• 'SIR'-এ তথ্যগত অসঙ্গতি: ৪ লক্ষ মানুষকে নোটিস ধরাবে কমিশন!
    এই সময় | ০৯ জানুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়, কোচবিহার: লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির (তথ্যগত অসঙ্গতি) কারণে কোচবিহার জেলায় প্রায় চার লক্ষ মানুষকে শুনানিতে ডাকা হতে পারে। জেলা প্রশাসন সূত্রে এমনই তথ্য উঠে এসেছে। ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (সার) শুনানি পর্বে এতদিন তাঁদেরই ডাকা হচ্ছিল, যাঁরা ২০০২-এর তালিকার সঙ্গে কোনওরকম লিঙ্কেজ (পরিবারের কারও সঙ্গে সংযোগ) দেখাতে পারেননি। এ বার লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির কারণে জেলার ন'টি বিধানসভা কেন্দ্রের প্রতিটি থেকে ২০-৪০ হাজারের মতো মানুষকে শুনানিতে ডাকা হতে পারে বলে খবর। বিষয়টি সামনে আসতেই উদ্বেগ ছড়িয়েছে বিভিন্ন মহলে।

    নতুন করে বহু মানুষ হয়রানির শিকার হতে চলেছেন বলে গুঞ্জন রাজনৈতিক মহলে। লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির কারণে কাদের শুনানিতে ডাকা হতে পারে? নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে খবর, ভোটার তালিকায় বহু মানুষের নামের বানানে ভুল রয়েছে। ভুল রয়েছে মা-বাবা কিংবা পরিবারের অন্য সদস্যর নামের বানানেও। পাশাপাশি 'সার'-এর ফর্ম ফিলআপের সময়ে অনেকে ডেট অফ বার্থ বা জন্ম তারিখ সঠিক ভাবে লিখতে পারেননি। কিংবা ২০০২-এ উল্লিখিত জন্ম তারিখ, সালের সঙ্গে 'সার'-এর ফর্ম ফিলআপে লেখা ডেট অফ বার্থ মিলছে না অনেকের। এ ছাড়াও কারও মা-বাবার সঙ্গে বয়সের পার্থক্য ১৫ বছরের কম কিংবা ৫০ বছরের বেশি হলেই তাঁদের লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির আওতায় ফেলা হচ্ছে। এক বাবার পরিচয়ে ছ'জনের বেশি সন্তান থাকলে এই ক্যাটিগরিতে ফেলা হচ্ছে।

    ঠাকুরদা-ঠাকুমার সঙ্গে যাঁরা ২০০২-এর তালিকার লিঙ্কেজ দেখিয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রেও রয়েছে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির 'গেরো'। ঠাকুরদা-ঠাকুমার সঙ্গে নাতি-নাতনির বয়সের ফারাক ৪০ বছরের কম হলেই এই নিয়মের আওতায় পড়ে যাবেন তাঁরা। এঁদের সবাইকে নোটিস পাঠিয়ে শুনানিতে ডাকবে ইসি। এখনও পর্যন্ত জেলার ন'টি বিধানসভার মধ্যে কোচবিহার উত্তর এবং দক্ষিণে যথাক্রমে ২৪ হাজার এবং ২৭ হাজার নামের ক্ষেত্রে তথ্যগত ভুল ধরা পড়েছে। বাকি বিধানসভাগুলির তথ্য জানা যায়নি। জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, প্রতিদিন ওই চার লক্ষের সংখ্যাটি পরিবর্তন হচ্ছে। তবে সবমিলিয়ে কতজনকে ডাকা হবে, তা এখনও ঠিক হয়নি।

    বৃহস্পতিবার নোটিস তৈরির কাজ শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। শুক্রবার থেকে বুথ লেভেল অফিসাররা (বিএলও) বাড়ি বাড়ি গিয়ে নোটিস দেবেন। তবে যাঁদের ত্রুটি সঙ্গে সঙ্গে শুধরে দেওয়া যাচ্ছে, কিংবা তার সপক্ষে কাগজ পাওয়া যাচ্ছে, তাঁদের তথ্য পোর্টালে আপলোড করে ওই চার লক্ষের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। শুনানিতে যাতে কম সংখ্যক মানুষকে ডাকা যায়, সেই লক্ষ্যে এই কাজ চলছে। 'সার' প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগে ২০২৫-এর ভোটার তালিকা অনুযায়ী জেলায় মোট ভোটারের সংখ্যা ছিল ২৪ লক্ষ ৯০ হাজার ৭৮৯ জন। 'সার'-এর মাধ্যমে অনুপস্থিত, অন্যত্র চলে যাওয়া, মৃত কিংবা ডুপ্লিকেট ভোটার আলাদা করে বাদ দেয় ইসি। এরপরে খসড়া তালিকায় ভোটার সংখ্যাটা গিয়ে দাঁড়ায় ২৩,৭৭,৪১৯ জন। ফলে মোট ভোটারের প্রায় ২০ শতাংশকে শুনানিতে ডাকা হতে পারে। যদিও এ নিয়ে কোনও আধিকারিক মন্তব্য করতে চাননি।

  • Link to this news (এই সময়)