চাঁদকুমার বড়াল, কোচবিহার
কোচবিহার পুরসভার চেয়ারম্যানের পদ থেকে কি সরে যাচ্ছেন রবীন্দ্রনাথ ঘোষ? বৃহস্পতিবার সকাল থেকে এই জল্পনা ছড়িয়েছে শহরে। আগামী ১৩ তারিখ কোচবিহারে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা রয়েছে। তার আগেই রবি পদত্যাগ করতে পারেন বলে একটি সূত্র মারফত জানা গিয়েছে। যদিও রবীন্দ্রনাথ নিজে বিষয়টি এড়িয়ে গিয়েছেন। ২০২২-এ কোচবিহার পুরসভা নির্বাচনে ৮ নম্বর ওয়ার্ড থেকে জিতে চেয়ারম্যান হয়েছিলেন রবি।
প্রথম দু'বছর ঠিকঠাক গেলেও ২০২৩-এর পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় থেকে জেলা সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিকের সঙ্গে ঠান্ডা লড়াই শুরু হয়। কোচবিহার শহরের কর বৃদ্ধি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে নালিশও করেন অভিজিৎ। এর পরে লড়াই আরও তীব্র হয়। পরবর্তীতে ব্যবসায়ী সমিতির সঙ্গেও চেয়ারম্যানের সমস্যা শুরু হয়। এমনকী, বোর্ড মিটিং করতেও সমস্যায় পড়তে হয় রবীন্দ্রনাথ ঘোষকে। সব কিছুকে ছাপিয়ে গত নভেম্বরে জেলা সভাপতি নিজে রবিকে মেসেজ করে পুরসভার চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেন। শহরের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার দিলীপ সাহা পরবর্তী চেয়ারম্যান হবেন বলেও ঠিক হয়ে যায়।
সূত্রের খবর, দলের জেলা কার্যালয়ে ডেকে কাউন্সিলারদের অনাস্থা আনার প্রথম ধাপ হিসেবে সাদা কাগজে সই করিয়ে নেওয়া হয়। সেই সময়ে রবি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তৃণমূল নেত্রী নিজে না বললে তিনি পদ থেকে সরবেন না। এরপরে মুখ্যমন্ত্রী কোচবিহার সফরে এসে জেলা নেতৃত্বকে নির্দেশ দেন, রবীন্দ্রনাথকে দলে সম্মান দিতে হবে। নেত্রীর নির্দেশের পরে আসন টিকে গেলেও হঠাৎ করে আবার তিনি নিজেই সরে যেতে চেয়েছেন বলে আলোচনা শুরু হয়েছে জেলায়। তবে এর পিছনে রয়েছে সুনির্দিষ্ট বেশ কয়েকটি কারণ। বৃহস্পতিবার কলকাতা থেকে ফিরে আসেন রবি। এরপরেই তিনি এক বছর বাদে তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা কমিটির ডাকা বর্ধিত সভায় রবীন্দ্রভবনে গিয়ে উপস্থিত হন। এই সভা এতদিন একপ্রকার বয়কটই করছিলেন তিনি।
সভায় শুধু যাওয়াই নয়, সেখানে গিয়ে বিধানসভা নির্বাচনে একজোট হয়ে সকলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করার বার্তাও দেন। সম্প্রতি নাটাবাড়ি, কোচবিহার উত্তর এবং তুফানগঞ্জ বিধানসভার কো-অর্ডিনেটর করা হয়েছে তাঁকে। অভিষেকের সভার আগেই ১০ জানুয়ারি থেকে বিধানসভা ভিত্তিক কাজ শুরু করতে চলেছেন তিনি। এই কাজে সময় দেওয়ার পাশাপাশি আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বড় কোনও পরিবর্তন না হলে ফের নাটাবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্র থেকেই রবি প্রার্থী হতে চলেছেন বলে দলীয় সূত্রে খবর। সম্ভবত সে কথা মাথায় রেখে পদত্যাগ করতে পারেন প্রাক্তন মন্ত্রী।