• স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দপ্তরের বাইরে ধর্না-বিক্ষোভে দিল্লি পুলিশের হাতে আটক মহুয়া, ডেরেকরা, গর্জে উঠলেন অভিষেক
    বর্তমান | ০৯ জানুয়ারি ২০২৬
  • নয়াদিল্লি, ৯ জানুয়ারি: কলকাতায় আইপ্যাক ও তার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডির হানাকে কেন্দ্র করে গতকাল, বৃহস্পতিবার উত্তপ্ত ছিল রাজ্য রাজনীতি। এবার সেই উত্তাপের আঁচ পৌঁছোল দিল্লিতে। গতকালই, এই ইডি হানা নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রের শাসকদলের বিরুদ্ধে ক্ষোভপ্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমাকে ঘাঁটাবেন না। আঘাত করলে প্রত্যাঘাত করবই। আঘাত করবেন না তাহলে একটাও কথা বলব না। তোমাদের থেকে বড়ো ডাকাত আর কেউ নেই। কোটি কোটি টাকা লুট করেছ। আধার কার্ডের নামেও লুট করেছ। আর এখন বলছ আধার কার্ডের কোনও গুরুত্ব নেই। এখন বলা হচ্ছে সবার নাম কেটে দাও। বিয়ে হলেই মেয়েদের নাম কেটে দেওয়া হচ্ছে। কারণ ওদের পদবি পরিবর্তন হয়েছে। অমর্ত্য সেনকেও নোটিশ পাঠানো হয়েছে।’ পাশাপাশি গতকাল, বৃহস্পতিবারই দলের নেতৃত্বদের নির্দেশ দেন রাস্তায় নেমে তীব্র প্রতিবাদ জানাতে।আর আজ, শুক্রবার খোদ তৃণমূল নেত্রী নামছেন রাজপথে। সেইমতোই দলীয় নেতৃত্বের নির্দেশ মেনে এদিন সকালে দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দপ্তরের বাইরে ধর্না-বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন তৃণমূলর আট সাংসদ। ধর্নায় সামিল হয়েছিলেন ডেরেক ও’ব্রায়েন, মহুয়া মৈত্র, প্রতিমা মণ্ডল, শতাব্দী রায়, সাকেত গোখলে, বাপী হালদার, শর্মিলা সরকার ও কীর্তি আজাদ। কিছুক্ষণ ধর্না চলার পরই উত্তেজনা শুরু হয়। তৃণমূল সাংসদদের কার্যত চ্যাংদোলা করে তুলে নিয়ে যায় দিল্লি পুলিশ। টেনে হিঁচড়ে তোলা হয় প্রিজন ভ্যানে, এমনটাই অভিযোগ মহুয়া মৈত্রদের। সেখান থেকে তাঁদের পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় নিয়ে গিয়ে আটক করে দিল্লি পুলিশ। পরে ছেড়ে দেওয়া হয় তৃণমূল সাংসদদের। থানার বাইরে বেরিয়ে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময়ে ফের তাঁদের আটক করা হয় বলে অভিযোগ। আর দিল্লি পুলিশের এই অভিযানের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, ‘গণতন্ত্রকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। পুরস্কৃত করা হচ্ছে অপরাধীদের। প্রতিষ্ঠানগুলিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। কারচুপি করা হচ্ছে নির্বাচনে। যদি দেশের বাকি অংশকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা হয়, তা হলেও বাংলা প্রতিরোধ করবে। আমরা তোমাদের বিরুদ্ধে সর্বশক্তি দিয়ে লড়াই করব। যতই শক্তি প্রয়োগ করুন, আমরা আপনাদের হারাবই।’
  • Link to this news (বর্তমান)