• ডাক্তারের সময়ের মূল্য বুঝতে হবে কোর্টকে, পর্যবেক্ষণ জেলা জজের
    এই সময় | ০৯ জানুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়: চিকিৎসকরা আদালতের বিচার প্রক্রিয়ার সহায়ক ও বিশেষজ্ঞ বন্ধু। তাঁদের কাজ ও সময়ের মূল্য বুঝতে হবে আদালত ও বিচার ব্যবস্থাকে। রামপুরহাটের একটি ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের বিচারে শুনানিতে আসতে না পারায় ফরেন্সিক মেডিসিনের বিশেষজ্ঞ দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিচারকের ওয়ারেন্ট জারির নির্দেশকে খারিজ করতে গিয়ে পর্যবেক্ষণে এ কথাই জানালেন বীরভূমের জেলা জজ। যা দেখে উচ্ছ্বসিত চিকিৎসক মহল। সেই উচ্ছ্বাস দুই চিকিৎসকের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রত্যাহারের জন্য যতটা, তার চেয়েও ঢের বেশি তাঁদের পেশাগত মর্যাদাকে বিচার ব্যবস্থার সম্মান ও স্বীকৃতি দেওয়ায়।

    বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের ফরেন্সিক মেডিসিন বিভাগের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর অনিরুদ্ধ দাস ও অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর জয়দীপ খানের বিরুদ্ধে আদালতকে সময় দিতে না পারা ও শুনানিতে হাজির হতে না পারার জন্য সম্প্রতি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল রামপুরহাটের প্রথম আদালতের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। সেই নির্দেশই অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে বলে ওই জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন জেলা বিচারক আরতি শর্মা রায়। তাঁর নির্দেশে উল্লেখ করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট দুই চিকিৎসক আগেই আদালতকে তাঁদের প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতার কথা জানিয়ে ভিডিয়ো কনফারেন্সের মাধ্যমে হাজিরা দেওয়ার যে আবেদন করেছিলেন, তা যুক্তিসঙ্গত ছিল।

    সেই প্রসঙ্গেই জেলা জজ চিঠিতে লিখেছেন, বিশেষজ্ঞ সাক্ষীরা আদালতের গুরুত্বপূর্ণ অতিথি এবং তাঁদের সঙ্গে মর্যাদা ও সৌজন্য বজায় রেখে আচরণ করা আবশ্যক। এমন পেশাদারদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ হওয়া উচিত একেবারে শেষ বিকল্প। এ ছাড়াও বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে বিশেষজ্ঞ সাক্ষীদের বক্তব্য রেকর্ডের কাজ ভিডিয়ো কনফারেন্সের মাধ্যমে করতে হবে এবং তাঁদের প্রতি যথোচিত সম্মান নিশ্চিত করতে হবে। এই নির্দেশকে স্বাগত জানিয়ে রাজ্যের চিকিৎসক মহল উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে। চিকিৎসকদের একাংশের বক্তব্য, আদালতের এই অবস্থান চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞ সাক্ষীদের কাজের পরিবেশকে আরও সুরক্ষিত করবে এবং অযথা হয়রানি রুখবে।

    চিকিৎসক সংগঠন ওয়েস্টবেঙ্গল ডক্টর্স ফোরাম একটি প্রেস বিবৃতিতে জানিয়েছে— এই নির্দেশ বিশেষজ্ঞ সাক্ষী হিসেবে আদালতে হাজির হওয়া চিকিৎসকদের সঙ্গে আচরণের মানদণ্ড নতুন করে স্পষ্ট করল। চিকিৎসকরা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আদালতের সহযোগী, তাঁরা কোনও অভিযুক্ত নন যে প্রক্রিয়াগত সীমাবদ্ধতার জন্য তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার মতো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রাতিষ্ঠানিক বাস্তবতাকে মান্যতা দেওয়া, পেশাগত মর্যাদাকে সম্মান করা এবং ভিডিয়ো–কনফারেন্সিংয়ের সুযোগ রাখা কোনও অতিরিক্ত সুযোগ দেওয়া নয়, এগুলি বাস্তবে একেবারেই সময়ের দাবি।

  • Link to this news (এই সময়)