পিয়ালি মিত্র: শীতের সকালে ভোটের গন্ধ গায়ে মেখে রাজনৈতিক অঙ্ক-কষা সংস্থা IPAC-এর অফিসে অকস্মাত্ ইডি হানায়, ইডি ও রাজ্যের নজিরবিহীন সংঘাত সারা দেশ প্রত্যক্ষ করেছে বৃহস্পতিবার ৮জানুয়ারি। আর রাজ্য-রাজনীতি ঠিক এরপর থেকেই তোলপাড়। I-PAC অফিসে তল্লাশি ঘিরে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) এবং রাজ্য সরকারের সংঘাতের আইনি লড়াইয়ে এবার নাটকীয় মোড়। আইপ্যাক শুনানি মুলতুবি। এজলাসে অসংখ্য আইনজীবী। জানা গিয়েছে, ভর্তি এজলাস। শুনানি শুরুতে সমস্যা। আদালতে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিরক্ত হয়ে এজলাসে ছাড়েন বিচারপতি। এই কারণে মামলা মুলতুবি। আগামী ১৪ জানুয়ারি শুনানি হবে বলে জানা গিয়েছে। শুনানির মত পরিস্থিতি নেই।
কী ঘটে আদালতে:
তৃণমূল দায়ের করা মামলা এবং ইডির দায়ের করা মামলা- জোড়া মামলার শুনানির কথা ছিল শুক্রবার দুপুর ২.৩০টে। কিন্তু এজলাস বসার আগেই দুপুর ২.০০টো থেকেই আদালতে ভিড় জমতে শুরু করে। রাজ্য সরকার ভার্সেস ইডির সংঘাতের আঁচে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে আদালতও। এজলাস শুরুর আগে থেকে আদালতে আইনজীবীরা ভিড় করতে শুরু করেন। মামলা শোনার জন্য জুনিয়র-সিনিয়র আইনজীবীরা ভিড় করেছিলেন আদালতে। এমনকী শুনানি শুনতে উপস্থিত ছিলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য থেকে শুরু করে তৃণমূলের লিগ্যাল সেলের আইনজীবীরা।
গতকাল ইডি পৌঁছানোর পর ঠিক কী ঘটে, আদালতে জানা গেল সেই রোমহর্ষক ঘটনার বর্ণনা:
কলকাতা পুলিস সূত্রের দাবি-
১. সকাল ৯ টা নাগাদ থানায় খবর পৌঁছয় যে ৭ নম্বর লাউডন স্ট্রিটে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও আটকে রাখার ঘটনা ঘটেছে
২. সেই খবর পেয়ে প্রথমে থানার একজন সার্জেন্ট পৌঁছন
৩. কিন্তু সেই সার্জেন্টকে কিছু জানানো হয়নি। তাঁকে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয়
৪. এরপর ৯টা ১৫ নাগাদ থানার অতিরিক্ত ওসি কয়েকজন অফিসারকে নিয়ে পৌঁছন
৫. পুলিসের দাবি, থানার কাছে তখনো রেইড সংক্রান্ত বিষয়ে কোনো খবর দেওয়া হয়নি
৬. অভিযোগ, অতিরিক্ত ওসি-সহ অফিসারদের হুমকি দেওয়া, লাঠি উঁচিয়ে সেখান থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন। আইডি দেখাতে অস্বীকার করে । উল্টে উর্দি পড়ে থাকা পুলিসের কাছে পরিচয় জানতে চায়
৭. অফিসারদের থেকে খবর পেয়ে ডিসি পৌঁছন
৮. অভিযোগ ডিসিকেও ধাক্কা দেওয়া হয়
৯. সকাল ১১ টা পর্যন্ত পুলিস উপরেই পৌঁছতে পারেনি
১০. উপরে পৌঁছলে কোনও ভাবে দায়সারা ভাবে একজন অফিসার আইডি দেখান
১১. এই ঘটনা নিয়ে পুলিস সকাল ১১.২০ মিনিটে স্বতপ্রণদিত হয়ে মামলা রুজু করে থানাতে
১২. পুলিসের দাবি, এত কিছুর পর সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ পুলিসকে ইমেল করে রেইডের বিষয়টি জানায়
১৩. এরপর সিপি এবং পরবর্তীতে মুখ্যমন্ত্রী আসেন
১৪. পুলিস সূত্রের দাবি, বহুক্ষেত্রেই ইডি সিবিআই পরিচয়ে দিয়ে লুঠের ঘটনা ঘটে।
১৫. সম্প্রতি শেক্সপিয়র সরণি থানাকে শুল্ক দপ্তরে অফিসার পরিচয় দেয় বাড়তে ঢুকে লুঠের ঘটনা ঘটে। ফলে এমন অভিযোগ পেয়েই পুলিস সেখানে পৌঁছয়
১৬. ইতিমধ্যেই তদন্ত কয়েকজনের বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে ওই বিল্ডিং কয়েকজনের প্রত্যক্ষদর্শীর
১৭. সিসিটিভি বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া চলছে
আদালতে এমন এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় যে, কোনও পক্ষই ঠিকমত সওয়াল শোনাই যাচ্ছিল না। আদালতের ভিতরে একাধিক ব্যক্তির আওয়াজের জন্য কারও কথাই স্পষ্টভাবে শোনা যাচ্ছিল না। বিচারপতি বিরক্ত হয়ে আদালতে ছাড়তে বাধ্য হন। পরবর্তী শুনানির জন্য় ১৪ জানুয়ারি তারিখ ধার্য করা হয়।
এরপরই ইডির তরফ থেকে মেইল পাঠানো হয়। আজই দ্রুত শুনানির আবেদন এবং বিচারপতি বদলের আবেদন নিয়ে প্রধান বিচারপতিকে ই-মেল পাঠায় ED।