'রাজীব কুমারকে বাঁচাতেও ধর্না মমতার,' মনে করালেন BJP-র কেন্দ্রীয় নেতা
আজ তক | ০৯ জানুয়ারি ২০২৬
ED-র তল্লাশি অভিযানের মাঝে উপস্থিত হয়ে ফাইল সরিয়ে আনার ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর তুলোধনা করলেন BJP-র কেন্দ্রীয় নেতা রবিশঙ্কর প্রসাদ। শুক্রবার একটি সাংবাদিক বৈঠকে তিনি রাজীব কুমারের বিরুদ্ধে সারদা মামলার তদন্তের সময়ে ওঠা অ্যাকশনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধর্নার কথা স্মরণ করালেন। একইসঙ্গে বললেন, 'মমতার পাপের ঘড়া পূর্ণ হয়ে গিয়েছে। কিছুদিনের মধ্যেই জনগণ এর যোগ্য জবাব দেবে।'
এদিন রবিশঙ্কর প্রসাদ বলেন, 'স্বাধীন ভারতে এমনটা কখনও হয়নি যা কাল বাংলায় হল। এক বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী প্রাইভেট সংস্থার অফিসে ঢুকে পড়লেন, যেখানে ED রেড চলছে, সেখানে ঢুকে পড়লেন এবং আধিকারিকদে হুমকি দিয়ে কাগজ ছিনিয়ে নিয়ে চলে এলেন।' কয়লা দুর্নীতি নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে ED। I-PAC সংস্থা এবং তার প্রধান প্রতীক জৈনের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে এবং সেই নিয়েই চলে এই তল্লাশি অভিযান। সেখানে কেন ঢুকে পড়লেন মুখ্যমন্ত্রী? কেন ED আধিকারিকদের সঙ্গে বচসা করলেন? সর্বোপরি কেন পুলিশ আধিকারিকরা তাঁর সঙ্গ দিলেন? প্রশ্ন তুললেন BJP-র কেন্দ্রীয় নেতা।
রবিবশঙ্কর প্রসাদ বলেন, 'ওঁর আচরণ অমর্যাপূর্ণ, অসাংবিধানিক, দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং লজ্জাজনক ছিল। গণতন্ত্রকে ভুলুণ্ঠিত করেছেন মমতা।' জমির বিনিমিয়ে চাকরি দেওয়ার মামলায় চার্জ গঠন হয়েছে বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী লালুপ্রসাদ যাদবের বিরুদ্ধে। এ কথার উল্লেখ করে রবিশঙ্কর বলেন, 'আজই দিল্লি হাইকোর্ট লালুজির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেছে। কিন্তু কখনও লালুজি বা রাবড়িজি CBI দফতরে রেড করার কথা ভাবেননি। তবে মমতাজি কামাল করে দিলেন। আপনি এত ঘাবড়াচ্ছেন কেন? ম্যাডাম, আপনার সঙ্গে ওই পরামর্শদাতা সংস্থার সঙ্গে আপনার কী লিঙ্ক। কয়লা দুর্নীতি মামলার তদন্ত নিয়ে আপনার এত সমস্যা কেন? অনেক কিছু রহস্যজনক ঠেকছে।'
১৪ বছরের মুখ্যমন্ত্রী, যিনি একটা সময়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীও ছিলেন, কেন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনা ধ্বংস করে ED তল্লাশির মাঝে কেন তিনি পৌঁছে গেলেন, প্রশ্ন রবিশঙ্করের। তিনি বলেন, 'তবে কি কোনও রহস্য রয়েছে ওই নির্দিষ্ট ফাইলে?'
এরপরই তিনি রাজীব কুমারের ঘটনা উত্থাপন করে বলেন, 'মমতাজি তো প্রথমবার এমনটা করলেন, তা নয়। সারদা দুর্নীতির তদন্তের সময়ে রাজীব কুমারকে CBI জিজ্ঞাসাবাদ করার কথা বলতেই তিনি ধর্নায় বসে পড়েছিলেন। সন্দেশখালিতে মূল অভিযুক্তকে বাঁচানোর জন্য কী-ই না করেছিলেন উনি।' তিনি আরও বলেন, 'মমতার ইতিহাস অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। মমতাজি কি কনট্র্যাক্ট নিয়েছেন নাকি? বাংলায় কোনও মামলায় CBI-ED তদন্ত করলে তা সুষ্ঠু ভাবে হতে দেবেন না উনি? প্রত্যেক ক্ষেত্রে ওঁর দুর্নীতির ফুটপ্রিন্ট রয়েছে। সন্দেশখালি, গরু চুরি, অনুব্রত মণ্ডলের মামলা, রেশন দুর্নীতি, বগটুইয়ের ঘটনা, হাঁসখালি ধর্ষণ মামলা, আলাপনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মামলা, নারদা দুর্নীতি, সবই তাঁর আমলে। তবে এদিনের ঘটনায় আমরা তাঁর তীব্র ভর্ৎসনা করছি। এটি আইনের চোখে একটি অপরাধ।'