• ED তল্লাশির সময় ফাইল বের করে গ্রেফতার হতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা? আইন যা বলছে...
    আজ তক | ০৯ জানুয়ারি ২০২৬
  • I-PAC কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং সল্টলেকের অফিসে বৃহস্পতিবার তল্লাশি চালায় ইডি বা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। আর রেড চলার সময় সেখানে পৌঁছে যান পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সেখান থেকে ফাইল, হার্ড ড্রাইভ এবং ফোন বের করে আনেন বলে খবর। পাশাপাশি অভিযোগ করেন যে বিজেপির হয়ে কাজ করছে ইডি। ভোটের আগে পার্টির সমস্ত তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার জন্যই এই চক্রান্ত।

    যদিও ইডি মমতার এই দাবি মানতে চায়নি। তাদের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয় যে কয়লা কেলেঙ্কারির সঙ্গে যুক্ত অর্থ তছরুপের ঘটনাতেই এই তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। সেই সঙ্গে ইডি দাবি করে যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাদের তদন্তে বাধা দিয়েছেন। এমনকী তল্লাশি চালানোর সময় গুরুত্বপূর্ণ নথি জোর করে নিয়ে হাতিয়েছেন।

    আর এমন পরিস্থিতিতেই হাই কোর্টে গিয়েছে ইডি। তারা হাই কোর্টে তদন্তে হস্তক্ষেপ হয়েছে বলে জানিয়ে একটি পিটিশন দায়ের করার অনুমতি চেয়েছে।

    অন্যদিকে বসে নেই I-PAC ও। তাদের পক্ষ থেকেও ইডি-এর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। এমনকী তারাও গিয়েছে হাই কোর্ট। শুক্রবারই এই মামলা শুনবে হাই কোর্ট। সেখানে অবশ্যই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কর্মকাণ্ড উঠে আসবে। আসলে তিনি সকলের সামনেই ইডি-এর তল্লাশি চলার সময় একাধিক প্রমাণ নিয়ে এসেছেন। এখন দেখার এই বিষয়ে ঠিক কী বলে হাই কোর্ট।

    কাদের পাল্লা ভারী?

    আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিষয়ে পাল্লা ভারী রয়েছে ইডি-এর। PMLA-এর সেকশন ৬৭-এর অধীনে ইডি নিরাপত্তা পাবে। এক্ষেত্রে যদি পশ্চিমবঙ্গ সরকার এটা প্রমাণ না করতে পারে যে কারও ব্যক্তিগত সুবিধার্তে এই তল্লাশি চালানো হয়েছে, তাহলে ইডি-এর বিরুদ্ধে কিছুই করা যাবে না। ইডি-এর কোনও আধিকারিককে গ্রেফতার করা তো ছেড়েই দিন।

    উল্টো দিকে উডি চাইলেই খুব সহজে এটা প্রমাণ করে দিতে পারে যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তল্লাশি চলার সময় যেই সব প্রমাণ নিয়ে এসেছেন, সেগুলি তদন্তের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গ্রেফতারও হয়ে যেতে পারেন। আর এমন ঘটনার জলজ্যান্ত উদাহরণ হলেন দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল।

    সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী প্রণব সিংয়ের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর সাংবিধানিক রক্ষাকবচ নেই। তাঁর নেই কোনও ইমিউনিটিও। সংবিধান সরকারের প্রধান এবং মন্ত্রীদের বিধানসভার ভিতরে কিছু সুবিধা দিতে পারে। তার বাইরে নয়।

    কী হয়েছিল বৃহস্পতিবার?

    এ দিন আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়ি এবং সল্টলেকের অফিসে তল্লাশি চালায় ইডি। কয়লা কেলেঙ্কারি তদন্তেই রেড বলে জানান হয়। এমন পরিস্থিতিতে সেখানে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সেখানে গিয়ে ইডি-এর থেকে কিছু নথি নিয়ে চলে আসেন বলে অভিযোগ। আর এখানেই যত বিতর্কের সূত্রপাত।

    মমতা জানান যে, ইডি-এর আধিকারিকরা ইচ্ছে করে ভোটের আগে পার্টির সব তথ্য নিয়ে যাচ্ছে। সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা থেকে ভোটের রণনীতি সব তথ্য চুরি করাই ইডি-এর লক্ষ বলেই দাবি করেন তিনি। যদিও তাঁর দাবি মানেনি ইডি।
  • Link to this news (আজ তক)