• রাজ্য পুলিশ, ED, CBI, মমতা, ঠিক কে কার বিরুদ্ধে আদালতে?
    আজ তক | ০৯ জানুয়ারি ২০২৬
  • বৃহস্পতিবার রাজ্যে ইডি-র তল্লাশি ঘিরে শোরগোল রাজনৈতিক মহলে। বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ঘটনায় লেগেছে রাজনীতির রঙও। বৃহস্পতিবার I-PAC-এর অফিসে ও প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছে ইডি। কিন্তু রাজ্য সরকার ও খোদ মুখ্যমন্ত্রীর তরফে এই তল্লাশি অভিযানে বাধা দানের অভিযোগ উঠেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ করেছে ইডি সূত্র। এরইমধ্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে CBI তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে CBI।

    ঘটনা কী ঘটেছিল?

    গতকাল রাজ্যে ED-র তল্লাশি অভিযানের সময় পুলিশের বিরুদ্ধেও তীব্র অসহযোগিতার অভিযোগ করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। এমনকী ইডি-র সূত্রে দাবি, তল্লাশি চলাকালীন সময়ে DGP-ও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। তিনি ইডি আধিকারিকদের হুমকিও দেন বলে অভিযোগ। সূত্রের তরফে দাবি করা হয়েছে, ঘটনাস্থলে এসে DGP ইডি-র তিন আধিকারিককে এসে হুমকি দিয়ে বলেন, পঞ্চনামায় যেন কোনও কিছুই না লেখা না হয়। এমনকী কোনও জিনিস উদ্ধার করা হয়েছে, তাও লেখা যাবে না বলে নির্দেশ দেয়।

    ইডির বক্তব্য অনুযায়ী, গোটা ঘটনায় তিনজন ইডি আধিকারিকের মুখোমুখি ছিলেন ডজনখানেক পুলিশকর্মী এবং মুখ্যমন্ত্রীর জেড ক্যাটাগরির নিরাপত্তারক্ষীরা। যদি ইডি আধিকারিকরা পঞ্চনামায় কিছু লেখেন, তবে তাঁদেরকে গ্রেপ্তারির হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। একইসঙ্গে, সাক্ষীদেরও কলকাতা পুলিশ ও মুখ্যমন্ত্রীর কর্মীরা হেনস্থা ও ভয় দেখিয়েছে বলে অভিযোগ।

    এরইমধ্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে CBI তদন্ত চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে ইডি। যদিও হাইকোর্ট এখনও সে বিষয়ে কিছুই নির্দেশ দেয়নি। তবে ঘটনার মোড় যেমন ঘুরছে তাতে বিশেষজ্ঞরা দেখছেন, আর্থিক তদন্তকারী সংস্থা ED-ই তদন্ত করতে এসে, বিপাকে পড়ে CBI তদন্তের আর্জি জানাচ্ছে। তাও আবার খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। আবার একইসঙ্গে অভিযোগ রয়েছে জিডিপি রাজীব কুমারের বিরুদ্ধেও। 

    কে কার বিরুদ্ধে আদালতে?

    কলকাতা হাইকোর্ট যদি CBI তদন্তের অনুমতি দেয়, সেক্ষেত্রে দুই পক্ষের মধ্যে যুযুধান আইনি লড়াই দেখা যেতে পারে।  কারণ, দুই পক্ষের বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। হাইকোর্টের দ্বারস্থ দুই পক্ষই। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও একাধিক পুলিশকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, কয়লা পাচার কাণ্ডের তদন্তে তল্লাশি চালানো ইডি-র কাছ থেকে সব নথি, হার্ডডিস্ক জোর করে কেড়ে নিয়েছেন মমতা ও পুলিশের কর্তারা। পাল্টা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, I-PAC তৃণমূলের পার্টি অফিসেরই অংশ। ইডি-কে কাজে লাগিয়ে তৃণমূলের বিধানসভা ভোট স্ট্র্যাটেজি লুঠ করতেই ED-কে পাঠিয়েছে বিজেপি। 

    শুক্রবার দুপুর আড়াইটায় ইডি-র দায়ের করার মামলার শুনানি হওয়ার কথা ছিল কলকাতা হাইকোর্টে। কিন্তু এদিন মামলার শুনানি পিছিয়ে দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। তবে জরুরি ভিত্তিতে শুনানির অনুরোধ করেছে ইডি। সেই আবেদনে শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টে পর্যন্ত কোনও প্রত্যুত্তর দেওয়া হয়নি। প্রধান বিচারপতি জানিয়েছেন, তিনি বিষয়টি বিবেচনা করছেন।

     
  • Link to this news (আজ তক)