয়া ও উদ্বাস্তু মানুষের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে।
মমতা ঠাকুরের বক্তব্যের পাল্টা জবাবে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর বলেন, ‘‘নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের ফলে আমরা আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলাম। এখন মুখ্যমন্ত্রী এবং তাঁর দলের সাংসদ-বিধায়কদের জবাব দিতে হবে, কেন তাঁরা সিএএ-এর বিরোধিতা করেছিলেন।’’