জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: আইপ্যাক কাণ্ডে উত্তাল বঙ্গ রাজনীতি। কলকাতা যখন মিছিলে হাঁটলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তখন নদিয়ার তাহেরপুরের সভা থেকে সুর চড়ালেন অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ও। তিনি বলেন, 'আইপ্যাক বলে একটা সংস্থা আছে। তৃণমূলের হয়ে কাজ করছে। কেন SIR0-এ সাধারণ মানুষে হয়ে কাজ করছে? কেন করবে? তাই কাল আইপ্যাক অফিসে ইডি পাঠিয়েছে'। সঙ্গে হুঁশিয়ারি, 'তোমাদের সঙ্গে সব আছে। আমাদের সঙ্গে মানুষ আছে। ১০-০ করব'।
অভিষেক বলেন, 'আমাকে অনেকবার ইডি ডেকেছে। পরিবারের কাউকে ছাড়েনি। গলা কেটে নিলেও মাথা নীচু করব না। মেরুদণ্ড বিক্রি নেই। মাথা নীচু হবে না'। তাঁর বার্তা, 'সবাই একসঙ্গে থাকবেন। আমি অনুরোধ করব তৃণমূলকে ভোট দেবেন। যদি কথা রাখতে না পারি, তাহলে পরের ইলেকশনে ভোট দেবেন না। এই জেলায় ১৭-০ করতে হবে'।
এদিন সভামঞ্চের র্যাম্পে 'জ্যান্ত' ভূত হাঁটান অভিষেক। বলেন, 'মঞ্চে যারা আছে, আমরা সবাই দেখতে পাচ্ছি। কিন্তু গণেশ কুমার দেখতে পাচ্ছে না। গণেশ কুমার চুমন্তর দিয়ে ভ্যানিশ করে দিয়েছেন। এবার এমন শিক্ষা দিতে হবে যাতে আগামী পঞ্চাশ বছর বাংলার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে না পারে। ৬০-৭০ বছর এদেশে থাকার পর আমরা নাগরিক কিনা প্রমাণ দিতে হবে! ইডি, সিবিআই, কেন্দ্রীয় বাহিনী যত আছে লাগাও, বাংলার মানুষ মাথা নত করবে না'।
মতুয়াগড়ে অভিষেকের সাফ কথা, 'হয় নিঃশর্ত নাগরিকত্ব দাও, নয়তো মোদী-শাহ হঠাও। আমরা অবৈধ? মতুয়ারা অবৈধ? মোদী-অমিত শাহ অবৈধ। একবার খোঁজ নিয়েছিলেন বড়মার? একবার এসেছিলে ছবি তুলতে। এখানে উন্নয়ন বাংলা করেছেন বাংলার মেয়ে মমতা। যাঁদের ভোটে নির্বাচিত, বিজেপি সাংসদ আজ মতুয়াদের বলছে অবৈধ। শান্তনু ঠাকুর বলছে যদি এক লক্ষ মানুষ বাদ যায় যাবে! লজ্জা করে না এদের'!
এদিকে দিন কয়েক আগেই এই তাহেরপুরেই সভা করার কথা ছিল মোদীর। যদিও শেষ কুয়াশার কারণে শেষপর্যন্ত কলকাতা থেকে উড়তেই পারেনি হেলিকপ্টার। অভিষেক বলেন, আজ থেকে ১৫ দিনে আগে প্রধানমন্ত্রীর সভা করার কথা ছিল। বাইরে থেকে লোক এনে ভরাতে পারেনি। আমরা সেখানেই সভা করছি। শুধু রানাঘাট থেকে লোক এসেই মাঠ ভরে গিয়েছে। এই সভা জানান দিচ্ছে, নাগরিকত্ব দেওয়ার নামে প্রতারণা করা হয়েছিল। এদের শিক্ষা দেওয়ার নদিয়ার মানুষ প্রস্তুত। যারা বাংলা জানে, বাংলার সংস্কৃতি জানে না, তাদের শিক্ষা দেবে নদিয়ার মানুষ'।
তাহেরপুরের সভা শেষে ঠাকুরনগর মতুয়া ঠাকুরবাড়িতেও যান অভিষেক। প্রথমে ঠিক ছিল, আবহাওয়া ভাল থাকলে তাহেরপুরের সভাস্থল থেকেই হেলিকপ্টারে চলে যাবেন ঠাকুরনগরে। তারপর গাড়িতে ঠাকুরবাড়ি। কিন্তু পরে রুট বদলে যায়। ঠাকুরনগর থেকে বনগাঁ শহরের কিষান মান্ডির মাঠে অস্থায়ী হেলিপ্যাডে নামে অভিষেকে কপ্টার। এরপর দুপুর ২টো নাগাদ ঠাকুরবাড়িতে পৌঁছন অভিষেক।